মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০১৫

রাত্রি - আনলিমিটেড আরব্য উপন্যাস >< কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়


কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

ঘুমিয়ে গিয়েছে রাত
ঘুমের ভেতরে বৃষ্টিপাত
দরজায় মৃদু করাঘাত ।

নিদ্রার স্পেসে কোনও সময় নেই
যে অতীত, বর্তমান সে-ই
শুন্যে শূন্যতা ভাসে
বুঝি ইতিহাস চলে আসে
মিশর ব্যবিলন থেকে --

মায়াবী, নিয়ে যায় ডেকে
আনলিমিটেড আরব্য উপন্যাসে ।
        

মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০১৫

প্রেম পিয়াসী >< সুমা জায়গীরদার


সুমা জায়গীরদার
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
প্রেম পিয়াসী ঐ দীঘিতে
আমি সেদিন মধ্যরাতে...
দিয়েছিলাম ডুব;
হঠাৎ কে হ্যাঁচকা টানে...
নিলো আমায় অতল গহীনে;
ভয়ে আমি চুপসে গেলাম খুউব !

ভালোবাসার ঐ শুভ্র জলে
ডুবলে জানি সব হারাবে...
ছেড়ে দিলাম ডুব সাতারের লোভ;
তখন শুনি দিঘির জলে...
গহীন থেকে সে ডেকে বলে
কিরে,তুই প্রেম পিয়াসী খুউব !

রবিবার, ৭ জুন, ২০১৫

ফকির ইলিয়াস এর একগুছ সাম্প্রতিক কবিতা





ছিটমহলের মেয়ে 
---------------------
যে ঘাসলতাগুলো মীমাংসিত হয়ে গেছে, তুমি তার
ছায়ায় থাকো মেয়ে-
তুমি থাকো- তাক করা বিজিবি কিংবা বিএসএফ এর
রাইফেলের ছায়াবৃত্তে।
ওখানেই তোমাকে মানাবে ভালো। যে রোদ তোমাদের
ঢেউটিন বিহীন চালার ফাঁকে উঁকি দিয়ে উঠে-
মশারি বিহীন রাতের মশা উৎসব সেরে নিতে
যে বান্ধবীর সাথে কাটে তোমার সময়, সে ও
এসেছে ওপার থেকে। তুমি তার সাথেই আনন্দে থাকো।

মেয়ে,- তুমি ঢাকায় এসো না। এখানে এখন উর্দিপরা
দুপুর হামলে পড়ে নারীর এলোকেশের উপর !
আর যে বুট দেখলে শিশুরা খুঁজতো মাতৃকোল-
সেই একাত্তরের মতোই-
বুটের আওয়াজ এখন সেক্রেটারিয়েট ভবনের দেয়াল ভেদ করে।
আর আমাদের রাষ্ট্রশাসকেরা বলেন-
'ইট মারলে পাটকেল'টি খেতে হয়' !

সমুদ্রদাঙ্গা 
-------------
ক্ষুধার্ত হরিণ হত্যা করে খায় নিজ শাবকের মাংস,
রাক্ষুসি ঝড় উড়িয়ে নেয় দরিদ্র মানুষের চালা, এমন
ঘটনা আমাদের অজানা নয়। এমন কি ক্ষুধার্ত মানুষ
খাবারের জন্য দাঙ্গা বাধায় সমুদ্রে, তা ও আজকাল

সংবাদ শিরোনাম। মা হত্যা করেছেন নিজ সন্তান, স্বামী
অর্থের জন্য বিক্রি করে দিয়েছে স্ত্রী- আর পুত্রের হাতে
নাজেহাল হয়েছেন পিতা, এসব জানতে জানতেই
মাটি একদিন প্রশ্ন করবে মানুষকে-
আর কতটা অসভ্য হলে তোমরা পাল্টে ফেলবে
তোমাদের পরিচয়? আর কতটা হিংস্র হলে শূকর
লজ্জা পাবে তোমাদের কাছে?

-------------------
বৃক্ষশুমারি 
------------------
নগরের গাছগুলো গোণে দেখার জন্য কিছু স্বেচ্ছাসেবক
প্রয়োজন। বিজ্ঞাপন টা চোখে পড়ার পর বিস্তারিত
পড়তে থাকি। ইচ্ছে হয় গোণে দেখি গাছের পাতাগুলো ও।
অক্সিজেনের আলো চেয়ে বাঁচে যে জীবন- করে যাই
তার বাণীবন্দনা।
বিশ্বের এই প্রান্তে বৃক্ষের ও শুমারি হয়, আর অন্যপ্রান্তে
মানব সন্তানের ও হিসেব থাকে না, জন্মসনদহীন
শিশুর হাতে কুঠার তুলে দেয় হিংস্র জোতদার,
কাটা পড়ে গাছ, কাটা পড়ে রাতের জোনাকী,
আলো ছেড়ে অন্ধকার ভালোবাসে ওই প্রান্তবাসী,
তারা জানেও না- এই বিশ্বে বৃক্ষশুমারি ও মানুষকে
মাঝে মাঝে কাছে টেনে নেয়।

মাঝে মাঝে যেসব কথা জানতে চাই 
-------------------------------------------
জানতে চাইছি, গারো মেয়েটিকে যারা ধর্ষণ করেছে,
তাদের কেমন বিচার করছে রাষ্ট্র। ওয়াশিকুর বাবূকে-
হত্যা করে যারা ধরা পড়েছিল, তারা এখন কোথায়!
কোথায় অভিজিতের খুনিরা! পুলিশ কিছু পারছে,
বাকীটা পারছে না কেন!

জানতে চাইছি বিশ্বের ৫৯ নম্বর
ক্ষমতাবান নারী কেন খুনীদের, ধর্ষকদের
কাছে নতজানু হয়ে শাসন করছেন স্বদেশ।
কেন, শিশুরা মায়ের কোলকেও
নিরাপদ ভাবতে পারছে না!

দুপুর ও দীনতা 
---------------------
পাতাগুলো ফুটে আছে, ফুটবে ফুলও
ভালোবাসায় তুমি মোচন করে দেবে আমার ভুলও
অথচ আমি সারাজীবন সাধনা করেছি ভুল সমুদ্রের গান-
তবে কি ঢেঊগুলো ছিল, আমার চেয়ে আরও পাষাণ!

তবে কি এই ভবের ইন্দ্রজালে
মেঘ প্রেমিকা হয়ে সূর্যকে, ঢেকেছিল আরাধ্য সকালে
আর তুমি ছিলে তার সহযাত্রী - সখি
আমিতো তোমার ছায়া ভেবেই, জড়াতে চেয়েছি দুপুরের পাখি।

দীনতার মিছেঘোরে, পারিনি অনেক কিছুই ভবে
তবু বলি- পাতা ও পুষ্পের মায়া একান্ত আমারই র'বে।

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০১৫

পাথর কুড়োতে গিয়ে ><পল্লব সেন গুপ্ত


পল্লব সেন গুপ্ত
========================================================================
(বন্ধু প্রদ্যুত আর জাফলং কে মনে রেখে)
পাথর কুড়োতে গিয়ে পাহাড় কিনেছি
সেই পাহাড়ে বুনে দিয়ে এসেছি স্বপ্নের বীজ
পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝর্ণাটা কানে কানে বলে দিয়ে গেল কিছু কথা
কিছু নুড়ি ছড়িয়ে দিল প্রশ্নবোধক চিহ্নের মত
লাফিয়ে নামা জল অবিরাম বলে যাচ্ছে
তার স্বপ্নের কথা সাহসের কথা
কষ্ট যন্ত্রণার কথা
একাকীত্বের কথা, মেঘের সাথে বন্ধুতার কথা।
কিভাবে বৃষ্টির হাত ধরে
ঘর ছেড়ে অজানায় পা রেখেছিল নদী
সেইসব কথা দুর্বোধ্য নয়
কথাগুলো সহজ সরল আছড়ে পরে দুই শ
ফুট গভীরে
এখান থেকে অখ্যাত এক নদী পায়ে হেঁটে রওনা দেয় সমতলে
মানুষের কাছে তার কদরের কথা এখন সবাই জানে।
নুড়ি কুড়োতে এসেই
সে জলে একদিন মনুষেরা পেয়ে যায় পাহাড়ের খোঁজ,
নদী পথ দেখিয়ে ডেকে আনে মানুষ
বন্ধুতা বাড়ে পাহাড়ে নদীতে
মানুষের বন্ধুতা মানে সাক্ষাত ভয়ংকরের সাথে দেখা।
একদিন পাহাড় দেখে তার নদী গেছে
সবুজ বৃক্ষেরা গেছে
এখন পাঁজরে হাতুড়ির ক্রমাগত ঘা এসে লাগে
দূরে শোনা যায় পাথর ভাঙার শব্দ
রাতে পাহাড়ের বুক চিরে ট্রাক নামে দস্যুর মত ছিনিয়ে নেয় তার হাড়-গোর করোটি কঙ্কাল
আর নেড়া পাহাড়টা দাঁড়িয়ে থাকে
বুকে তার কেঁদে উঠে যন্ত্রণার ক্ষত অনন্ত কষ্টের ঝর্ণা।

UA-53225896-1