সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

মন্টির সার্ট

মোসলেহ উদ্দিন বাবুল

মন্টির সার্ট নাকি নিয়ে গেছে চোরে
তাইতো সে বাড়ীময় বন বন ঘোরে ।
'সার্ট কই সার্ট কই' কেবল চেঁচায়,
সব্বাই সার্ট খোঁজে, সেদিকে কে চায় !

চেঁচামেচি, গোলমাল, কেঁদে কেটে সারা,
'কোথা আছে সার্ট চোর !' তোলপার পাড়া ।
'এথা খোঁজো, হেথা খোঁজো, খোঁজো সবখানে,
খুঁজে দেখো কোন দেশে কোন লোক জানে !'

কোথাও পেলো না কেউ কোন যে খবর,
'খাসা সার্ট ছিলো, আহা, রংটা জবর !'
সব্বাই ফিসফাস আপসোস করে,
'কোন পথে চোর এলো, সার্ট নিতে, ঘরে !'

ছোট আপু মৌসুমী এলো সবশেষে,
মন্টির পাশে এসে বললো সে হেসে -
'সব খুঁজে দেখেছো তো, দেখেছো কি গায়ে !'
যারা ছিলো আশে পাশে, আর ডানে-বায়ে -
হা হা, হো হো, খিক খিক, কি তুমুল হাসি !
তার কাছে নস্যি যে ট্রেনেরও বাঁশী !
হেসে হেসে চিৎপাৎ, লুটোপুটি খায়,
কেউবা নিজের পেটে তবলা বাঁজায় ।

চোর খুঁজে ধুলো মাখা সব পায়ে পায়ে,
আসলে সার্ট যে আছে মন্টিরই গায়ে ।

তুই এবং তুমি


সৈ য় দ রু ম্মা ন
...................................................................................................................................................

সন্ধ্যার মাধুর্যে আজ পুরাতন এই চোখে কোন রঙ দেখা দিয়েছিলো,
কতদিন চোখাচোখি-তবু তার এতোটুকু মোহনিয়া রূপ খুঁজি নাই,
দমকা হাওয়ার স্রোতে পাল্টে যায় দৃষ্টিবোধ, কীভাবে সে পরানে পশিলো-
নিরুত্তর সংবিধান-মোনালিসা হেরে যায়-মুহুর্মুহু বিস্ময়ের ঠাঁই।
বোধের প্রাচুর্যে দৃষ্টি কীভাবেই ‘তুই’ থেকে উঠে আসে ‘তুমি’র যাদুতে-
গোধূলির মগ্ন দিন, রিকশার খোলা হুডে কাক ভেজা শ্রাবণ-সুন্দরে,
মনুব্যারেজের পরে সুগন্ধি ঘাসের ছোঁয়া, ধরে ধরে হেঁটেছি বাহুতে-
অনুভূতিহীন ছিলো। কীভাবেই সে-ই আজ তুমি হয়ে তোলে সুর ধড়ে।
কত মিহি দিন গেছে-কলেজের করিডোরে বাদামের শব্দে ভেসে ভেসে
সহজিয়া গল্পগুলো জ্যোৎস্নার আলোতে আজ মনে হয় বড় মধুময়-
নিপুণ শব্দের ভিড়ে টের পাই তোকে নয়- তোমাকেই গেছি ভালোবেসে
বিস্ময়ের হৃদে হেঁটে-নির্নিমিখে ভালোবাসি, ফের খুঁজি-অতীত অন্বয়|
কোন সে বর্তিকা এসে পাল্টে দিলো দৃষ্টিবোধ; হৃদয়ের রঙ চারিধারে-
সেই পরিচিত ঠোঁটে অনির্বাণ স্বপ্ন বুনে অন্তহীন ভালোবাসি তারে।


(চলে গেলে নিয়ে যায় সবি ২০০৫ )

বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

নালিশ





মোসলেহ উদ্দিন বাবুল
=======================================================================

মন্ত্রী মশাই তোমার কাছে
 নালিশ আছে আমার ,
কি করে কই দুঃখের কথা,
বোতামই নেই জামার !

পায়জামার ঐ ফিতাও নেই,
নেই তো মাথার টুপি,
পেটেও যে খাবারটা নেই,
বলছি চুপি চুপি ...

শব্দ করে বলি যদি,
শত্রু পাবে সুযোগ,
বিরোধী দল তুলবে তখন
আন্দোলনের হুজুগ ।

আসলে তো দোষটা আমার নিজের পেটের ক্ষুদার,
এমন হলে ক্যামনে বাঁচি, কি করে হই উদার !

মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

অ ন্ধ কা র



সুমন নিনাদ
------------------------------------------------------------------------------------
অন্ধকারে স্বপ্ন ভাঙ্গে সপ্ন যেন ঠুনকো কাঁচঅন্ধকারে একলা ঘরে বিবেকের নগ্ন নাচঅন্ধকারে বুকের বামে সাবেক আগুনের আঁচঅন্ধকারে কফিন থেকে চুরি হয় সভ্যতার লাশতবুও সূর্য ওঠে পৃথিবীতে,কপট আলোয় ঝলসে দিতে,মহাকালের অন্তর্বাস।অন্ধকারে ধ্রুপদি সপ্নেরা তুমুল উন্মাদনায় মাতেঅন্ধকারে কারো শরীর চলে যায় অন্য কারো হাতেঅন্ধকারে দোপেয়ে মানুষ কখনোবা হায়না সাজেঅন্ধকারে আমার কানে নিঃশব্দতার আর্তনাদ বাজেতবুও অন্ধকারে সাজতে ভুত,শরীর নিজেকে করে প্রস্তুত,চোখে মুখে মেখে ফসফরাস।অন্ধকারে ধর্ম দেখায় তার ফোকলা দাতের হাসিঅন্ধকারে সুন্দরের উপমা গলে পরতে চায় ফাঁসিঅন্ধকারে প্রহরী কুকুর হানা দেয় মনিবের অন্তঃপুরেঅন্ধকারে শ্যামের বাঁশি বেজে ওঠে কোন বন্য সুরেতবুও অন্ধকারে সাজতে শ্যাম,কত রহিম আর কত রাম,
প্রতিদিন ঘরে ফিরে হয়ে লাশ।
UA-53225896-1