সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৫

তোমার মেঘ বিসর্জন >< সালু আলমগীর


সালু আলমগীর
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যখন এই মন ভালবাসা হারিয়ে
ক্ষত-বিক্ষত হবে
হারিয়ে ফেলবে তার রং রুপ
আর ঔজ্বল্য।
যেন মাঝ রাস্তায় পড়ে থাকা
দুরন্ত বেগে ছুটে চলা
নিষ্ঠুর চাকায় পিষ্ট
কোন অভুক্ত শ্রমিকের বিভৎস লাশ।
সেদিন তোমার আকাশ
মেঘ বিসর্জন করে
মেতে উঠবে সোনালী, উষ্ঞ রৌদ্রস্নানে।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৫

চিঠি ><কামরুন নাহার রুনু


কামরুন নাহার রুনু
---------------------------------------------------------------------------------------------
একদিন ক্ষুধা শিরোনামে চিঠি পৌঁছে যাবে
প্রতিটা রাস্তায় শহুরে দেয়ালে, টি এস,সির বৈকালিক আড্ডায়, চারুকলায় তুলির আঁচড়ে, প্রতিটা শিক্ষাঙ্গনে।
চিঠি বিলি হবে।
চিঠির ঠিকানা, যা পাওয়া যাবে
রাস্তার অলিগলিতে, গ্রামের গেরোয়া পথে, মানুষের মিছিলে মিশে থাকা ইট ভাংগারত ১৩ বছরের শিশুর না খাওয়া শুকনো মুখে।
ঠিকানা পাওয়া যাবে পাতা কুড়ানি মেয়েটির চোখে।
পাওয়া যাবে রোদের ঝাপটায় কাতরানো পানি বিক্রি করারত ছেলেটির বুকে।
চিঠি পোঁছানো হবে প্রতিটা মনের প্রান্তে
যেখানে খুব মানবিক সবুজ গাঙ আছে
যেখানে হলুদিয়া পাখির আবাসভূমি।
যেখানে মানুষের ভেতরে একজন শিশুর বসবাস যেখানে মসজিদ, মন্দির, গির্জার মত পবিত্রতা বহমান।
একদিন সেখানেই চিঠি বিলি করা হবে।
হবে সারাদেশময় শিশুদের কান্না আর ক্ষুদার অবসান। ওরা হবে চঞ্চল হাসিমুখ সবুজ ভরসা।
যেখানে আজলা ভরা বিশুদ্ধ হাসিতে
থেমে যাবে প্রবল ক্ষয়।


বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৫

বঙ্গবন্ধু ক্ষমা কর আমাদের >< আবু ইশতিয়াক


আবু ইশতিয়াক
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
’৭১ এর ৭ মার্চ,
রেসকোর্সে লক্ষ জনতার ঢেউ, টান টান উত্তেজনা,
উৎসুক উদ্বেলিত মানুষ মহানায়কের অপেক্ষায়,
তাঁর দিক নের্দেশনার বড় প্রয়োজন আজ।
মঞ্চে উঠে এলেন দৃঢ় পদক্ষেপে বঙ্গবন্ধু,
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ শব্দগুলো আমাদের হলোঃ
এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম
স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা।
মহুর্মূহু শ্লোগানে প্রকম্পিত রেসকোর্স।
বঙ্গবন্ধু বলেছেন যার যা আছে তাই নিযে প্রস্তুত থাকো।
প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল যেন,
শক্ত হয়ে গেছে প্রতিটি মানুষের চোয়াল,
বাহুগুলোতে অদ্ভুত দৃ্ঢ়তা!
২৫ মার্চ ৭১ এর মধ্য রাত, ইতিহাস বিবস্ত্র হলো,
চেঙ্গিস, তৈমুরের প্রেতাত্মারা নিঃশব্দে ক্রোলিং করে,
হঠাৎই কামান, ট্যাংক, মেশিনগান গোঙাতে থাকে অবিরাম!
অন্যপক্ষ ঘুমন্ত, নিরস্ত্র।
যেন চীরনিদ্রার চাদরে ঢেকে দেবে—
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইন... সব।
সারাদেশে অসংখ্য নিরীহ বাঙ্গালীর লাশ!
বাঁশি মুখে ইয়াহিয়া নিখাদ নিরো।
২৬ মার্চের প্রথম প্রহর, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা
ওয়্যারলেস বেয়ে পৌঁছে গেল সারা দেশে—
বন্দি হলেন বঙ্গবন্ধু, নিক্ষিপ্ত হলেন সাত সমুদ্দ পারে
পাকিস্থান কারাগারে।মুক্তিযুদ্ধ ঠিকানা খুঁজে ফিরে,
মুজিব নগরে মুজিব এলো যেন,
ভূমিষ্ট হলো বাংলাদেশ সরকার— মুক্তিযুদ্ধের পালে হাওয়া।

        

মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৫

পতাকার বৃত্তাকার শকুনের ধাড়াল নখর >< জয়ন্ত সরকার


জয়ন্ত সরকার
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি চুপচাপ বসে আছি সেই পচাত্তর থেকে,
কি বলে জনতা বাংলার মানুষ হতভাগ্য ভোটার?
যাদের উদাত্ত কন্ঠের বক্তৃতায় স্কুল ছেড়েছিলাম
মায়েয় আঁচল, ছেড়েছিলাম আমার ভিটেমাটি প্রিয়জনের মুখ
তারা গীটারের ছেড়া তারের মত বেসুরে কথা কয়।
অনেকে থেমে গেছে ঘরকুনো বেকারের মত,
আমিও তাদের মত শোনার শ্রোতা।
চুলার উনুনে ছেকা রুটির গন্ধ ,
ফিরিয়ে দিয়েছি যৌবন
একচাপ অন্ধকারে ক্ষোভ জমা রেখেছি আমার পোড়া ভিটায়,
সংসার দিয়েছি বির্ষজন ভালবাসার সুগন্ধায়,
কিছুটা বাড়াবাড়ি বকুলের ছায়ায় একটা ছোট্ট প্রতিশ্রুতির জন্য,
প্রতিশ্রুতি অনেক রাখা হয়নি
যেমন জয়বাংলা, একাত্তরের সংবিধান সমঅধিকার আরো আরো অনেক কিছু
তবুও কেন জানিনা এটুকু অঙ্গীকারে যৌবন বির্ষজন দিলাম!
পৌরুষে নিদির্ধায় জ্বালিয়ে দিলাম আগর বাতি।
আমি দেখতে থাকি ,আমার মত যারা আজও
মিনমিনে আলো নিয়ে বেঁচে আছি,
আদৌ কি যুদ্ধ হয়েছিল ?
চন্দ্রহীন রাতে কাঁদামাটি গায়ে সে কোন সময় ?
অচেনা লাশের মত ভাগারে চুপসে থাকি কর্পূর সুগন্ধি বক্তব্য শোনার পর,
রাতের বিষণ্ণ স্রোতে নেয়ে উঠি পাঁচশো সত্তর সাবানের ফেনায় ।
বিষাক্ত সময় আর একাত্তরের কালো ছায়া দুভাগ করেছে দেশ ,
পতাকার বৃত্তাকার শকুনের ধাড়াল নখর।

বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০১৫

এই ফাল্গুনে >< এ কে শেরাম



এ কে শেরাম
________________________________________________________________________
এই ফাল্গুনে,
নিসর্গের সবুজ আঙিনায়
রক্তিম পলাশ-শিমুল নয়,
হিংস্রতা রক্তের আঁখরে আঁকে বারুদের আল্পনা।
এই ফাল্গুনে,
হৃদয়ে-ইথারে, কবিতার চারুবাকে
বর্ণমালার মিহি কারুকাজ নয়,
অভিধানে যুক্ত হয় নতুন শব্দ 'পেট্রোল বোমা'।
এই ফাল্গুনে
সুরে-ছন্দে, মেলায়-খেলায়,
বাসন্তী রঙের বিপুল আন্দোলনে আলোকিত কোনো প্রহর নয়,
বাংলার শ্যাম-শরীরে বরং ছায়া মেলে দেয় এক ঘন অন্ধকার।
এই ফাল্গুনে বসন্ত নেই।
সব রঙ আজ মিশে একাকার বিপন্ন রক্তের ধারায়।
সমস্ত আবেগ-অনুভূতি ঢাকা পড়ে যায়
সন্ত্রাসের হিম কুয়াশায়।
তবু, এই ফাল্গুন এখনও হৃদয়কে আন্দোলিত করে
চেতনার নিমীলিত চোখকে পুনঃউন্মীলিত করে।
কারণ, এমনই এক ফাল্গুনে,
আমি আমার মাকে প্রথম মা বলে ডেকেছিলাম,
আমি প্রথম কথা বলেছিলাম আমার মায়ের ভাষায়;
এমনি এক ফাল্গুনেই,
আমার মায়ের ভাষার জন্যে আমরা জেগে উঠেছিলাম,
আর আমার মায়ের সে ভাষা পেয়েছিলো তার প্রাপ্য সম্মান।

আজ কি তবে >< সুমা জায়গীরদার


সুমা জায়গীরদার
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আজ কি তবে বৃষ্টি হবে
আমার এই হৃদ জমিনে ?
হঠাৎ সুখের পরশ পেয়ে...
সিক্ত হবে চারণ ভূমি;
বুকের ভেতর সকাল সাঝেঁ !

আজ কি তবে সবুজ পাতা
শাখাতে তার উঠবে দোলে ?
হৃদ গহীনে স্বপ্নরা সব
জড়ো হয়ে দেবে হানা...
ঝরা পাতার বাধঁন গুলো
এক-এক করে,যাবে খুলে !

আজ কি তবে মধ্যে রাতে
মিলনেরই বাজবে বাশিঁ ?
তোমার দু'টো আল্‌তো হাতের
স্পর্শ কাতর নেবে টেনে...
সুঠাম তোমার বক্ষ মাঝে ?
পাগলপারা গভীর চুমে;
বলবে,তোমায় ভালোবাসি !

আজ কি তবে আধাঁর আলোয়
রাঙা হবো আল্‌তো ছোঁয়ায় ?
কাটবে বিলি তোমার কেশে...
আমার কোমল হস্ত খানি ?
সুখ-আবেশে বুঁজে আখি;
মদির গলায় বলবে হেসে...
সর্বনাশী,করছো একী !
UA-53225896-1