মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০১৫

রাত্রি - আনলিমিটেড আরব্য উপন্যাস >< কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়


কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

ঘুমিয়ে গিয়েছে রাত
ঘুমের ভেতরে বৃষ্টিপাত
দরজায় মৃদু করাঘাত ।

নিদ্রার স্পেসে কোনও সময় নেই
যে অতীত, বর্তমান সে-ই
শুন্যে শূন্যতা ভাসে
বুঝি ইতিহাস চলে আসে
মিশর ব্যবিলন থেকে --

মায়াবী, নিয়ে যায় ডেকে
আনলিমিটেড আরব্য উপন্যাসে ।
        

মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০১৫

প্রেম পিয়াসী >< সুমা জায়গীরদার


সুমা জায়গীরদার
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
প্রেম পিয়াসী ঐ দীঘিতে
আমি সেদিন মধ্যরাতে...
দিয়েছিলাম ডুব;
হঠাৎ কে হ্যাঁচকা টানে...
নিলো আমায় অতল গহীনে;
ভয়ে আমি চুপসে গেলাম খুউব !

ভালোবাসার ঐ শুভ্র জলে
ডুবলে জানি সব হারাবে...
ছেড়ে দিলাম ডুব সাতারের লোভ;
তখন শুনি দিঘির জলে...
গহীন থেকে সে ডেকে বলে
কিরে,তুই প্রেম পিয়াসী খুউব !

রবিবার, ৭ জুন, ২০১৫

ফকির ইলিয়াস এর একগুছ সাম্প্রতিক কবিতা





ছিটমহলের মেয়ে 
---------------------
যে ঘাসলতাগুলো মীমাংসিত হয়ে গেছে, তুমি তার
ছায়ায় থাকো মেয়ে-
তুমি থাকো- তাক করা বিজিবি কিংবা বিএসএফ এর
রাইফেলের ছায়াবৃত্তে।
ওখানেই তোমাকে মানাবে ভালো। যে রোদ তোমাদের
ঢেউটিন বিহীন চালার ফাঁকে উঁকি দিয়ে উঠে-
মশারি বিহীন রাতের মশা উৎসব সেরে নিতে
যে বান্ধবীর সাথে কাটে তোমার সময়, সে ও
এসেছে ওপার থেকে। তুমি তার সাথেই আনন্দে থাকো।

মেয়ে,- তুমি ঢাকায় এসো না। এখানে এখন উর্দিপরা
দুপুর হামলে পড়ে নারীর এলোকেশের উপর !
আর যে বুট দেখলে শিশুরা খুঁজতো মাতৃকোল-
সেই একাত্তরের মতোই-
বুটের আওয়াজ এখন সেক্রেটারিয়েট ভবনের দেয়াল ভেদ করে।
আর আমাদের রাষ্ট্রশাসকেরা বলেন-
'ইট মারলে পাটকেল'টি খেতে হয়' !

সমুদ্রদাঙ্গা 
-------------
ক্ষুধার্ত হরিণ হত্যা করে খায় নিজ শাবকের মাংস,
রাক্ষুসি ঝড় উড়িয়ে নেয় দরিদ্র মানুষের চালা, এমন
ঘটনা আমাদের অজানা নয়। এমন কি ক্ষুধার্ত মানুষ
খাবারের জন্য দাঙ্গা বাধায় সমুদ্রে, তা ও আজকাল

সংবাদ শিরোনাম। মা হত্যা করেছেন নিজ সন্তান, স্বামী
অর্থের জন্য বিক্রি করে দিয়েছে স্ত্রী- আর পুত্রের হাতে
নাজেহাল হয়েছেন পিতা, এসব জানতে জানতেই
মাটি একদিন প্রশ্ন করবে মানুষকে-
আর কতটা অসভ্য হলে তোমরা পাল্টে ফেলবে
তোমাদের পরিচয়? আর কতটা হিংস্র হলে শূকর
লজ্জা পাবে তোমাদের কাছে?

-------------------
বৃক্ষশুমারি 
------------------
নগরের গাছগুলো গোণে দেখার জন্য কিছু স্বেচ্ছাসেবক
প্রয়োজন। বিজ্ঞাপন টা চোখে পড়ার পর বিস্তারিত
পড়তে থাকি। ইচ্ছে হয় গোণে দেখি গাছের পাতাগুলো ও।
অক্সিজেনের আলো চেয়ে বাঁচে যে জীবন- করে যাই
তার বাণীবন্দনা।
বিশ্বের এই প্রান্তে বৃক্ষের ও শুমারি হয়, আর অন্যপ্রান্তে
মানব সন্তানের ও হিসেব থাকে না, জন্মসনদহীন
শিশুর হাতে কুঠার তুলে দেয় হিংস্র জোতদার,
কাটা পড়ে গাছ, কাটা পড়ে রাতের জোনাকী,
আলো ছেড়ে অন্ধকার ভালোবাসে ওই প্রান্তবাসী,
তারা জানেও না- এই বিশ্বে বৃক্ষশুমারি ও মানুষকে
মাঝে মাঝে কাছে টেনে নেয়।

মাঝে মাঝে যেসব কথা জানতে চাই 
-------------------------------------------
জানতে চাইছি, গারো মেয়েটিকে যারা ধর্ষণ করেছে,
তাদের কেমন বিচার করছে রাষ্ট্র। ওয়াশিকুর বাবূকে-
হত্যা করে যারা ধরা পড়েছিল, তারা এখন কোথায়!
কোথায় অভিজিতের খুনিরা! পুলিশ কিছু পারছে,
বাকীটা পারছে না কেন!

জানতে চাইছি বিশ্বের ৫৯ নম্বর
ক্ষমতাবান নারী কেন খুনীদের, ধর্ষকদের
কাছে নতজানু হয়ে শাসন করছেন স্বদেশ।
কেন, শিশুরা মায়ের কোলকেও
নিরাপদ ভাবতে পারছে না!

দুপুর ও দীনতা 
---------------------
পাতাগুলো ফুটে আছে, ফুটবে ফুলও
ভালোবাসায় তুমি মোচন করে দেবে আমার ভুলও
অথচ আমি সারাজীবন সাধনা করেছি ভুল সমুদ্রের গান-
তবে কি ঢেঊগুলো ছিল, আমার চেয়ে আরও পাষাণ!

তবে কি এই ভবের ইন্দ্রজালে
মেঘ প্রেমিকা হয়ে সূর্যকে, ঢেকেছিল আরাধ্য সকালে
আর তুমি ছিলে তার সহযাত্রী - সখি
আমিতো তোমার ছায়া ভেবেই, জড়াতে চেয়েছি দুপুরের পাখি।

দীনতার মিছেঘোরে, পারিনি অনেক কিছুই ভবে
তবু বলি- পাতা ও পুষ্পের মায়া একান্ত আমারই র'বে।

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০১৫

পাথর কুড়োতে গিয়ে ><পল্লব সেন গুপ্ত


পল্লব সেন গুপ্ত
========================================================================
(বন্ধু প্রদ্যুত আর জাফলং কে মনে রেখে)
পাথর কুড়োতে গিয়ে পাহাড় কিনেছি
সেই পাহাড়ে বুনে দিয়ে এসেছি স্বপ্নের বীজ
পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝর্ণাটা কানে কানে বলে দিয়ে গেল কিছু কথা
কিছু নুড়ি ছড়িয়ে দিল প্রশ্নবোধক চিহ্নের মত
লাফিয়ে নামা জল অবিরাম বলে যাচ্ছে
তার স্বপ্নের কথা সাহসের কথা
কষ্ট যন্ত্রণার কথা
একাকীত্বের কথা, মেঘের সাথে বন্ধুতার কথা।
কিভাবে বৃষ্টির হাত ধরে
ঘর ছেড়ে অজানায় পা রেখেছিল নদী
সেইসব কথা দুর্বোধ্য নয়
কথাগুলো সহজ সরল আছড়ে পরে দুই শ
ফুট গভীরে
এখান থেকে অখ্যাত এক নদী পায়ে হেঁটে রওনা দেয় সমতলে
মানুষের কাছে তার কদরের কথা এখন সবাই জানে।
নুড়ি কুড়োতে এসেই
সে জলে একদিন মনুষেরা পেয়ে যায় পাহাড়ের খোঁজ,
নদী পথ দেখিয়ে ডেকে আনে মানুষ
বন্ধুতা বাড়ে পাহাড়ে নদীতে
মানুষের বন্ধুতা মানে সাক্ষাত ভয়ংকরের সাথে দেখা।
একদিন পাহাড় দেখে তার নদী গেছে
সবুজ বৃক্ষেরা গেছে
এখন পাঁজরে হাতুড়ির ক্রমাগত ঘা এসে লাগে
দূরে শোনা যায় পাথর ভাঙার শব্দ
রাতে পাহাড়ের বুক চিরে ট্রাক নামে দস্যুর মত ছিনিয়ে নেয় তার হাড়-গোর করোটি কঙ্কাল
আর নেড়া পাহাড়টা দাঁড়িয়ে থাকে
বুকে তার কেঁদে উঠে যন্ত্রণার ক্ষত অনন্ত কষ্টের ঝর্ণা।

রবিবার, ২৪ মে, ২০১৫

সাড়ে তিন হাত পৃথিবী >< হানিফ মোহাম্মদ



হানিফ মোহাম্মদ
=======================================================================
সাড়ে তিন হাত ঘর,
ছোট্ট একটা জমি
সাড়ে তিন হাত ঘর,
ঘরের ভেতর তুমি।
অনাবাদী মন মিছে
কানামাছি খেলে একা
অনাদরে পরে আছে
কিছুই যাবে না রাখা।
আমার পৃথিবী আজ
ঝলমলে শুকতারা
হয়তোবা কাল ছিল
ব্লাকহোল আলো হারা।
পৃথিবীর মাঝে কাবা,
গয়া,কাশী,বৃন্দাবন
স্বর্গ-নরক সব,
আরশ, কুরসি, কোরান।
এখানে পতিতা পাড়া,
সাকী ও শরাব-সুধা
আবার এখানে বাস
অনাদি অসীম খোদা।
আমার পৃথিবী জুড়ে
মসজিদ মন্দিরে
অবিরাম চলে পূজা
সপ্তাঞ্জলি ঘিরে।
কখনো পূজারী আমি
গেয়ে চলি কির্তন
কখনো আরশ গড়ে
সাজি প্রভু-মহাজন।
পৃথিবীর মালিকানা
মিস কেস আছে ঝুলে
অজানা রায়ের নথি
যতিহীন পথে দোলে।

শনিবার, ২৩ মে, ২০১৫

হে গুরু স্মরণে স্মরেছি তোমায় >< দীপঙ্কর বিশ্বাস


দীপঙ্কর বিশ্বাস
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
জ্ঞানের অনন্ত-দুস্কর-দুর্গম পথ
আমি পাড়ি দিতে চাই
তোমার নামের অধীনে নিয়ে ঠাঁই
তোমারি দানে জ্ঞানের মানে করেছি শপথ।

হে গুরু তুমি বিশ্ব-বিচিত্র, পরম-পবিত্র তোমারই জ্ঞানের গুণে
আজ আলোড়িত হয়ে আলোকিত তব
কাব্য-গীতি-গদ্য প্রীতির স্বগুণে ভুলে এ ভূবনে।।

আজ আনন্দ স্মরে স্মরিছি তোমায় জাগো গো
তুমি এ ভক্তের সুপ্ত মরমে
তব জন্ম জয়ন্তী ডাকিছে সু-শান্তি ছেড়ে ভ্রান্তি আজই এ বিশ্ব বাসি শরমে।

যত জ্ঞানের বিদারী দর্শিয়ে তুমি করো মোর বিদ্যার দিশারী
হতে না পারি তুমি তবু নতুন করে আমি হতে চাই তোমার জ্ঞানের শিকারী।।



সোমবার, ৪ মে, ২০১৫

প্রশ্ন-উত্তর >< সুমা জায়গীরদার


সুমা জায়গীরদার
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
দৈবাৎ যদি দেখা হয়
শুধাও আমায় আছি কেমন ?
উত্তরেতে বলবো শুধুই,
রেখেছো যেমন,আছি তেমন।

আবার যদি বলো তুমি
বলছো একি !এমন কেনো ?
উত্তরেতে বলবো শুধুই,
এমন তোমার হয়না যেনো।

শুক্রবার, ১ মে, ২০১৫

মুক্তি যোদ্ধা >< নাঈম আজিজ



নাঈম আজিজ
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি মুক্তি যোদ্ধাদের কথা বলছি
শুন ওহে বাংলার বাঙালী,
তাদের কথা কি পড়ে না মনে
যারা রক্ত দিয়েছিল,এই জমিনে।
যারা যোদ্ধ করে জীবন রেখেছিল বাজি
তারা মরন যোদ্ধে হয়ছিল জয়ী,
তবে কেন?তারা আজ হেরে যাবে জীবন যোদ্ধে
আমাদের কি কিছুই করার নাই তাদের তরে।
কেনো মুক্তি যোদ্ধারা স্থান বস্ত্রের অভাবে
ভিক্ষার ঝুলি হাতে নিয়ে ঘুরছে মাঠে ঘাঠে,
তাদের জীবন কি পুরাবে দুঃখ আর কষ্টে
তারা স্বাধীনতার সুফল কি পাবে ভবে।
যারা যোদ্ধে না গিয়ে করেছিল হাজার অপরাধ
তারা আজ স্বাধীন দেশে পেয়েছে শান শওকাত,
আর যারা মুক্তি যোদ্ধা বীর সৈনিক
তাদের স্থান হলো বস্তির ঐ ক্ষুদ্র নীড়।
যদি মুক্তি যোদ্ধারা হয় জীবন যোদ্ধে পরাজয়
আমরা পেয়েছি আর কিশের বিজয,
স্বাধীনতার নেই কোনো দাম
যদি করতে না পারি মুক্তি যোদ্ধাদের সম্মান।
যারা একাত্তরে অস্ত্র নিয়ে বলেছিল জয় বাংলা
আর নয় তাদের অবহেলা,
তাদের পাশে থাকব আমরা
যতদিন থাকবে সোনার স্বাধীন বাংলা।।




সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৫

তোমার মেঘ বিসর্জন >< সালু আলমগীর


সালু আলমগীর
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যখন এই মন ভালবাসা হারিয়ে
ক্ষত-বিক্ষত হবে
হারিয়ে ফেলবে তার রং রুপ
আর ঔজ্বল্য।
যেন মাঝ রাস্তায় পড়ে থাকা
দুরন্ত বেগে ছুটে চলা
নিষ্ঠুর চাকায় পিষ্ট
কোন অভুক্ত শ্রমিকের বিভৎস লাশ।
সেদিন তোমার আকাশ
মেঘ বিসর্জন করে
মেতে উঠবে সোনালী, উষ্ঞ রৌদ্রস্নানে।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৫

চিঠি ><কামরুন নাহার রুনু


কামরুন নাহার রুনু
---------------------------------------------------------------------------------------------
একদিন ক্ষুধা শিরোনামে চিঠি পৌঁছে যাবে
প্রতিটা রাস্তায় শহুরে দেয়ালে, টি এস,সির বৈকালিক আড্ডায়, চারুকলায় তুলির আঁচড়ে, প্রতিটা শিক্ষাঙ্গনে।
চিঠি বিলি হবে।
চিঠির ঠিকানা, যা পাওয়া যাবে
রাস্তার অলিগলিতে, গ্রামের গেরোয়া পথে, মানুষের মিছিলে মিশে থাকা ইট ভাংগারত ১৩ বছরের শিশুর না খাওয়া শুকনো মুখে।
ঠিকানা পাওয়া যাবে পাতা কুড়ানি মেয়েটির চোখে।
পাওয়া যাবে রোদের ঝাপটায় কাতরানো পানি বিক্রি করারত ছেলেটির বুকে।
চিঠি পোঁছানো হবে প্রতিটা মনের প্রান্তে
যেখানে খুব মানবিক সবুজ গাঙ আছে
যেখানে হলুদিয়া পাখির আবাসভূমি।
যেখানে মানুষের ভেতরে একজন শিশুর বসবাস যেখানে মসজিদ, মন্দির, গির্জার মত পবিত্রতা বহমান।
একদিন সেখানেই চিঠি বিলি করা হবে।
হবে সারাদেশময় শিশুদের কান্না আর ক্ষুদার অবসান। ওরা হবে চঞ্চল হাসিমুখ সবুজ ভরসা।
যেখানে আজলা ভরা বিশুদ্ধ হাসিতে
থেমে যাবে প্রবল ক্ষয়।


বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৫

বঙ্গবন্ধু ক্ষমা কর আমাদের >< আবু ইশতিয়াক


আবু ইশতিয়াক
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
’৭১ এর ৭ মার্চ,
রেসকোর্সে লক্ষ জনতার ঢেউ, টান টান উত্তেজনা,
উৎসুক উদ্বেলিত মানুষ মহানায়কের অপেক্ষায়,
তাঁর দিক নের্দেশনার বড় প্রয়োজন আজ।
মঞ্চে উঠে এলেন দৃঢ় পদক্ষেপে বঙ্গবন্ধু,
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ শব্দগুলো আমাদের হলোঃ
এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম
স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা।
মহুর্মূহু শ্লোগানে প্রকম্পিত রেসকোর্স।
বঙ্গবন্ধু বলেছেন যার যা আছে তাই নিযে প্রস্তুত থাকো।
প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল যেন,
শক্ত হয়ে গেছে প্রতিটি মানুষের চোয়াল,
বাহুগুলোতে অদ্ভুত দৃ্ঢ়তা!
২৫ মার্চ ৭১ এর মধ্য রাত, ইতিহাস বিবস্ত্র হলো,
চেঙ্গিস, তৈমুরের প্রেতাত্মারা নিঃশব্দে ক্রোলিং করে,
হঠাৎই কামান, ট্যাংক, মেশিনগান গোঙাতে থাকে অবিরাম!
অন্যপক্ষ ঘুমন্ত, নিরস্ত্র।
যেন চীরনিদ্রার চাদরে ঢেকে দেবে—
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইন... সব।
সারাদেশে অসংখ্য নিরীহ বাঙ্গালীর লাশ!
বাঁশি মুখে ইয়াহিয়া নিখাদ নিরো।
২৬ মার্চের প্রথম প্রহর, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা
ওয়্যারলেস বেয়ে পৌঁছে গেল সারা দেশে—
বন্দি হলেন বঙ্গবন্ধু, নিক্ষিপ্ত হলেন সাত সমুদ্দ পারে
পাকিস্থান কারাগারে।মুক্তিযুদ্ধ ঠিকানা খুঁজে ফিরে,
মুজিব নগরে মুজিব এলো যেন,
ভূমিষ্ট হলো বাংলাদেশ সরকার— মুক্তিযুদ্ধের পালে হাওয়া।

        

মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৫

পতাকার বৃত্তাকার শকুনের ধাড়াল নখর >< জয়ন্ত সরকার


জয়ন্ত সরকার
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি চুপচাপ বসে আছি সেই পচাত্তর থেকে,
কি বলে জনতা বাংলার মানুষ হতভাগ্য ভোটার?
যাদের উদাত্ত কন্ঠের বক্তৃতায় স্কুল ছেড়েছিলাম
মায়েয় আঁচল, ছেড়েছিলাম আমার ভিটেমাটি প্রিয়জনের মুখ
তারা গীটারের ছেড়া তারের মত বেসুরে কথা কয়।
অনেকে থেমে গেছে ঘরকুনো বেকারের মত,
আমিও তাদের মত শোনার শ্রোতা।
চুলার উনুনে ছেকা রুটির গন্ধ ,
ফিরিয়ে দিয়েছি যৌবন
একচাপ অন্ধকারে ক্ষোভ জমা রেখেছি আমার পোড়া ভিটায়,
সংসার দিয়েছি বির্ষজন ভালবাসার সুগন্ধায়,
কিছুটা বাড়াবাড়ি বকুলের ছায়ায় একটা ছোট্ট প্রতিশ্রুতির জন্য,
প্রতিশ্রুতি অনেক রাখা হয়নি
যেমন জয়বাংলা, একাত্তরের সংবিধান সমঅধিকার আরো আরো অনেক কিছু
তবুও কেন জানিনা এটুকু অঙ্গীকারে যৌবন বির্ষজন দিলাম!
পৌরুষে নিদির্ধায় জ্বালিয়ে দিলাম আগর বাতি।
আমি দেখতে থাকি ,আমার মত যারা আজও
মিনমিনে আলো নিয়ে বেঁচে আছি,
আদৌ কি যুদ্ধ হয়েছিল ?
চন্দ্রহীন রাতে কাঁদামাটি গায়ে সে কোন সময় ?
অচেনা লাশের মত ভাগারে চুপসে থাকি কর্পূর সুগন্ধি বক্তব্য শোনার পর,
রাতের বিষণ্ণ স্রোতে নেয়ে উঠি পাঁচশো সত্তর সাবানের ফেনায় ।
বিষাক্ত সময় আর একাত্তরের কালো ছায়া দুভাগ করেছে দেশ ,
পতাকার বৃত্তাকার শকুনের ধাড়াল নখর।

বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০১৫

এই ফাল্গুনে >< এ কে শেরাম



এ কে শেরাম
________________________________________________________________________
এই ফাল্গুনে,
নিসর্গের সবুজ আঙিনায়
রক্তিম পলাশ-শিমুল নয়,
হিংস্রতা রক্তের আঁখরে আঁকে বারুদের আল্পনা।
এই ফাল্গুনে,
হৃদয়ে-ইথারে, কবিতার চারুবাকে
বর্ণমালার মিহি কারুকাজ নয়,
অভিধানে যুক্ত হয় নতুন শব্দ 'পেট্রোল বোমা'।
এই ফাল্গুনে
সুরে-ছন্দে, মেলায়-খেলায়,
বাসন্তী রঙের বিপুল আন্দোলনে আলোকিত কোনো প্রহর নয়,
বাংলার শ্যাম-শরীরে বরং ছায়া মেলে দেয় এক ঘন অন্ধকার।
এই ফাল্গুনে বসন্ত নেই।
সব রঙ আজ মিশে একাকার বিপন্ন রক্তের ধারায়।
সমস্ত আবেগ-অনুভূতি ঢাকা পড়ে যায়
সন্ত্রাসের হিম কুয়াশায়।
তবু, এই ফাল্গুন এখনও হৃদয়কে আন্দোলিত করে
চেতনার নিমীলিত চোখকে পুনঃউন্মীলিত করে।
কারণ, এমনই এক ফাল্গুনে,
আমি আমার মাকে প্রথম মা বলে ডেকেছিলাম,
আমি প্রথম কথা বলেছিলাম আমার মায়ের ভাষায়;
এমনি এক ফাল্গুনেই,
আমার মায়ের ভাষার জন্যে আমরা জেগে উঠেছিলাম,
আর আমার মায়ের সে ভাষা পেয়েছিলো তার প্রাপ্য সম্মান।

আজ কি তবে >< সুমা জায়গীরদার


সুমা জায়গীরদার
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আজ কি তবে বৃষ্টি হবে
আমার এই হৃদ জমিনে ?
হঠাৎ সুখের পরশ পেয়ে...
সিক্ত হবে চারণ ভূমি;
বুকের ভেতর সকাল সাঝেঁ !

আজ কি তবে সবুজ পাতা
শাখাতে তার উঠবে দোলে ?
হৃদ গহীনে স্বপ্নরা সব
জড়ো হয়ে দেবে হানা...
ঝরা পাতার বাধঁন গুলো
এক-এক করে,যাবে খুলে !

আজ কি তবে মধ্যে রাতে
মিলনেরই বাজবে বাশিঁ ?
তোমার দু'টো আল্‌তো হাতের
স্পর্শ কাতর নেবে টেনে...
সুঠাম তোমার বক্ষ মাঝে ?
পাগলপারা গভীর চুমে;
বলবে,তোমায় ভালোবাসি !

আজ কি তবে আধাঁর আলোয়
রাঙা হবো আল্‌তো ছোঁয়ায় ?
কাটবে বিলি তোমার কেশে...
আমার কোমল হস্ত খানি ?
সুখ-আবেশে বুঁজে আখি;
মদির গলায় বলবে হেসে...
সর্বনাশী,করছো একী !

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৫

পুলিন রায় >< তোমার বজ্রকণ্ঠ


পুলিন রায়
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
তোমার বজ্রকণ্ঠ
(বঙ্গবন্ধুর ৯৬তম জন্মদিন নিবেদনে)
এই মার্চে-
আকাশের রঙ আরো উজ্জ্বলতর হয়
ইতিহাসের রক্তাভ রঙে
এইখানে এই ব-দ্বীপে একদিন
গর্জে উঠেছিলো তোমার বজ্রকণ্ঠ-
'এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম'
আঁচড়ে পড়ে উত্তাল ঢেউয়ে
ছড়িয়ে যায় যোজন যোজন দূরে
প্রশান্ত মহসাগরের বিক্ষুব্দ উর্মিমালায়...
অযুত -নিযুত প্রাণে স্পন্দনের ঝর্ণা বয়
মধ্যগগনে রৌদ্রতপ্ত পীচঢালা পথে
ছড়িয়ে পড়ে আগুন...
বাঙালির রক্তে ফুটে টগবগে যৌবন
তোমার বজ্রকণ্ঠ ছড়ায় ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলে
বাঙালি পায় নিজস্ব ঠিকানা
আর লাল সবুজের পতপত শব্দে
বিস্মিত হয় বিশ্ব...

শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০১৫

অস্থায়ী কোলাজ -১ >< চন্দন কৃষ্ণ পাল


চন্দন কৃষ্ণপাল
________________________________________________________________________________
অস্থায়ী কোলাজ  -১
দহন বুকের গহনে
শিখা অনির্বাণ যেনো  -
অথচ শীতলতা বিষন্ন হলো
আঙুলের শুদ্ধতার মতো ।

কতো কিছু হয়ে যায় অজান্তেই, মুহুর্তেই  -
অগ্নুৎপাত ঘটে যেতে পারে কোন নিরীহ স্থাপত্যে ।

ভুল ভাবনার স্রোতে শরীর ভাসানোর দিন
আজ হলো প্রমানিত শ্লোক,
আবৃত্তিক মোহ নেই আর
নিরব পাঠের উৎসব হোক
তারপর ................. ।

অস্থায়ী কোলাজ - ২
শূন্যতায় তৈরী মহল
এভাবেই ভেঙে পড়ে জেনেও
মাপ-জোক, অংকনের আয়োজনে
পূর্ন করো বসন্তের দিন,
সংগ্রহের ব্যস্ততায় ঐ চাঁদমুখে মাখো
মলিনতার তীব্র মায়াজাল ।

কে আর ছিন্ন করে,
কার এত বাহুতে আগুন ?

স্বপ্নময় জ্যোস্নায় অবগাহন হলো
ঢেউময় সৈকতে কত পদছাপ
উত্তুঙ্গ পাহাড়ে কতো ফেলে আসা দিন ।

শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০১৫

কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর দু'টি কবিতা



তার ভুলে যাওয়া এমন একদিন হঠাৎ 
------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
তার জন্মদিনে আমাকে ডাকবে বলেছিলো সে
এই কথা তাকে কি করে মনে করাবো ?
অনুপস্থিত কাউকে উদ্দেশ্য করে
কবিতা বা কিছু লেখা আমার পছন্দ নয় ।
শুধু আজও আমি ডিসকাউন্ট‌ কুপন খুঁজি ...
আর কথা বলার সময় আমার কপালে ভাঁজ পড়েনা আজকাল তেমন
তাই, আমার আগুনহীন দৃষ্টি আরও নিস্প্রভ লাগে নিশ্চয়ই
এরই মধ্যে এমন একদিন হঠাৎ ,
আমার নিজেরই পুরনো কবিতার মধ্যে দেখি
সে বসে আছে
যার আমাকে জন্মদিনে ডাকার কথা ছিলো ।।






শেষ প্রহরিণী
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমাকে যেন চায় এই রাত্রিগুলি
তাদেরও দাবী আছে এই সত্তার ওপর
শেষ প্রহরিনী যেন বলে
"সারাদিন এতজনকে দিলে এত কিছু
যেতে যদি চাও সকালের দিকে
যাবার আগে আমাকেও কিছু দাও"
তাই বুঝি রাত রাত
জেগে শুয়ে , বসে থাকা , উঠে পড়া
মোবাইলে নীল এল সি ডি - যেন স্পেস শিপ
..................বারোটা কুড়ি
কবিতার পাঁচ ছয় লাইন রাস্তা হাঁটলো কিছুক্ষণ
তারপর একটা চল্লিশ --
সে আমাকে গান শোনায় - - -
--- শব্দহীন রেডিওয় মেহেদি হাসান
কতযুগ হয়ে গেছে প্রেম গেছে চলে
বিরহের দুঃখ ও পায় না আজকাল ব্যর্থ প্রেমিক
এই গান সঙ্গী হলো , তারও পর
আমি কোথায় ?
আড়াইটে -- কেউ নেই , আমি একা
শুধু উষ্ণ রাত্রির রাস্তা আর ফ্রিজের ঠাণ্ডা জল
কখন যেন দাঁড়িয়ে পড়ে শেষ প্রহরিণী
........................আমি হারিয়ে যাই ।।


শামসুল আলম সেলিম এর দু'টি কবিতা


তোমার সুখের জন্য
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
কষ্ট চেঁপে রাখি-দুরে দুরে থাকি,
একদিন ফাগুন বাতাস
একদিন চৈত্রের দহন ।
ভর মৌসুমে হাতভর্তি শুন্যতা নিয়ে দাঁড়াই,আমি একা,
তার পর মেঘেদের আনাগোনা-
ঝড়ো বৈশাখ ভাঙ্গে লালিত স্বপ্নগুলো
সামনে পেছনে কেউ নেই,শুধুই শুন্যতা,
বৈশাখ আবার কারও কারও উদোম জমিনে
তুলে দেয় অঢেল পলি...
নির্জনে দাঁড়াই,সব দেখি-
তুমি ভালো থাকবে বলে
প্রার্থনার হাত উপরে উঠাই
জীবনের হালখাতায় লিখে রাখি
স্মৃতিশ্রুতিতুল্য কোন এক দেনার হিসেব ।
বসন্তের সব রং শাসনহীন সম্পর্কের কাছে গচ্ছিত রেখে
নির্ভার হতে চাই ।
তুমি সুখে থাকবে বলে
তুমি ভালো থাকবে বলে
কষ্ট চেঁপে রাখি-দুরে দুরে থাকি ।






দ্বিধাহীন দূরত্ব
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
একটু আড়াল চাও,কতোটা আড়াল ?
কিছু সুখ চাই তোমার ?-কতোটা ?
তোমার বিরহ যেভাবে আমাকে স্পর্শ করে-
ঠিক সে রকম ?
বুকের গভীরে,যেখানে তোমার নাম লিখে রাখা-
একান্ত গোপন-ঠিক সে রকম ?
নাকি অন্য কোন ভাবে ?
তুমি’তো সবই জানো
আমার কাছে আড়াল মানে বুকের গহিন
আমার কাছে আড়াল মানে অসীম দিগন্ত
আমি কি এর’চে বেশি কিছু দিতে পারি ?
স্পষ্ট করে বলো কী চাই তোমার ?
শুধুই আড়াল না কি অন্য কিছু ?
যদি ভালো না লাগে-যদি ভালো না বাসো
তবে যাও, দিলাম তোমায় দ্বিধাহীন দূরত্ব ...

রবিবার, ৮ মার্চ, ২০১৫

উত্তরণ >< শশাঙ্ক শেখর পাল



উত্তরণ
--------------------------------------------------------------------------------------------------------
যাবার জন্য সাজাচ্ছি গুড়ি কাঠের ভেলা
জাবেদায় যোগবিয়োগ
টুকরো ভালোবাসার সুখ-দুখ
তুই এলি উজান বিছিয়ে আলোর জাহাজ
সামুদ্রিক উচ্ছাস
ভেসে গেল বালুকাবেলা
নিরাবরণ শঙ্খে ছোঁয়ালাম ঠোঁট
আবিশ্ব নিরাকৃতি প্রেম ছড়িয়ে যাচ্ছে উচ্চারিত অবয়বে ...

ফকির ইলিয়াস এর দুটি কবিতা



ভুল নিয়ে ভুলকথা
_______________________________________________________________________

ভুল বানানে লেখা তোমার কবিতা কিংবা ভুল
বানানে লেখা চিঠি- পড়া হয় না আমার।
ভুল করে যে চাঁদ ঢুকে পড়েছিল আমার বাগানে,
তাকেও আমি ফিরে যেতে বলেছি। ভুল সংস্করণে
প্রকাশিত অভিধান, ভাসিয়েছি যমুনায়, কিছু স্মৃতির
সাথে মিশিয়ে দিয়ে কিছু পুরনো অভিমান।

আমি সকল ভুলকথা'কেই আমার প্রেমের উপসংহার
জেনে, করেছি ভুলকাব্য পাঠ।ভুল উচ্চারণে,
যা লিখেছি তার মর্মার্থ এই - জগতে মহত্তম মানুষেরা
দীর্ঘ জীবন পায় না।
ভ্রান্তিবাদী'রাই শাসন করে দখলকৃত রাজপাঠ!




সম্প্রচারিত মনোচ্ছ্বাস
_________________________________________________________________________

আমি ক্রমশঃই রেখে যাচ্ছি উদগত উত্তরের ছায়া
এ ছায়া আমার নয় , এই ভোর - এই ভ্রূণের বল্কল
রেখে যাচ্ছি সব কিছুই । আর কবিতা হরণ করছে
আমার সময় । চেয়ে দেখছি
একটি চাঁদ ক্রমশঃ কালো হয়ে ভেঙে পড়ছে
আমার মাথার উপর , টুকরো অগ্নিগিরি
গেঁথে দিচ্ছে পালক , পৃথিবীর প্রথম ভূমিতে ।

নিচ্ছি না কিছুই। ভুল - ভালোবাসা- বৈশ্যতা
যাচ্ছে না কিছুই সাথে আমার।

ওরা থেকে যাচ্ছে অন্য কোনো চাঁদোয়ার নীচে
যেভাবে বর আর বধূ বেশে দু'টি প্রাণ
থাকে অভিষেকের অপেক্ষায় ...............

ভালবাসি বলে >< হালিম নজরুল


হালিম নজরুল
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি বাঁশপাতা ভালবাসি বলে
বিবর্ন হয় রংধনু রং পাতাবাহার ফুল।
আমি নুড়ী ভালবাসি বলে
বুকে বাসা বাঁধে হিমালয় পাথর?
আমি স্বপ্নের মাঝে হাটি
শুনীল শুভ্র বৈকালিক হ্রদের ধারে ।
আমি জল ভালবাসি বলে
সলীল সমাধী হবে আগুনের জলে !
রংধনু ভালবাসি জেনে
ক্রোধে ফেসে ওঠে দানবীয় রোদ
আকাশ থেকে খসে পড়ে ছাই
মেঘেদের শব।
আমি ভালবাসা ভালবাসি বলে
ঘৃণার অন্তরালে চলে অন্তদহন
আমি ক্ষমা ভালবাসি বলে
পায়ে পায়ে ধম্মঘটে আসে
দ্রোহের দল।
দ্রোহে বিদ্রোহে আমি কেবল
নরক ভালবাসি
ফুল ভালবাসি,ভুল ভালবাসি
ভুল করে বোধহয় নদী ভালবাসি।
আমি কুড়েঘর ভালবাসি বলে
অভিমানে মুখ ফিরায় শতরূপা ঘর
বিলাসী বন্দর ,
অতপর শান্তনা
কুড়েঘরেইতো সংখ্যাগরিস্টতা।

শনিবার, ৭ মার্চ, ২০১৫

তোমার বিবৃতি >< আহমেদ ছহুল


আহমেদ ছহুল
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
তবে কি তুমি, বসন্তকেই বলো যৌবন
তারুণ্য দেখলেই চিৎকার করে
বলো শক্তি।
আতুরের হা হুতাশ দেখলেই বলো বেদনা
কান্না দেখলেই বুঝে নেও দুঃখের
সূক্ষ্মতম প্রকাশ।
তোমার বিবৃতি বারবার কাছে টানে
প্রাণের কাছাকাছি পৌঁছে দেয়
কিছু না কিছু বার্তা ।
মনে আছে তোমার মুকুলের কথা
মুকুল বিশ্বাস, প্রিয় বন্ধু আমার
ফোন ধরেই কুশলাদি জেনে
ছোট করে বলে, রাখ বোকা
ফোনে কথা বলে কী
মনের সব ভাব নিংড়ে প্রকাশ করা যায়
সব কথাই কি বলে দেয়া যায় ?
মুকুল মাঝে মধ্যে চিঠি লিখে
পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা
স্বদেশ এবং স্বজাতির নানান কথা।
গোপলার বাসস্ট্যান্ড, মরমী সাধক শানুরের মেলা
রাস- উৎসব, দোলপূর্ণিমা , নষ্টালজিয়া ,রোমান্স
বাদ পড়ে না কিছুই ।
আজো তাঁরই লেখা '' সোনালী কাবিনের '' মতো চিঠি
ভালোবাসা ,আবেগ , একটু খানি ঘাটতি নেই
লিখেছে আমার প্রিয় স্বদেশে কত বীভৎস ভাবে
পেট্রল বোমা দিয়ে জীবন্ত মানুষ কে জ্বালিয়ে
ছাই করা হয় ।
তরতাজা মানুষ কেমন করে দিন-দুপুরে
রাস্তা থেকে গুম হয়ে যায়।
বিনা বিচারে কি করে মানুষ হত্যা করা হয় ।
কেবল স্বার্থের জন্য একটি জাতিকে প্রতিদিন
প্রকাশ্যে টেনে হিঁচড়ে বিভক্ত করে দেয়া হয় ।
লিখেছে - -
প্রিয় বন্ধু লিখতে যেয়ে বারবার ভিজে যাচ্ছে চোখ
বার্ন ইউনিটের চিৎকার,আমার রাতগুলোকে
করেছে ঘুমহীন ,বুকের ভিতরে চলছে তোলপাড়।
প্রিয়বন্ধু আমরা কি এমন কোন দেশ চেয়ে ছিলাম
যেখানে ভাই শত্রু হয়ে যাবে
ছেলে হারানোর ব্যথায়
মায়ের চোখে লেগে থাকবে অশ্রু
স্বাধীন এ বাংলায়।

আমার কথা >< ভাস্কর জ্যোতি বেরা


ভাস্কর জ্যোতি বেরা  
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
ভোর হয়ে এল
যাই, জানালাটা খুলে দিই
পুণ্য কিরণের সবটা না হোক
প্রতিভাসটুকু আসবেই
সেটুকু এলেই অনেক
ছোট্ট আমার ঘর
চাওয়ার কারণে যদি ফিরে যায়
বাতাসের নির্ঝর
বিষাদ আমায় ছোঁবে
বলবে – পাগল, ওরে
যা আসে সহজে নিতে হয় তাকে
নাহলে লুকায় দূরে
উদয়ভানুকে স্বাগত জানিয়ে
জীবনে বিনত থাকি
যাই হোক যেন তোমার আশিসে
জেগে থাকে শুকপাখি।

ক্ষমা >< শ্রীস্বপন চক্রবর্ত্তী



শ্রী স্বপন চক্রবর্ত্তী
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
তোমরা কতভাবে চেয়েছ
আমাদের স্বকীয়তাকে দিতে মাড়িয়ে
কতবার তোমরা আমাদের স্বপ্ন দলেছ পায়ে
চাপিয়ে দিতে চেয়েছ তোমাদের ভ্রান্ত ইচ্ছে সকল

তোমরা কতবার নিয়েছ
ছিনিয়ে আমাদের অর্জিত সম্পদ সহায়
কত কতবার তোমরা পাশবিক উন্মত্ততায়
ভেঙেছ, গুড়িয়েছ আমাদের প্রাণের বিশ্বাস, বুকের বল

তোমরা হার মানিয়েছ
হিংস্র পশুর স্বভাবকেও, তোমাদের অন্ধচোখ
বুঝে না মানুষের মন, ভালবাসা কি অন্তরের শোক
তোমাদের কাছে মূল্য পায় না মানুষের দুঃখ, চোখের জল

তোমরা নিজেরাই হেরেছ
মনুষ্যত্বের কাছে, বন্দী করেছো সুন্দরকে
কুৎসিত ভাবনায় করেছো নষ্টনিথর সপ্রাণ আত্মাকে
তোমাদের জীবনে সৎ ও সত্য নেই, সবটুকুই নিছক নিষ্ঠুর ছল

তোমরা চিরকাল করেছো চুরমার আমাদের আশা স্বপ্নপথ
আমরা তোমাদের ক্ষমাই করেছি সেই আমাদের বিজয়-রথ ।।

আনন্দিত ক্ষণকাল প্রজাপতি উড়ে যাওয়ার মত >< জয়ন্ত সরকার


জয়ন্ত সরকার
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
এমনি ফুলের রঙ্গে রাঙ্গানো হাওয়া
বাতাসে ফুলের রেনু,
পতঙ্গের পায়ে পায়ে ফলের জন্ম।
সুখ সুখ বাতাসে নীরবতার গাঢ় নিঃশ্বাস,
মন পথ হারায় নিষিদ্ধ ইচ্ছার গলি পথে
যেন দেখা হবে আমের মুকুলের ঘ্রানে,
নির্জণ দুপুরে।
মৃদু ভূমিকম্পের মত
বুকের ভিতর অজানা দৃস্টি কাঁপ
স্বপ্ন বুনি গাছের আঁড়ালে, ঘাসের সবুজে
কাঁধঘেষা আনন্দ শিহরণ ,
গরম নিঃশ্বাস লেগে পরিত্যক্ত লেপের ছোঁয়ায়
আলসে বসন্ত বিকেল,
আনন্দিত ক্ষণকাল ,
প্রজাপতি উড়ে যাওয়ার মত।

এখন আমি অন্যরকম >< মোসলেহ্ উদ্দিন বাবুল


মোসলেহ্ উদ্দিন বাবুল
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
এখন আমার বুকের মাঝে
আগলে রাখা কষ্টগুলো
ভীষণ রকম সুখেই আছে,
এখন আমি নিজের মতো
হাসতে পারি,
গাইতে পারি, হাঁটতে পারি
কান্না এলে নির্বিবাদে কাঁদতে পারি
বুকের কাছে জড়িয়ে রাখা স্বপ্নগুলো
ইচ্ছেমতো খুলতে পারি
গুটিয়ে নিয়ে রাখতে পারি
মাটির ঘরের দেয়াল ঘেঁষে
আঁধার কোনে ।
এখন আমি অন্যরকম
এখন আমার দরকারই নেই
শংকা-ভয়ের,
এখন আমি সুখেই আছি ,
কষ্টগুলো জড়িয়ে রেখে
ভালোবাসার নীল চাদরে
ভীষণ রকম সুখেই আছি ।

কষ্ট-স্বপ্ন-ঋণ >< সালু আলমগীর


সালু আলমগীর
-----------------------------------------------------------------------------------------------------
কোলাহল গিলে শাব্দিক ভুক
স্বপ্ন মাড়ায় রাত্রি শেষে
ব্যস্ত জীবন সকালের ঘ্রাণ
শুঁকে নেয় রোজ অচিন বেশে।
রোদচশমায় চাপা পড়ে থাকে
ভালোবাসাহীন স্বাপ্নিক চোখ
মেকি জীবনের দেয়ালে দেয়ালে
ঝুলে থাকে যত টিকটিকি-সুখ।
খুব কাছাকাছি থেকেও সবাই
যোজন যোজন দূর
একই রঙের আকাশের নিচে,
তবু কেন বাজে সমান্তরাল সুর।
নয়টা পাঁচটা অফিসজীবনে
সময়ের স্রোতে শুধু শুধু বয়ে চলা
স্বার্থের ঘামে ভিজিয়ে নিজেকে
কোন জীবনের নিরস গল্প বলা।
কোথায় হারালো সেই শৈশব
সবুজমাখানো দিন
দিন দিন শুধু বেড়েই চলেছে
কষ্ট-স্বপ্ন-ঋণ।

তোমার মেঘ বিসর্জন >< শাওন শান্ত


শাওন শান্ত
-----------------------------------------------------------------------------------------------------
যখন এই মন ভালবাসা হারিয়ে
ক্ষত বিক্ষত হবে
হারিয়ে ফেলবে তার রং রুপ
আর ঔজ্বল্য।
যেনো মাঝ রাস্তায় পড়ে থাকা
দুরন্ত বেগে ছুটে চলা
নিষ্টুর চাকায় পিষ্ট
কোন অভুক্ত শ্রমিকের বিভৎস লাশ।
সেদিন তোমার আকাশ
মেঘ বিসর্জন করে
মেতে উঠবে সোনালী উষ্ঞ রৌদ্রস্নানে।

শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

জেনারেল ওসমানী >< অজিত রায় ভজন


অজিত রায় ভজন
---------------------------------------------------------------------------------------------------
লক্ষ কোটি বীর বাঙ্গালীর
শ্রেষ্ঠ তুমি বীর,
তুমি ছিলে তাই বলেতো
উচ্চ হলো শির।
এগিয়ে গেলো বাংলা আমার
তোমার দেওয়া পথে,
পাক হানাদার হটিয়ে দিয়ে
উঠলো বিজয় রথে।
বাংলা হলো স্বাধীন ভুমি
ধন্য তুমি জানি,
হাজার সালাম নিও তুমি
জেনারেল ওসমানী।

স্বাধীনতা >< মিশুক সেলিম


মিশুক সেলিম
----------------------------------------------------------------------------------------------------------
ভোর হতে না হতেই অসংখ্য মানুষের মিছিল,
দুঃখীনীর অশ্রুবিন্দু যেন ভোরের শিশির ।
রাস্তার ধারে অর্ধনগ্ন মা,
দূর হতে ভেষে আসা স্লোগান-
স্বাধীনতা এনেছি, স্বাধীনতা রাখবো ।
ও-দিকে এক দুর্দান্ত মুক্তিযোদ্ধা
তার যৌবনের সোনালী দিনগুলি খুয়ে,
সংসার আর বেকারত্বের বোঝা মাথায় নিয়ে,
বিড়বিড় করে বলছে এর জন্য যুদ্ধ করিনি ।
আমার বুকের গভীরের যন্ত্রনাগুলি
সহসা মুক্তি পেয়ে ছড়িয়ে পড়বে পৃথিবীর সমস্ত শহরময়।
তবেই আমার সুখ, তবেই আমার শান্তি।

একটা কিছু ঘটুক >< মেজু আহমেদ খান



মেজু আহমেদ খান
--------------------------------------------------------------------------------------------------
কান্না শোক আর হাহাকারে
ঘুম মানুষের হারাম,
তোমরা বলো শান্তিতে দেশ-
করছে মানুষ আরাম!
বোমাবাজ'রা সৎ মেধাবী
প্রত্যয়ন দাও নি-জে,
এর চে আজব সত্য বলো
আর এই দেশে কী যে!!
নিরোর বাঁশি তোমরা বাজাও
মানুষ মরে পোড়ে,
দেশটা কি ভাই শুধুই তোদের
রাষ্ট্র চালাও জোরে!!!
একটা কিছু ঘটুক নতুন
একটা কিছু ঘটুক,
মানুষ মারার ফন্দি সকল
চিরতরে হঠুক।

শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

শুধু কথা রাখনি তুমি >< মোঃমুক্তার হোসেন


মোঃমুক্তার হোসেন
--------------------------------------------------------------------------------------------------
চাঁদের সাথে কথা হয়েছে!
বলেছে সে-
সূর্যঋণ আজ রাতে অকাতরে বিলোবে না।
শুক্লপক্ষে নামাবে সে কৃষ্ণপক্ষের বিষাদ!
জ্যোৎস্নারা তাই আজ যেন
পোকায় খাওয়া কটকটে হলদেটে পাতা।
অতঃপর বিষাদ ছুঁয়েছে আমায়,
আমি ছুঁয়েছি তাকে।
চাঁদও রাখল কথা,
শুধু কথা রাখনি তুমি।
যদিও আজ চোখে ঘুম নেই,
তবুও
যদি ঘুমিয়ে পড়ি!
স্বপ্নকে বলেছি -
বিভৎসতায় স্বপ্নালোক ঢেকে দিতে।
তারপর হঠাৎই
ঝিমুনিতে,পা ফস্কে অতলে তলাতে থাকি,
দুলুনি ওঠে-ঠোটে অস্ফুট গোঙানি,
ঝাঁকুনি দিয়ে তবেই চোখ খুলি।
স্বপ্নেরাও কথা রেখেছে,
শুধু কথা রাখনি তুমি।
রাত করে পাড়ি দেওয়া পরিযায়ী পাখিদের বলেছি-
সঙীহারা পাখির মত একলা উড়ে যেতে,
কবরখানার একাকীত্বের মত তারাও একলা উড়ে কথা রেখেছে।
শুধু কথা রাখনি তুমি।
তাদের সুখসঙী এখন আর আমি নই।
বরং কষ্টসঙী ই বেশি।
আমার জন্য তাই তাদের আজ বিশেষ ছাড়।
ভরা যৌবনেও আজ তাঁরা ঝিমুবে!
তারা একাত্বতা জানালো যে আজ এ পাথর মনের।
অবশ্য কথা নিয়েছি ফিরে যাবে তারা স্বরূপে।
তারা তো শুধু একদিনের সঙী হয়েছিল!
সবাই ফিরে যাবে শুধু আমি রয়ে যাব যেখানে ছিলাম।
শুরুতেই আজ তারা তাদের অপুর্ব সব রূপ দেখিয়ে মনটা ভাল করতে চেয়েছিল।
আমি না করেছি,
আর বলেছি-
বিসন্নতার সাগরে ডুব সাঁতার ভুলা এখন এক ডুবুরি আমি।।

রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

ফকির ইলিয়াস এর তিনটি কবিতা





ফকির ইলিয়াস এর তিনটি কবিতা



চোখগুলো যখন আর আমার সাথে থাকে না

ফড়িঙের পাখাবদলদৃশ্য দেখার সময় হয়ে উঠে না আমার। চলে যায় বসন্ত,
বাসন্তী রঙের আভা রেখে বিদায় নেয় চৈত্র। খরার কথা মনে রেখে সাজিয়ে
রেখেছিলাম যে ছাতা,সে-ও ছায়া প্রদান থেকে বিরত থাকবে বলে ডাকে
ধর্মঘট। আর নগরে যারা ধার্মিক ছিল- তারা আমার পাপের বোঝা দেখে
ঘৃণায় ফিরিয়ে নেয় মুখ। পাপীদের প্রকৃত কোনো পথ থাকে না। তাই অন্ধ
হরিণের মতো উঁকি দিতে গিয়ে দেখি, চোখগুলো আমার সাথে নেই। ভাবি,
এই চোখ দুটি কী আমার ছিল কোনোকালে ! যদি আমারই হতো- তাহলে
এতো সত্য আমি কেন দেখতে পেলাম না!কেন আঁকতে পারলাম না কালিক
প্রস্থানপ্রবাহ রেখা।
#


পরলোকগত দৃশ‌্যের দোসর
আমি কখনও রোদের দিকে তাকাবার সাহস দেখাতে পারিনি। বরং রোদই
আমাকে শিখিয়েছিল কামলীলা। ইষ্টরিভারের গমণদৃশ্য, আর ডুবে যাওয়া
বিকেলের ভস্ম চিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল অচেনা রমণীর কাছে। যে রমণী তার
কনিষ্ঠা দেখিয়ে বলেছিল- এখানেও একটা পাথর ছিল, এখন নেই। তুমি কি
সেই পাথরটি খুঁজে দিতে পারো-পরপুরুষ!
আমি সেদিন থেকেই নিজেকে পরাধীন ভাবি।ভাবি,পরলোকগত দৃশ‌্যের দোসর।
ঢেউয়ের সমান্তরালে যে বিরহপালক উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম, ওরা ফিরে
এসেছিল আমার কাছে। আর বিনয়ের সাথে বলেছিল- আরও কিছুদিন থাকি
তোমার পাশে কবি! তুমি না বিরহকামী হতে চেয়েছিলে !
#


যে কলম দূরে রেখে দিয়েছিলাম

এক বসায় আমি অনেকগুলো চিতা দেখি। চিতাবাঘ,শবদেহের জন্য তৈরি চিতা,
দেখতে দেখতে আমি যে বাগান পার হই- দেখি সেখানেও ঝুলে আছে ক'টি
চৈত্রের আগুন। দেখা পেলে আবার জড়িয়ে ধরবে বলে প্রতিজ্ঞা করেছিল যে
বৈশাখি ঝড়-শুনি তার আগমন ধ্বনিও। কে ডাকে ! কে পুনরায় জানতে
চায় আমার নাম ! এমন ভালোবাসার বিকিরণ দেখে আরও কিছুদিন বেঁচে
থাকতে ইচ্ছে জাগে। লিখতে ইচ্ছে হয় নির্মলা বসু'র পত্রের উত্তর। যে কলম
দূরে রেখে দিয়েছিলাম অভিমান করে, আমিই চাই ওর মান ভাঙাতে। দেখি,
আমাকে কেউ অনুসরণ করছে ! কেউ !এটা কি তবে প্রিয় ঈশ্বরের তাকিয়ে
থাকা বৈষম্যপ্রধান চোখ !

#

শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

দুই পাহাড়ের চিপা >< ইমন শরীফ


ইমন শরীফ
------------------------------------------------------------------------------------------------------
দুই পাহাড়ের-
চিপায় পড়ে আছি,
বল্‌না মোরা-
কেমন করে বাঁচি।

নিত্য কাঁদি-
চোখের জলে ভাসি,
নেয়্না খবর-
কেউ আমাদের আসি।

বসত করি-
লাল সাগরের তীরে,
রক্ত খেকো-
চিল শকুনের ভিড়ে।

নষ্ট >< মিলু কাশেম


মিলু কাশেম
--------------------------------------------------------------------------------------------
ক্ষমতার জন্য
হয়ে যায় বন্য।
লোভে হয় হন্য
জনগন পণ্য।
রাজনীতি নষ্ট
মানুষের কষ্ট।
ইন্দ্রিয় ষষ্ট
হলো পথভ্রষ্ট।
দেশ পড়ে ফান্দে
জনগন কান্দে।


মেঘ বালিকা -৭ >< প্রদ্যোত রায়


প্রদ্যোত রায়  
--------------------------------------------------------------------------------------------------

ভুল গুলো সব ফুল হয়ে আজ উঠল ফুঁটে,
ভুল করেইতো ভুল মেয়েটি-
ভুল বেদীতেই মাথা কুটে।
আমি তাকেই খুঁজেছিলাম,
আমায় সে ও-
সকাল গেল গড়িয়ে দুপুর
শেষ বিকেলেও-
আমরা দুজন
পাইনি খুঁজে-
কেউ কাহারেও।
মেঘবালিকা সাঁঝের বেলায় পেলাম যদি-
আগুন স্রোতের বানের জলে ভাসাও নদী।


সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

পরকীয়া প্রেম ><সুমা জায়গীরদার


সুমা জায়গীরদার
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
প্রেমতো জানি,প্রেম-ই বটে
তার আবার ধরণ কি ?
প্রেমের প্রকার কতো রকম;
সে উত্তরে বলবো কি ?

জীবন যাত্রা,কথায়-কাজে
চাল।ডাল।নুনে আছে রকম ভেদ;
সেই সুত্রে কি প্রেমের মাঝেও
করতে হবে ধরণ ভেদ ?

প্রেমে এখন তিনটি ধরণ
আসল,নকল,বিনাশ ক্রিয়া;
তারপরো সরস যে প্রেম
সেটি হলো পরকীয়া।

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

যাকে হত্যা করি >< শাহ ইয়াছিন বাহাদুর



শাহ ইয়াছিন বাহাদুর
------------------------------------------------------------------------------------------------
যাকে হত্যা করি
তার সংশয়ে ঠুকি মাথা
গাইতির তেরছা ঘায়ে তুলে আনি হাড়গোড়

একে একে মিলিয়ে দেখি পাজল
শিয়ালের জিভচাটা খুলী, হাঁটুর জয়েন্ট আর অস্থিটা
নড়ে ওঠে
মৃত্তিকার ভর বুকে পেতে অবিরাম
বিশৃঙ্খল শুয়ে আছি
কী সাঙ্ঘাতিক, এতকাল পাইনি টের!

অথচ শামুক ছোঁয় না মৃত পরিজন
বাতাসের বিপরীতে গন্ধ শুঁকে শুঁকে হাঁটা দেয়
এছাড়া শকুন, শতবর্ষের গল্প ঠোঁটে
দুর্ভিক্ষের কালে অজস্র লাশ পড়বার মুহূর্তে
সাধের শস্যভূমি মাড়িয়ে আমার গুপ্ত সুরঙ্গে
                                                  ঢুকে পড়ে

এসো ঢেউ
দুর্বৃত্তের কামড়ে ঝলসে দেয়া ঠোঁট ধুয়ে দাও
এসো হাওয়া
কাঁচা ঘর নির্মাণে আমি আর কুড়াই না ঘাস
এসো নক্ষত্র
সারা রাত উপবাসী লাশের সাথে কথা কও
এসো ভোর
নিরুদ্দেশের ঠিকানাটা পুনরায় চেখে দেখি

অগণিত মুখোশের দরজা খেয়ে যাক তাবৎ সন্যাস।






এখন আঁধারের নিশব্দ বিচরণ >< আবদুল্লাহ আনসারী



আবদুল্লাহ আনসারী
____________________________________________________________
একদিন হঠাৎ বইখুলে ভাজ করা কাপড়ের মতো
শুকনো গোলাপের পাপড়িতে নিজের নাম দেখে
চমকে উঠেছিলাম, ড্রয়ারে না পড়া খাম গুলো থেকে
বের করে দেখি কলমের ছোয়াঁ হীন তোমার চিঠি যতো
অবাক হলাম
ব্যাকুল হলাম
পিড়িত হলাম
প্রতিদিন একটি চিঠির শপথ তুমি রেখেছো ঠিক
আমিই কেবল ছুটেছি হন্যে হয়ে দিগ্বিদিক।
তোমার এই সব সরল স্বীকারোক্তি
আমি বৃষ্টির সাথে শুনেছি যখন
অবিরাম বর্ষণে নরম স্যাঁতসেঁতে মাটির দেহ।
মন আর চোখকে শাসণ করে পরাজিত হয়ে
পুকুরটাকে নদী ভেবে ভয় পেয়েছিলাম।
হায়- যখন এলে তখন রোদ ছিল না-
দিগন্ত পেরিয়ে গেছে সবটুকু আলো
এখন আঁধারের অনিঃশেষ নিঃশব্দ বিচরণ
কেউ কি আছে ঘাটে? ঘরে ফেরা পাতি জোড়ার
ডানা থেকে ছড়ানো নোনা জলের গন্ধ ছাড়া!
দেখো আমার জানালাটা বিষন্ন হয়ে আছে
একদিন তুমি আসতে আর আকাশের
পরত ভেঙ্গে আসতো জোৎসনা, হাস্নাহেনাটা
এখনো সুবাস ছড়ায়, মাধবী লতা তেমনি হয়ে আছে
জোনাকির অভয়ারণ্য, তারার সাথে সখ্যতা গড়ে
এগিয়ে চলে শুভ্র মেঘের পাল, চাঁদের আলোটায়
কেবল নিদারুন নিঃসঙ্গতায় জানালা গলে পড়ে।

স্বপ্নবীজ >< পুলিন রায়



স্বপ্নবীজ
---------------------------------------------------------------------------------------------------------
আকাশ থেকে বৃষ্টি নামে
রবীন্দ্র সংগীতের সুরে
এইখানে স্বপ্নবীজ বোনা হয়েছে
কালের ঝণার্ধারায় নেমে আসা স্বপ্নবীজ
হাতের তালুতে আগুন নিয়ে
হেঁটে গেলে ইতিহাসের পরতে পরতে
দেখা মিলে শহিদের রক্তাভ চাহনী।
অনন্ত ভালোবাসায় যে হাত মেখে নিয়েছিলো
হলুদে রঙ
সে হাত হয়ে যাবে থুথ্থুরে?
যে চোখে সাগর সমান তৃঞ্চা
সেখানেই নোঙ্গর ফেলেছে নবীন কিশোর
বজ্রমুষ্টিতে চিত্রল রেখা
ভাতের সানকিতে ক্ষুধার মানচিত্র,
অযুত নিযুত চোখের দৃষ্টিপাত
এইখানে বোনা স্বপ্নবীজের
তরুতে জল দেবেই নবীন কিশোরের দল...

বিশুদ্ধ সংলাপ >< হানিফ মোহাম্মদ



হানিফ মোহাম্মদ
---------------------------------------------------------------------------------------------------
বিশুদ্ধতার সেই মহাপ্রলয় আর কতদূর?
এখনো কি সূর্য উঠে?
গাঙচিল ডানা মেলে সুনীল আকাশে?
এখনো কি জোছনায় ভেজে পূর্ণিমার রাত?
তোমার হাতে মাথা রেখে
ভুলে থাকা বালিশের রাতগুলি
কী নিদারুন শুষ্কতায় উবে গেছে
জেগে আছে পত্রহীন মেহগনির পাল।
এখনো টিফিন ক্যারিয়ার হাতে
কুয়াশা ভেদ করে
হেঁটে চলা মানুষগুলি
গভীর রাতে ঘরে ফেরে
ক্লান্ত বিধ্বস্ত দেহে।
কেন?
কেন গভীর রাতে জেগে উঠে না
ধলুর দোকানে চিকন বাঁশির সুর।
সবকিছু ঘুমিয়ে আছে
সবকিছু ঘুমিয়ে থাকে।
কেন?
ইস্রাফিল সিঙ্গা হাতে ঘুমিয়ে গেছে
ভুলে গেছে ফুৎকারে উড়িয়ে দিতে
পাহাড়-পর্বত, জনপদ।
উড়িয়ে দাও বিষাক্ত সময়
বিষাক্ত নদীর ঢেউ
উড়িয়ে দাও সুন্দরী নারীর
বুকের আঁচল।
বিবসনা হও ধরণী মাতা।
প্রলয় চাই।
চাই মহাপ্রলয়ের সিঙ্গাধ্বণি।
বিশুদ্ধতার তুলাবীজ উড়ে এসে
বোপিত হোক শ্বাশত সময়ের
হৃদয়তন্ত্রীতে।

মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

ওয়াহিদ জালাল এর দু'টি কবিতা


অবিকল তরঙ্গের মত
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
বুঝি কামড় বসিয়েছি জোছনার শরীরে
কেমন যেন মোচড়ানো অনুভব করছি
বিনয়ী রাত্রির নিম্ননাভী মূলে,
বৃক্ষের ছায়া কত নির্বোধ জন্মদাত্রী
মাটির বুকে, গাছের শাখায় ঝুলছি ফুলের ঘ্রাণ ।
উঠোনে ভ্রমণবিলাসী কুমারী পাখির ঝরা
পাখনায় শতাব্দীর অন্তিম বিশ্রাম, তুমি এসে
দিগন্ত বিস্তৃত পথ হাত ধরে এগিয়ে দাও,
যেখানে সুখছাড়া অসুখের দানা বাঁধবার
নিপুণ হাত কোন এক চিৎকারের অপর প্রান্তে ।
বৃক্ষের পাতারা মাটির সিনায় আয়নার মত
মুখ দেখে, মনে পরে প্রিয়তমার কবুতরের আদলে
রাঙা পা রাখা জমিনের কথা, সেই জমিন
সেদিন কেমন নড়েছিল সমুদ্রের জলের ধরণে
আর প্রজাপতিরা নিজেদের লুটিয়েছিলো ইমানী আয়াতে ।
সময়ের আঘাত পেরিয়ে যাবার জন্যে আজ
রোদ অভ্যাসের কপালে চুম্বন করে যাচ্ছে
যেমন করে জীবনের প্রথম প্রেম অনন্তকাল
হৃদয়ের হাড়ে আগুনের মত দক্ষতা বর্ণনা করে,
তখনি মানুষের আয়তন সামাল দেয় নিজের ছায়া ।





দূরত্ব ভেদ করছি প্রতিদিন
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
লাউয়ের মাচায় এখনো যুবতী সূর্য নিজেকে ভিজায়
তীব্র জলের উচ্ছাসের মতো বেয়ে নামছে গোধূলির কেশ,
আজ বুঝি তোমার ঘাটে যাবার তাড়া নেই ?
মাঠের রাখাল তার মাঠ ভুলে ফিরছে ঘরের দিকে
শূন্য নদীর চোখে আমার মতো একান্তে কতো অপেক্ষা ।
স্নিগ্ধ সন্তানের মুখের মতো বাতাস চুম্বন রাখছে
আধাপাকা ধানের শিষে, ধানের গাছ অনুভব করছে
মাটির বুকে আজ ভাঙা পালকির দোলা, চাঁদের
কোন সৌন্দর্য নয় তুমি চাঁদ ভেসে আছো জনমের জলে,
চেয়ে দেখো কুয়াশার কামড় প্রকৃতির বুকে কতো উন্নত ।
শুকিয়ে যাচ্ছে পুকুরের জল, শুকনো পাতাদের উন্মুক্ত
ঘরে বাতাসের মুগ্ধকরা জলসা বসেছে, কতো
দুঃখিনী ফুল ঝোপে ঝাড়ে নিজেকে ফুটিয়েছে আজ
কামনার বুক ভরা রমনীর মতো, দু’হাত বুকের গভীরে
টানে পারিপার্শ্ব, মানুষের কোলাহল, ব্যর্থতার দীর্ঘশ্বাস ।
মনের কামিজ খুলে স্মৃতির বেসামাল ত্রিভূজ হাত,
যেন এক হেমন্তের বিকেলে নীরবে পরে থাকা
দুইটি মানুষের ছয়টি ছায়ার স্বভাবে শারীরিক
চাপে প্রজাপতির জিভের কাছে প্রেমিকা ভাসমান,
কৃষকের মাটির আলমারীতে লুকিয়ে রাখা অনন্তকাল ।

বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

আমি এক রমণীর কথা বলছি >< এ কে শেরাম


এ কে শেরাম
-------------------------------------------------------------------------------------
আমি এমন এক রমণীর কথা বলতে চাই,
যার সমস্ত শরীর জুড়ে অপরূপ লাবণ্য ঝরে
সৌন্দর্যের সমস্ত উপমা যার পায়ে এসে লুটিয়ে পড়ে;
চোখে-মুখে তার মোহিনী মায়া - অনিবার্য আকর্ষণ
যারই টানে উদভ্রান্তের মতো ছুটে আসে জীবন,
অন্ধ প্রেমিকের মতো ঝাঁপ দেয় উদ্ধত রূপের সে প্রজ্জ্বলিত শিখায়।
একবার যে'ই তার সান্নিধ্যে যায়
জড়িয়ে ফেলে নিজেকে তার মোহন মায়ায়,
সে'ই তার অন্ধ স্তাবক হয়ে যায়
বুঁদ হয়ে থাকে তার পেলব পরশ আর রূপের নেশায়।
অন্ধ প্রেমিকের মতো
সে তখন তাকে একান্ত নিজের করে রাখতে চায় সব লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সয়ে,
আর কখনো দূরে সরে গেলে ফিরে পেতে চায় যে কোনো কিছুর বিনিময়ে।
আসলে, মায়াবিনী সে - মোহিনী রমণী;
তাকে কাছে পেতে,
রক্ষিতার মতো একান্ত নিজের করে রাখতে
সব কিছু করে তার অন্ধ প্রেমিকেরা
তছনছ করে দিতে পারে যা আছে চারপাশে
ধ্বংস করে দিতে পারে সব সম্মুখে বাধা হয়ে যা'ই আসে,
তাতে যদি দগ্ধ হয় শিশু-বৃদ্ধ-নারী, নিরীহ মানুষ মরে,
কিছুই যায়-আসে না তাদের
তবু তাকে কাছে পেতে হবে, ধরে রাখতে হবে একান্ত নিজের করে।
হায় মায়াবিনী নারী, মোহিনী রমণী! ক্ষমতা যার নাম,
তোমারই জন্যে আজ অসহায় আমরা দিয়ে চলি জীবনের দাম।

২৪ জানুয়ারি ২০১৫

এখন প্রত্যহ প্রেম >< মোসলেহ উদ্দিন বাবুল



মোসলেহ উদ্দিন বাবুল 
------------------------------------------------------------------------------------------
বুকের ভিতরে তুমি খঞ্জর হাতে বসে পড়ো যখন তখন,
এ বুকে সাজিয়ে রাখা থরে থরে
নিরোগ ধমনীগুলো
ছিড়ে-খুঁড়ে একাকার করো...
বিকেলের পড়ন্ত রোদে স্বেদ জমা ঘর্মাক্ত কপোলে
পরিশ্রমী-মায়াবতী কোমল বালিকা.
নিজেই খঞ্জরে কেটে
মলম লাগাও...
কা-সন্ধ্যার হালকা হাওয়ায়
থির থির করে ওড়া চূ্র্ণ-কূন্তল
কপোলের স্বেদ-বিন্দু ছুঁয়ে
লেপটে যায় বাতাসে বাতাসে...
তখনো মূগ্ধতা এসে ছোঁয়না আমাকে ...
বোতামের ঘাট ছিঁড়ে আমাকে নগ্ন করে
আবার জড়িয়ে দিলে
সবুজ বসন...
তখনো মূগ্ধতা এসে ছোঁয়না আমাকে ...
করতলে বিষ রেখে একফোটা অমৃত মিশালে
অবচেতনে
আমাকে প্রাসাদ দেবে,
এই নৈবদ্ব আমাকে ভুলিয়ে দিল
পৃথিবীর যাবতীয় মহার্ঘ সম্পদ ...
সেই প্রাসাদ কামনা করে নীলকন্ঠ হই
খঞ্জরের তীক্ষ্ণফলায় জেগে যায়
বাইশের যৌবন,
এখন প্রত্যহ প্রেম -
বুকের ভিতর তুমি খঞ্জর হাতে বসে পড়ো ষখন তখন।

শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৫

এতো ভালোবাসা ভালো নয় >< শামসুল আলম সেলিম


শামসুল আলম সেলিম
------------------------------------------
হয়তোবা দুঃখগুলো প্রত্যাশিত ছিল
কাঁটায় জড়ানো ফুল,চিল বকের খাবার,
বড়শিতে পাতা টোপ,বুক ভরা ভালোবাসা আর
নিস্তব্ধ রাতে জ্যোৎস্না মাখামাখি,
হাওয়ায় হাওয়ায় ভেসে যাবার আকাঙ্খা-
হয়তো সব কিছুই প্রত্যাশিত ছিল ।
এতো ভালোবাসা ভালো নয় জানি-
তবু উন্মনা হাওয়া,ভাবনার অংক
মাঝে মাঝে যোগফল এনে দেয় ।
স্বপ্ন দেখি স্বপ্ন আঁকি স্বপ্ন মাখি,
দিনের শেষে সীমান্তে উঁকি দেয় দুঃস্বপ্নের প্রহরীরা,
বলে-এতো ভালোবাসা ভালো নয় !

বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১৫

সত্যিই কি জানতে চাও >< পল্লব সেনগুপ্ত



পল্লব সেনগুপ্ত
----------------------------------------------------------------------------------------------
সত্যিই কি জানতে চাও হৃদয়ের খোঁজ
নিজে আগে সাহসী মানুষ হও,
তার বিষন্ন বিপন্ন ঠোঁটে একবার তাকাও
চোখ রাখ চোখে,
হৃদয়ের আলো যদি একবার পড়ে নিতে পার
জেনে যাবে সব কথা
যা কিছু গোপন অব্যক্ত রেখেছে এতকাল।
ভালবাসা বিনিময় করে জেনে নিতে পার
যদি পড়ে নিতে পার দৃষ্টির অক্ষর,
একাগ্রতা জেনে নিতে পার তার
দীর্ঘশ্বাস গুণে গুণে বুঝে নিতে পার প্রতিক্ষার কষ্ট,
হৃদয় যদি ফোঁটাতে পার মুখের ক্যানভাসে
অবলীলায় জেনে নিতে পার মনের খবর।
যতবেশি সদালাপী হবে তত বেশি সুখপাঠ্য হবে,
উন্মুক্ত উন্মুখ হলে হৃদয়ের পথ, সহজ সরল হবে চলা,
ভরসার প্রত্যয় যেন থাকে
করতলে পায় যেন আস্থার ওজস্বী চাপ।
চোখের জলে ডুব দিয়ে দেখো অভিমান কতটা গভীর,
চাওয়া আর পাওয়ার ফারাক বুঝে নাও,
আস্থার স্থাপনা পেলে মনের দরজা আপনিই যাবে খোলে,
তুমি শুধু তৈরি করো বিশ্বাসের ভিত।


UA-53225896-1