বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০১৪

জাতীয় মেঘ দেখা কমিটির সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে || ফকির ইলিয়াস




জাতীয় মেঘ দেখা কমিটির সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে  || ফকির ইলিয়াস
__________________________________________________________

ঈদের আনন্দ পেতে অনেকেই আকাশে খুঁজেছিলেন চাঁদ।বিষণ্ন সন্ধ‌্যার রেখা
মিলিয়ে গিয়েছিল বেশ আগেই। কিছু বেদনার বিভা জেগে থেকেছিল সমুদ্রের
মধ্যপ্রান্তে।গাজায় যে শিশুদের নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে— তাদের স্মৃতি
ধারণ করে।একটি পাখি ডাকধ্বনি ভুলে গিয়ে, ছেড়ে গিয়েছিল প্রিয়তম দেশ।

আমি উচ্চারণের বিশুদ্ধ বিপণন ভুলে গেছি অনেক আগেই। ভুলে গেছি,
আমার পরিচয়। কোথা থেকে এসেছিলাম কিংবা কোথায় যেতে চাই।

আজকাল আমার অনেক কিছুই মনে থাকে না। বিস্মৃত জীবনের পাথরগুলো
সরাতে সরাতে খুঁজে পাই না আমার আত্মার সন্ধান। আদৌ আমি প্রাণময়
ছিলাম কী না— সেই প্রশ্নটিও আমাকে বিদ্ধ করে অহরহ।নিউইয়র্ক শহরের
পুরনো গ্রাফিটি'র মতো কিছু লাল-কালো দাগ আমার বুকে উঁকি দিয়ে
জানান দেয়, রক্তচিহ্ন প্রাচীন হয়ে গেলে কয়লা রঙ ধারণ করে।

আমি আকাশের দিকে তাকালেই কালো মেঘ দেখি। খুঁজি চাঁদ— অথচ
আমার মাথার উপর নেমে আসে মেঘের কৃষ্ণছায়া। জাতীয় মেঘ দেখা
কমিটির সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে, আমি যখন বিষয়টি আমার সতীর্থদের
জানালাম, তারা সবাই সমস্বরে বললেন— মেঘ শুধুই ভেসে যায়।মানুষের
মাথার উপর কখনও'ই ছায়াপাত করে না !

[ নিউইয়র্ক / ২৯ জুলাই ২০১৪ মঙ্গলবার॥দুপুর ১:৫৯  ]

মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০১৪

জ্ঞান হবার পর এই প্রথম ঈদে বাড়ি যেতে পারিনি ।




শাহ্‌ ইয়াসিন বাহাদুর
=======================================================
যেতে যে পারব না তা আগে থেকেই জানতাম। ভেবেছিলাম, দিনটা না জানি কেমন যাবে। বিষণ্নতায় ডুবতে ডুবতে হয়তো শেষই হয়ে যাব, কিন্তু না, কিছুই হলো না! অন্যান্য দিনের মতই আরেকটি দিন আজও চলে গেল। পার্থক্য একটাই, রোজা ভেঙেছি বলে আজ দিনে পেটে দানা দিয়েছি। রাতে খাওয়ার জন্য হোটেল নির্দিষ্ট করে রেখেছিলাম কিন্তু একটু আগে শুনলাম, ওরা আজ চুলা জ্বালাবে না। আজ আমাদের বুয়ারও ছুটি। অগত্যা সন্ধ্যায় হেঁসেলে আগুন পোহাব, ঠিক করেছি।
এই সব কথা বাড়িতে জানাবার সুযোগ নেই। ঈদের দিন ছেলের খাওয়ার কোন ঠিক নেই, এমন শুনলে আম্মা হয়তো নিজেই খাওয়া ছেড়ে দেবে।


অফিসে দু'চারজন বাদে সবাই ছুটিতে। আমার ডরমিটরিতে আমি একা। কেবল মাঝে মাঝে থেকে থেকে পাশের আমগাছে ডেকে উঠছে একেকটি দোয়েল আর কানে লাগছে দূরে তীব্র শব্দে বাজানো ইংলিশ অর্কেস্ট্রা। ওদের সাথেই আমার আজ ঈদ উদযাপন করতে হচ্ছে।

এই বাজারে পেটের যোগান দেয়া কষ্টসাধ্য। নিতান্ত পেটের দায় না থাকলে এই চাকরীরে উষ্টা দিয়া, বাস না পাইলেও, ট্রেন না পাইলেও, তিনশ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হাঁটতে আমি বাড়ি চলে যেতাম। বর্ষার জল ছাড়িয়ে, মাঠের খোলা বুক নাড়িয়ে ধেয়ে আসা শীতল বাতাস, গ্রামে গেলে আমি দুহাত ছড়িয়ে সমস্ত শরীরে-মনে জড়িয়ে নিই। পৃথিবীর কোনকিছুর সাথে যে হাওয়ার কিছুতেই বিনিময় হয় না।
এবার ঈদে আমাকে ছাড়াই ভাল থেক খোলা মাঠ। ভাল থেক খোলা হাওয়া।
ভাল থাকুন ঈদে বাড়ি যেতে পারা সৌভাগ্যবানগণ।

চলে এসো ... এক বরষায়


আইরিন সুলতানা
=====================================================
মাজেদা খালা দু’তিন ধরে ক্রমাগত ফোন দিয়ে ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করে কেঁদে চলেছেন। প্রতিবার ফোনে ঝাড়া দুই মিনিট কান্নার মাঝে ৩০ সেকেন্ড পর পর একটু বিরতি দিয়ে হিমুকে বলছেন, তুই ভাল আছিস তো? হিমুর মনে হচ্ছে মোবাইল অপারেটরগুলো টক টাইম নয়, ক্রাইং টাইমের উপর কলরেট অফার করছে। দিনের যে কোন সময় কল করে ২ মিনিট কাঁদলে কলরেট সর্বনিম্ন। শুধু মাজেদা খালাই নয়, খালাতো ভাই বাদলও ফোন দিয়ে চুপচাপ ধরে থাকল। তারপর বলল, আজ হলুদ পাঞ্জাবি পড়েছি। বলেই ফোনটা টুস করে কেটে দিল। হিমুর মনে হল বাদল ফোন কেটে দিয়ে কাঁদছে। তাহলে কি বাদল অন্য কোন কলরেট অফার নিয়েছে!
কোন প্যাকেজে টকটাইম কী হিসেবে সেটা জানা হয়নি হিমুর। এখন পর্যন্ত রূপাই তার মোবাইলের ব্যালান্স ভরে দিয়েছে। হিমু দেখেছে ব্যালান্স থাকতে থাকতে কোনবারই তার রূপাকে কল করা হয় না। আর যখন রূপাকে কল করে, কল করা মাত্রই ব্যালান্স শেষ হয়ে যায়। রূপা কলব্যাক করে না তবে মোবাইলে ব্যাল্যান্স ভরে দেয়ার কাজটা রূপা নিজেই করে দেয়। রূপা অবশ্য জানে ব্যাল্যান্স শেষ না হওয়া অব্দি হিমুর কল আসবে না।
- হ্যালো...রূপা।
- এবার তোমার ফোনের ব্যাল্যান্স বেশ চলল তাহলে!
- তিন দিন আগে শেষ হয়েছিল। মাজেদা খালা ১০০০ টাকা ভরে দিলেন। হিমু জানে রূপা ইদানীং ইচ্ছে করে এমনভাবে ব্যাল্যান্স ভরে দিচ্ছে যেন সপ্তাহখানেকের মধ্যেই হিমুকে রূপার খোঁজ করতে হয়।
- তাহলে তো আজ অনেকক্ষণ কথা বলবে আমার সাথে, তাই না?
- তা মনে হয় হচ্ছে না।
- মানে?
- মানে হল, তুমি যে ব্যাল্যান্স ভরে দাও, সেটাতে ইন্টারন্যাশনাল কল করা হয় না। এবার একটা ইন্টারন্যাশনাল কল করেছি। মনে হচ্ছে ব্যাল্যান্স প্রায় শেষ।
- তোমাকে ইন্টারন্যাশনাল কলের জন্য ব্যাল্যান্স ভরে দিতে পারছি না বলে আমি দু:খিত। রূপা ঠাণ্ডা গলায় বলল।
- রূপা, আমার মনে হচ্ছে তুমি আজ নীল শাড়ি পড়েছো। কিন্তু টিপ পড়তে ভুলে গেছ।
রূপা যেদিনই নীল শাড়ি পড়ে হিমু সেদিনই ধরে ফেলে। প্রথম প্রথম বিষয়টা ঝড়ে বক মারার মত মনে হলেও রূপা খেয়াল করেছে হিমুর নীল শাড়ি জোতিষ্যশাস্ত্র অব্যর্থ।
- কদম ফুল খোঁপাতে দিলে তোমাকে আরো ভাল লাগত। কিন্তু তুমি কদম ফুল খুঁজে পাবে না।
- কেন পাব না?
- কারণ তরুণ-যুবা-মধ্যবয়সী সকলেই গাছ থেকে কদম ফুল পেড়ে কোন এক লেখকের সমাধিতে দিয়ে আসছে। মাজেদা খালা বাদলকে দিয়ে দুইশটা কদম ফুল যোগাড় করেছিলেন। তুমিও গিয়েছিলে?
- না। যাইনি। কারণ লেখকদের মৃত্যু নেই হিমু। সমাধিতে লেখককে খুঁজে পাওয়া যায় না। লেখকদের কেবল জন্ম হয়। তারপর তারা প্রকৃতিতে মিশে যায়। জোছনায়, কদমে, বৃষ্টিতে...
- রূপা, আজ বৃষ্টি হবে ...
ফোনের লাইন কেটে গেল। রূপা কলব্যাক করবে না জানে হিমু। কিন্তু নীল শাড়িতে আজ একবার রূপাকে দেখতেই হবে। পকেটে ১০০০ টাকার নোট আছে। ১০০০ টাকার নোট নিয়ে বাসে উঠলে কনডাকটর বিরক্ত হয়। কড়কড়ে নোটটা ভাঙাতে ইচ্ছে করল না হিমু। ঠিক করল হেঁটেই যাবে রূপাদের বাড়ির সামনে।
রূপাই সত্যি সত্যিই টিপ পড়তে ভুলে গিয়েছিল। আয়নায় দেখে একটা বড় গোল নীল টিপ পড়ল কপাল জুড়ে। তারপর বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। আকাশে মেঘ নেই। কিন্তু রূপা জানে হিমুর কথা মত আজ ঠিকই বৃষ্টি হবে। বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে হিমু রূপাদের বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াবে। হাতে থাকবে কদম ফুল। রূপার মন চাইছে লোকজন পুরো শহরের কদম গাছ থেকে ফুল পেড়ে নিলেও আজ হিমু একটা কদম ফুল হাতে নিয়ে জুবুথুবু হয়ে রূপার সামনে দাঁড়াক।




রবিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৪

দ্বিখণ্ডিত চাঁদ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ


আসিফ আলতাফ
-------------------
এবার ঈদে শিমুকে একটি শাড়ি কিনে দিস বাবা’
আঁচলের কোণা দিয়ে চোঁখ মুছতে মুছতে
মা বললেন- ও কত দিন ধরে বায়না করে আছে
ঈদে শাড়ি পরবে বলে ।

শিমুর চুল টেনে দিয়ে বললাম –
আমদের শিমু তো অনেক বড় হয়ে গেছে মা
এবার শ্বশুর বাড়ি পাঠাতে হয় যে,
ও লজ্জায় লাল হয়ে ছুটে পালালো ।

সে দিন চান রাত্তির -
বেতনের শেষ কটি টাকা দিয়ে
শিমুর জন্য শাড়ি কিনে
গাড়ি করে বাড়ি ছুটলাম ।
সাঁতার কেটেকেটে সামনে এগিয়ে গেছে
শহুরে সড়ক
বাসথেকে নেমেই শিমুর মুখ-
ঈদের চাঁদ যেন ফুঁটে আছে সড়কের ওপারে
এ পারে আমি
আকাশে জোনাকি হয়ে উড়ছি তখন।

সড়ক-পুলসিরাত পারহেতে যেয়ে
যন্ত্রদানবের তীক্ষ্ম দাঁতে দ্বিখণ্ডিত
হয়ে গেল আমার সে চাঁদ
‍মুহূর্তে জোছনা হয়ে গেল ঘণ আবীর
শিমুর জন্য আনা লাল শাড়িটা দিয়ে
ঢেকে দিলাম
সড়কে লেপটে থাকা একটি
রক্তাক্ত দেহ।

সেই থেকে দুধশাদা জোছনা নিয়ে
আকাশে হাসে না আর ঈদের চাঁদ
ঈদের চাঁদের বুকে সেই থেকে
কেবলই শুনি আমি দুখের কোরাস।

শুধু তুমি দেখলে না

সালু আলমগীর
==================
তুমি তো চলে গেলে
অনেক অভিমানে
অমাবস্যার হাত ধরে
কোন এক অচেনা আঁধারে।
আমি সে কবে থেকে
রোদেলা সকাল নিয়ে বসে আছি
তুমি আসবে বলে।
তবু তুমি নিয়ে এলে
মেঘলা আকাশ
ভিজিয়ে দিলে আমার
আজন্ম স্বপ্ন,অভিমানী মন,
একলা সংসার, ভিটে মাটি সব।
আমি তো এভাবে
কখনও চাই নি তোমায়।
আমি তো চেয়েছিলাম
শুধুই নীল আকাশ
কখনও জোছনা চাই নি।
আমি তো কাশফুলমেঘ চেয়েছিলাম
জোনাকি চাই নি।
তবু তুমি আমার বুকের রঙে
নিজেকে রাঙিয়ে
রাখালের পায়ে পায়ে
ঘরে ফিরে গেলে।
শুধু তুমি দেখলে না
আমার চোখের জল কখন
হারাল সন্ধ্যার অন্ধকারে।

ঈশ্বর

শামসুল আলম সেলিম
======================
ঈশ্বর!
আমাকে আমার মতো
চলতে দিয়েছো বলেই কি
তুমি ঈশ্বর ?
নাকি নাটাই হাতে অদৃশ্যে
থাকো বলেই তুমি ঈশ্বর !

বৃষ্টির আমন্ত্রণ

এ কে শেরাম
-----------------
এক পাহাড়-সমান দুঃখকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্তব্ধ পাহাড়
আর বেদনার ভাষাকে নীরব কান্নায় বাণীরূপ দেওয়া গভীর অরণ্য
- আমার খুবই প্রিয়;
পাহাড়-পুত্র আমি এক শবর যুবক।
ক্লান্ত মেঘেরা এসে আশ্রয় নেয় এই পাহাড়ের বুকে,
পাখিরাও আসে, আসে আরো কতো প্রাণী;
শুধু তুমি আসো না।
তুমি এলে
পাহাড়ের রুক্ষ বুক ভালোবাসার স্পর্শে মসৃণ হয়ে উঠতো
অরণ্যের গোপন কান্না সুরের ইন্দ্রজাল হয়ে যেতো।
কিন্তু তুমিতো সবসময়ই সমুদ্র-অভিলাষী,
বৃষ্টির মোহন স্পর্শে জেগে ওঠো
বর্ষার ভরা প্লাবনে ময়ুরের মতো কলাপ মেলো।
আমি আজ তাই ভরা আষাঢ়ের এই দিনে
পাহাড়ে হেলান দেয়া মেঘের ভেলাকে
তোমার কাছে পাঠিয়ে দিলাম বৃষ্টির আমন্ত্রণে।
তবে, বৃষ্টির অন্তরঙ্গ স্পর্শে মাতাল হতে হতে
একবার অন্তত তুমি ফিরে তাকিয়ে দেখো
অজস্র বেদনার ভারে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই দূরের পাহাড়কে।

বেদনার বৃষ্টি

দেবাশীষ দাশ
================
চোখের জল ঝরছে
নীরবতা নিসংগতা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে ।
চোখের লুনা জলে দেহ আজ লবণাক্ত
তবুও তোমার বিবেকহীন হৃদয় হয় না ভালবাসায় সিক্ত ।
ভালবাসা তোমার কাছে নটরাজের খেলা
কল্পনার রাজ্যেও তোমার হয় না কোন মিলন মেলা ।
দেশ–দেশান্তরে পেতেছ ভালবাসার ফাঁদ
রঙ্গ, রসে প্রেমের খেলায় মেটাচ্ছ জীবনের স্বাদ ।
তোমার রুপের আগুনে জলসে দিচ্ছ শত স্বপ্নের জীবন
একবারও ঈশ্বরের ভয়ে কাপে না তোমার মন ।
তোমার সৌন্দর্যের উত্তাপে উত্তপ্ত ধরণী
কেন তুমি এত শত প্রানের হৃদয় হরিণী ।
ভালবেসে একটি প্রাণ
সমস্ত হৃদয় কেন করো না দান ।
তোমার সৌন্দর্যে ছলনায় সৃষ্টি করেছ ভালবাসার এক ইতিহাস
সেখানেই লিখা থাকবে ভালবাসার যত পরিহাস ।
তোমার ভালবাসার ইতিহাস এক করুন সৃষ্টি
যুগে যুগে মানব মনে ঝরাবে বেদনার বৃষ্টি ।

চাঁদরাত ব্যথা দেয়

শাহ্ ইয়াছিন বাহাদুর
----------------------
কব্জি ডুবিয়ে খেয়েছি জমাট দই
পুকুরের পুরনো মাগুর, মসৃন উঠানে
পরী নামা সন্ধ্যায় মেঘতাড়ানো চাঁদ
তিন পুরুষের ধানখেত করে চাষ ভিন্ন মহাজন
ইজারায় কানপোনা তুলে নেয় কৈবর্তের জাল
গোয়ালঘরে আরসিসি পিলারের হাফ-বিল্ডিং
পুরুষানুক্রমে মহাজন বদলান
নগরের সশব্দ সেলাইঘরে চাঁদরাতে বুকে ব্যথা হয়
ঘরহারা মন শৈশবহারানো মুখে ক্লিন-শেভ দেয়
চাঁদরাত হেসে ওঠে, চাঁদরাত ব্যথা দেয়।

মা,তোমাকে একটি চিঠি

ওয়াহিদ জালাল
------------------
দম বন্ধ হয়ে আসছিলো অনেক্ষণ, দুয়ার খুলে
বাইরে গিয়ে দাড়ালাম, মাঝে মাঝে আমি
খুব একা হলে আকাশের দিকে তাকাই, আজও
তাকালাম অনেক্ষণ, তোমার মুখ দেখবার জন্যে ।
মা,
আজ আমার এখানে আকাশটা মেঘলা, কালো
মেঘে ছেয়ে আছে তার মুখ, সমুদ্রের দিকে
ধাবমান আজ আকাশের রুখ । তোমার মুখ ভেসে
উঠলোনা, ফরিয়াদীর মতো ফিরে এলাম ঘরে
তুমি চির বিজয়িনীর স্মৃতির পাশে।
নাও, আমার চোখের জল, খুঁজে দেখো কতো
ইমানদার হয়েছে আজ । তোমাকে ভাবতে ভাবতে
মানসভ্রমনের প্রবনতা কতো সক্রিয় হয়েছে,
মুখ ফিরাই শূন্য দেয়ালের দিকে, তোমার কন্ঠস্বর
ঝরেপড়া মধুর মতো বেয়ে নামে আমার অস্তিত্বে।
মা,
এবার আমার ছায়া মা'ও ভালো নেই, তার
শরীরে বাসা করে অসুখ, তোমার মতোই ।
এবারও ঈদে তোমার পা ছুঁয়ে বুকের অনন্ত
রহস্য আত্মসমর্পণ করতে পারিনি, কতো কষ্ট হচ্ছে
এই বুকে, আজ তুমি বাবার অসুখে হয়েছো
এক অসুখি ছায়া, তোমাকে স্পর্শ করছে আহ্বান ।

সুখ দুঃখ

অজিত রায় ভজন
-------------------
দুঃখ যদি লাগে বুকে
সুখ খুঁজে তুই করবি কি?
সুখের নাগাল পাস'না যদি
সুখের পিছু ধরবি কি?

সুখ যে হলো সোনার হরিণ
শুধুই দূরে যায় চলে,
পাষাণ বেঁধে বলনা ওরে
দুঃখরে তুই আয় চলে।

তোরই সঙ্গে বসত করি
দেই কাটিয়ে দিনটা কে,
চিনলি নাতো আড়াল থেকে
বাজায় কেরে বীণ'টা কে।

জলবতী মেঘ জানে জন্মান্তর ভেদ

আইরিন সুলতানা
-------------------
পোয়াতি মেঘের জল ভাঙ্গতেই মধ্য বরষা,
আর নীল পাহাড়ের হাঁটু ছুঁই ছুঁই জল।
তেতলার ছাদে ভুলে যাওয়া স্নানভেজা শাড়ির মত
মদনটাক পাখিটার চঞ্চুবুকডানা জড়সড়।
জাতিস্মর, বিগত জনমে জলরঙে এই ছবিটাই এঁকেছিলে?

সহস্র বর্ষাজন্ম ধরে
পাখিটা যতনে বুনেছিল মহালয়া মন্ত্র,
বালুচুড়ি আঁচলে।
পকেটে তোমার সোনামুখী সুঁই, দু`গাছি সুতো রয়ে গেল।
জলবতী মেঘ জানে ওই জন্মান্তর ভেদ।
জলবসন্ত দাগ কি অত জলদি মোছে?

জাতিস্মর, পাহাড়টা এক রত্তি বদলায়নি।
কাউকে বলেনি, জলডাঙ্গা যাবার সুড়ঙ্গপথ কী করে খুঁড়েছিলে
জন্মে জন্মে!
সুড়ঙ্গ গড়িয়ে জলধারা। নীচে জলবাষ্প। তারপর জলডাঙ্গা।

তোমায় জলবতী মেঘের দোহাই জাতিস্মর,
জলপরীকে শাড়ি দিও ভেট ।
তবেই ঘটবে বর্ষাজন্মমুক্তি ।

সুরমা র তীর থেকে

মিলু কাশেম
---------------
সুরমা নদীর তীরে দাড়িয়ে আজ তোমাকে
ভীষন মনে পড়ছে,ঠিক মনে নেই তোমার সাথে কবে
শেষ দেখাহয়েছিল। রাইন নদীর তীর বেয়ে কবে
আমরা পাশাপাশি শেষ হেটেছিলাম।
আমার স্মৃতির শহর সিলেটের সুরমা নদীর তীরে
চাদঁনি ঘাটে দাড়িয়ে মনে পড়ছে সেই দিনটির স্মৃতি
যে দিন আমরা প্যারিসের সীন নদীতে নৌবিহারে
কাটিয়েছিলাম সারাটা দুপুর,
আইফেল টাওয়ারের চূড়া থেকে উপভোগ করেছিলাম প্যারিসের অপরুপ সৌন্দর্য।
সুরমার কিন ব্রিজে দাড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখে মনে পড়ছে
আইফেল টাওয়ারের পাশে সীন নদীর সেই নান্দনিক
ব্রিজটির কথা যেখানে দাড়িয়ে আমরা প্যারিসের
মোহনীয় সূর্যাস্ত দেখেছিলাম।
সিলেটের কিন ব্রিজের নীচ দিয়ে সুরমা পাড়ের রেলিং
ধরে হাটতে হাটতে মনে পড়ে
বুদাপেস্ট এর দানিয়ুব নদীর শানঁবাধানো তীরের কথা,
কত বিকেল আমরা হেটে কাটিয়েছি দানিয়ুব এর
মাতাল করা পাগলা হাওয়ায় ভেসে।
মনে পড়ে পার্লামেন্ট হাউসের সামনের সেই ঝুলন্ত
সিংহ ব্রিজটির কথা,যেখানে দাড়িয়ে রাতের বুদাপেস্ট
এর শৈল্পিক সৌন্দর্যে আমরা বিমোহিত হতাম।
সিলেটের সুরমা নদীর তীরে দাড়িয়ে আজ ভীষন মনে
পড়ছে তোমাকে,সেই সব দিন রািএ আর ফেলে আসা
স্মৃতির কথা।যা হারিয়ে গেলেও
নষ্টালজিয়ার মত ফিরে আসে বার বার।

বিষাদ এ পৃথিবী


দীপঙ্কর বিশ্বাস
=================
চারিদেকের সবুজ আর সবুজ অরণ্য চোখ জোড়ায়
সে অরণ্য বাস করে হাজারও ছোট ছোট কিট-পতঙ্গ,
ভয় হয়; কখন যে ছোট্ট কামড়ে
তীব্র বিষের যত্রনায় নিথর করে দেয় সর্বাঙ্গ...
আমি ম্রিয়মাণ!
কিছু সময় আশংকা...
কিছু সময় চমকিত !
কিছু সময় যায় সাম্যের বিশ্বাসে ভয় ভেঙে দুর্বার
কিছুটা আবার কর্মের ব্যাস্ত আঘাত
সবকিছুকে করে চুর্মার...!!
তবুও অন্ধকার রাতে যেমন চিনাজোঁকের ভয় থাকে উঠানে,
সকাল হলেও লোকের ভয় থাকে সারাক্ষণে।

দুষ্টের দোসর আজকাল বড়ই সমাহার
বনের চিনাজোঁকের মতোন
সুযোগ পেলেই খামচে ধরছে যেখানে সেখানে
রক্ত নেচ্ছে খাচ্ছে না কিন্তু দামী-
শক্ত কিছু ছাড়া যাচ্ছে না।
সেই অসভ্যকাল আজ সভ্য হয়েছে হয় নি সভ্য মানুষ।

সে কাল
কুড়িয়ে পেয়েছে এখন মানুষের অসভ্য
আচরণ....
চালিশা চলছে কেড়ে নেয়া সম্মান-
নিষাদ উৎসবের আনন্দে
বিষাদ এ পৃথিবী!

শ্রাবন্তীর রূপকথন


জালাল আহমেদ জয়
=====================
পাহাড়ের ঢেউ যেনো বুকে দোলে
কালো কেশ উড়ে যায় যখন
তোমার
শ্রাবণের হাওয়ায়।
সন্ধ্যাভাষায় তারাদের মুখে
ভেসে যায়-দৃপ্তি ছোঁয়া মায়াবী
সেই মুখ।
যে ভাষা ফোঁটে ঠোঁটে
নিরবে যতনা
সহে সহে লুকিয়ে থাকে যতটুকু
ভালোবাসার শুভ্রতুষার
শ্রাবন্তীর আঁচলের নীড়ে।

রোদেগরমে ঘামে চৌচির
হৃদয়ের চোখে বুনেছিলে যে স্বপ্ন।
মেঘেরডাকে সরে যায়নি কখনো
জলে ভেজা পাতা ছুঁয়ে ছুঁয়ে
তোমার কোলে খুঁজেছি ঠাঁই বারংবার
যতবার শ্রাবণের ঘাড়েচাপা পড়ে
মুঁচড়ে যাবার পথে ;
হৃদয়ের পাহাড়ি ঢেউ হাড়িয়েছে তার কুল।

ভেবেছি পরি আসলে তা নয় !
রাতের অন্ধকারে তুমিই এসেছিলে
আলোর প্রদীপ জ্বেলে...
যার রূপে ভেসে যায় হেসে
হাজার জনম জনম ধরে
কবিতার ধ্রুবতারা।

বিষবৃক্ষ


হানিফ মোহাম্মদ
-------------------
তোমার আঁচল হতে খসে পড়া একখানি ফুল
আমার জীবনটারে করে গেছে একেবারে ভুল।
যখন সে ফুলদলে তুলে নেই করতলে
দেখি সেথা ভেসে উঠে একখানি মুখ
দেখিয়া সে মুখটিরে ভুলে যাই আপনারে
মুচড়ে মুচড়ে উঠে ছোট্ট এ বুক।
কত হাসি কত গান, কত সূধা কত প্রাণ
তবু ভুলা হল ভার মুখখানি সেই
আকাশের চাঁদ তারা, শ্যামল বসুন্ধরা
কেন যেন মনে হয় কিছু তার নেই।
কত যে পিদিম বাতি তবুও হয়না রাতি
আলোয় উজল
শুধু সেই স্নেহমুখ আমার আঁধার বুক
ভরে রাখে দিয়ে সুখ আলো ঝলমল।
সেই মুখ সেই হাসি ভেবে বুক যায় ভাসি
কান্নার নোনা জলে বয়ে যায় নদী
তবুও দিবস-রাতি বুকে জ্বলে সেই বাতি
নেভাতে পারিনা ভয়ে বেড়ে যায় যদি!
যত ভয়ে ভুলে থাকি যত তারে চেপে রাখি
ততই সে বাণ হয়ে ভাসায় দু'কুল
একি প্রেম একি জ্বালা যায়নাকো টেনে তোলা
সেই বিষবৃক্ষটি দু'হাতে সমূল।

সময়

সময়
-----------
রাজ মণ্ডল পায়েল।
সময় চলে গেলে
সময়ের কেলাসিত ছায়া
রেখে যায়
কাগজের কোলাজে।

শিকারী চিতার দাঁতে
শিকার করেছি সময়
শিকারের শীৎকারে।
সময় চলে গেলে
সময়ের বলিরেখা
রেখে যায় রোদ চৌচিড়
পোড়া মাটির চোয়ালে।

অথচ আমরা
সময় কে বেঁধেছি
সময়হীনতায়
দালির চ্যাপ্টা
ঘড়ির কাঁটায়।

হারিয়ে যায়, যা ছিল হারাবার

সুমন নিনাদ

-----------------

আর্দ্র চোখে দেখা ঠুনকো স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়
তোমায় নিয়ে লুকিয়ে লেখা কবিতা পুড়ে ছাই
সেই দহনের ধোয়ায় দূষিত হয় বাতাস
সেই বাতাসে মিশ্রিত হয় আমার দীর্ঘশ্বাস
আমি প্রবল আশাবাদী ও চরম হতাশ

প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আমার হাহাকার
হারিয়ে যায় সবকিছুই যা ছিল হারাবার
স্বপ্ন স্মৃতি ভালবাসা কিংবা অহংকার
সবকিছুই যায় হারিয়ে যা ছিল হারাবার
কেমনে দিব পাড়ি এই অথৈ পারাবার

ভেবে দেখো আমায় ভালবাসবে কিনা আবার ?

গান


মাহ্‌তাব শাহ ফকির
---------------------

পাইলাম না আর সুখের দিদার
দুঃখই সার জীবনে
ব্যথার চাষ করি বারো মাস
আমার বুকের জমিনে ।।

সারা জীবন দেখলো এ মন
সুখেরই স্বপন
বাস্তবতায় দুঃখের মেলায়
যাপিত জীবন
শুকাইলোনা আর দুই নয়ন
কপালের লিখনে ।।

সুখের আশে দেশ বিদেশে
ঘুরিয়া বেড়াই
দিন রজনী চোখের পানি
নিরবে ঝরাই
সুখের তো দেখা নাহি পাই
লুকাইলো কোন বনে।।

আমার দোষেই আমি দোষী
বুঝেছি এখন
মাহতাব ফকীর বন্ধুর চরণে
করি আত্নসমর্পন
যদি দয়াল বন্ধে করে গ্রহন

রূপান্তর যাত্রা


সরওয়ার ফারুকী
------------------

বেলায় বেলায় তলিয়ে তলায়
হারায় কালের কলি
তবু খোসাহীন ফেলে আসা দিন
দেইনি জলাঞ্জলি।

আঁধারে আপন আজো জাগরণ
বর্ণমালার কথা
সেই উড়াউড়ি মেঘমালা জুড়ি
বন্য-চঞ্চলতা।

বড় সে আপন যদিও গোপন
রৌদ্রদগ্ধ পথে-
ঠেলিছে আমায় মহাসীমানায়
পরমের সাক্ষাতে।

ভালবাসার নিবেদন


দে বা শী ষ দা শ
--------------------

বেদনার অন্তহীন পথ পেরিয়ে সারা রাতি
আমি ছিলাম এক সময়ে তোমার খেলার সাথী ।
তুমি ভালবাসার ফুল তুলিতে এসেছিলে মোর বাগানে
জানিনা তোমার কি ছিল মনে ।
আমার ব্যথার এতই ঢেউ

ব্যস্ত পৃথিবীতে জানিতে চাহে না কেউ ।
চাহিয়া থাকি তোমার পানে
কেই কিবা কি জানে ।
তুমি আজ দৃষ্টির বাহিরে
তবুও ব্যর্থ হৃদয় তোমা পানে চাহিরে ।

তোমার হৃদয় আজ স্বজনে ভরা
আমিই শুধুই হয়েছি আপনহারা ।
মনকে বুঝাই সে যে বোঝে না বোঝে
আজও পাগল হৃদয় শুধুই তোমাকে খোঁজে ।
আজি জল ভরে যায় দু ‘নয়নে
তোমাকেই শুধু দেখি শয়নে স্বপনে ।

তোমার প্রেমে মোর হৃদয়ে বিরহ গড়িয়া
এমনি ভাবে হৃদয় রহিয়াছে অনলে পুড়িয়া ।
প্রেম বাসনা কাঁদিছে বসি
হৃদয় শুধুই চাহে মো’দের ভালবাসাবাসি ।
প্রেমে আজ করিব তোমায় নিবেদন
আমার সমস্ত হৃদয় প্রাণ মন ।

একটা গান


চন্দনকৃষ্ণ পাল
-----------------

একটা গান মাঝে মাঝেই বুকের ভেতরটা ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়।
কার সুর, কার বাণী, কার কণ্ঠ
কিছুই জানা হলো না,
রাতের গহন প্রহরে কেবা কার জন্য
বাজায় কিংবা গায় গলা ছেড়ে,
জানা হলোনা কিছুই।

অনেকেরই কিছু চাপা দুঃখ থেকে যায় বুকের গভীরে
ছোঁয়া কিংবা ধরা যায় না,
দেখানো যায়না তার স্বরূপ
শুধু অবলীলায় এক অজানা অনুভূতি
তার প্রচন্ড শক্তিতে নিংড়ে নেয় বুকের ভেতর।

রাতটা যখন তার নিজের মতো হয়ে যায়,
টহলদারের বাঁশী যখন থেমে আসে
পাহারাদার কুকুর যখন ক্লান্তিতে নেতিয়ে পড়ে
রাত চরা পাখিদের কণ্ঠও যখন মিলিয়ে যায়
ঠিক তখনই একটা গান বেজে ওঠে,
কণ্ঠে নাকি রেকর্ডে বাজে, বুঝিনা-
শুধু বুঝি গানটা ছুঁয়ে যাচ্ছে বুকের গভীর প্রদেশ
একজন মানুষের অজান্তেই দুচোখের কোণে
জমে দুই ফোটা জলে।

সুরতহাল

দেবশ্রী চক্রবর্তী
------------------
অগ্নি দগ্ধ পচাগলা বেআবরু দেহ,
লোলুপ দৃষ্টি গুলির চেটে পুটে স্বাদ নেবার যে এসময় ..
হাজার অশ্রাব্য ভাষা কিংবা অগ্নি চক্ষু অবজ্ঞা করে এরা দাড়িয়ে আছে ।

সন্তান হারা পিতার আর্তনাদ,অনাত্মীয়া বেণু পাগলির হাহাকার....
গাছের ডালে বসা দাড় কাকটির দিকে এক দৃষ্টে চেয়ে আরেক পিতা ,
আজ তার আবার ডাক পরেছে সুরতহাল করার ।

মনের আবেগ অনুভূতির দরজা গুলো সব বন্ধ করে কোন ক্রমে
পচাগলা খোলসটি পরীক্ষা করে রিপোর্ট দিয়ে বেরিয়ে আসলেন ।

বাড়ি এসে একটি কথা শুধু মুখে ফোটে...
এ কি দুর্দশা নারী তোমার এই দেশে,
এ হাহাকার এক পিতার বুক থেকে
তার ঘরেও যে এক কন্যা সন্তান আছে।

শুক্রবার, ২৫ জুলাই, ২০১৪

পারমিতার এক সকাল

অনুপ দত্ত
________

এক একটা ভোর আমাকে
সুগন্ধ এক নীল সুআধরে নেমন্ত্রন পত্র দিয়ে যায়৷
আজ এসেছিল পারমিতা৷
পারমিতা কোন নতুন নাম নয়
প্রকৃতির সাথে আত্মলীন এক জিতি-জাগতা শরীর ছায়া,
যেমন কবিতার পঙক্তিতে রোজ তুলে আনা রজনীগন্ধা কায়া৷
যার সুবাস চির পুরাতন
কিন্তু সকালে নতুন হান্ডসাম সূর্য্য এলে রোজ নবনীতা হয়ে যায়৷
পারমিতা,
রোজ এই বিজ্ঞাপনে ঢেকে যাওয়া
শরীরে কি দহনের উৎস লেগে থাকে৷
সবাই ইতিহাস ভেঙ্গে জ্যোৎস্না প্রার্থনা করে…. কিন্তু
দিনশেষে সে এক নির্মল শুন্য
সুবিধেবাদীর পাঁচালী উঠে আছে
অবশিষ্ঠ রয়ে যায় সারা রাত৷
সারা রাত সেই শাল সেগুনের জঙ্গল বনে
এ পাশ - ও পাশ হেঁটে যেতে হয়৷
পারমিতা,
তোমার সুগন্ধ নীল খামে কি রাখা থাকে৷
জানো
জীবনীবাদের এক সঞ্জীবিনী রোজকার সেই আদি সুখবন্যার মতো
নীল বহতা জ্যোৎস্না ভাসিয়ে দেয়৷
আর,আমরা বেঁচে থাকি ৷




প্রার্থনার হাত তুলে ধরি

ওয়াহিদ জালাল
______________

ভয় নেই, এমনিতে চোখ মুদে রাখি,
বে-আব্রু হতে দেখি হাওরের জলে বাতাস
তাই কষ্ট হয়, চিৎকার করি আকাশের
দিকে, ভাবি, আমার প্রভূ আমার প্রশ্নের
উত্তর দেবেন-কোনএক আনন্দ নিঃশ্বাসে ।

রাত জেগে ঘামের বিন্দুগুলোকে দেখি,
দু’জনের ঘাম যখন এক হয়ে যায় শরীরে,
হিসেব মিলাই, কোনটি তোমার আর কোনটি
আমার শরীরের, পাশেই অন্ধকারের শরীর
কুমুদ ফোটায় কবিতার চয়নে শতাব্দীর ।

আমিতো পারিনা, প্রতিরোধ গড়ে তুলে
জোছনার শিশু, কোন এক আমন্ত্রণ কবুতরের
মতো নড়ে ওঠে বুকের গভীরে, তার রক্তাক্ত
নখ সুগন্ধি কেশের মতো আগলে ধরে,
যদিও জানি অন্ধকারে স্বপ্নের কোন মানে হয়না
তবু নিরুপায় আত্মার দহন করুণাময় ঠোঁটে আনে ।

তুমি আজ আমাকে গোপন করে রাখো তোমার
নিঃশ্বাসের আড়ালে
বহুদূর আকাশের দরজা অব্দি খুঁজে পাবো
তোমাকে হাত বাড়ালে ।

মহাশুন্যে যাও



কৌশিক ব্যানার্জি
..................................................................................................................................................................

তুমি কি ওপরে উঠেছো , অনেক,
ক্রমশঃ
কাছে যাওয়া যাবে না তোমার -
ভেদ করে যাবে বুঝি
দৃষ্টির সীমারেখা ।
ভাবছো যাবে নাকি মহাশুন্যে ?
যাও দেখি তবে
পেরিয়ে যাও না দেখি মেঘেদের দেশ
তোমাকে টানবে না কেউ আর
মাধ্যাকর্ষণ কোনও
যাও মহাশুন্যে, ওলট পালট খাও
হারাও নিজের ভার
টের পাবে সেখানে, নেই
কোনো ওপর কিংবা কোনো
নীচ ।।

বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০১৪

যে মাটিতে নাড়ি পোতা আছে


মোসলেহ উদ্দিন বাবুল
------------------------
কারুময় পত্রাবলী, কমনীয় কানের লতিতে,
দুলে ওঠে, দোল খায় মায়াবী চাঁদের মতো
ঝিরি ঝিরি সুস্মিত হাওয়ায়;
ছলকানো সুন্দরের ফাঁকে নীলাকাশ
আদিগন্ত পেঁজা ছেঁড়া মেঘ
পাখীর পালক হয়ে শুভ্রতা ছড়ায়:
নির্মেদ দীর্ঘদেহী নিম, অভ্রভেদী বাড়ন্ত ঝালর
ওখানে আমার আদি নাড়ি পোতা আছে ।
যেখানেই যাই ----
যত দুরে, দুর পরবাসে --- --
মাটি ডাকে, নাড়ি টানে আয় আয় বাতাসেরা ডাকে
আমি তো চাইনা যেতে ফিরে যেতে ,
পূণরায় বৃত্তাবদ্ধ ছকে ;
তবুও আকাশ ডাকে, একখন্ড ছেঁড়াকাশ,
কারুময় পত্রাবলী, সাদা মেঘ, নিম ---
পাখির পালক হয়ে মায়াবী অতীত ডাকে
স্বর্গ-মর্ত সর্বব্যাপী আহবান ছড়ায় ,
মাটি ডাকে, নাড়ি ডাকে, শিকড় ছড়ায় ---
প্রাণ কি এভাবে থাকে মায়াময় ছত্রতলে !
আকাশ কি খন্ড হয়ে ছলকে ওঠা সুন্দরের টানে
যুথভ্রষ্ট হয় !
ফিরে কি যেতেই হবে !
ফিরে কি যেতেই হয় ছেড়ে আসা বৃত্তাবদ্ধ ছকে !

নিয়মতান্ত্রিকতায় অমানবিকতা


সুমা জায়গীরদার
------------------------------------------------------------------------------------------------------------

আতঙ্ক তাড়িত হৃদয়ে অন্ধ কুঠুরিতে বসবাস
অর্গলের অনাস্থায় পরিপাটি বিছানায়-
কোলাহল মুখরিত নগরীর ডাউন টাউনে
সর্বক্ষণ লম্বমান
শুয়ে থাকা আলো আঁধারিতে
স্বজনের পীড়াপীড়িতে অন্ধকারে দ্রিমি-দ্রিমি
কবরের স্তব্ধতার মরুময় ছেড়া নাভিমূলে
একটি সাজানো স্বপ্নের ক্রমাগত বিনাশ হয়।

একটি তামাটে দুঃখ একটি লৌহ ইষ্পাত
খন্ডের মতো,
সমস্যা কবলিত নগরে, খাদ্যের দোকানে
কেজি স্কুলের সামনে, আমার অফিসেরটেবিলে
দরগাহ শরীফের গোরস্থানে, নগর ভবনের
উচ্ছল গেটে ক্রমশঃ সেঁটে যায়...
কখনো প্রাঞ্জল, আবার কখনো দুর্গন্ধময় বর্জ্যে
হয়ে উঠে ধ্বংসের রাজ হাঁস;
বিনষ্ট হয় খাটের জাজিম,
সূর্যের আলো ছিটকে লোকান্তরিত হয়
নীলিমার নীলে।

একটি স্বপ্নীল সুখ, মানুষের কাছে সব
চেয়ে মানবিক,
কিন্তু নিয়মতান্ত্রিকতায় জেগে উঠে না
কখনো খিলখিল শব্দে।

অভিমান

হোসনে আরা হেনা
---------------------
দে না মা বাক্স-পেটরাগুলি বেঁধে সম্বল যা আছে
সঞ্চয়ে সবকিছু গোছগাছ করে সাজিয়ে দে আমায়
এই ঘর ছেড়ে এক্ষুণি পালাবো আমি!

রইলো পড়ে তোর এই বিরান শস্যের মাঠ, বিবর্ণ ফুলকলি,
ঝর্ণার মরাস্রোত ধারা, অথই নদীর ভাঙ্গনের কাছ থেকে
এখনি পালাবো আমি

থাক পড়ে তোর পোড়োবাড়ির মত শ্যাওলা জমে থাকা
কীর্তি স্তম্ভ! আর ভুলেও রাখবো না হাত তোর রক্তে লেখা ইতিহাসের
সুবর্ণ পাতায়

এই হাতে আর আগের কোমলতা মাখা নেই জানিস, কলঙ্কের
কালি তুই তো দিয়েছিস মেখে! মানুষের খুনে রঞ্জিত আজ এই হাত খানি

এই চোখে আজ মমতার ফল্গুধারা নেই জানিস, তুইই দিয়েছিস
সেখানে জ্বেলে হিংসার দাউ দাউ অনল!
এই নিঃশ্বাসে শোনা যায় আজ শুধু গোখরার হিস্‌হিস্‌ ধ্বনি!
তুইই দিয়েছিস মনুষ্যত্বের গায়ে পরিয়ে আমাকে অপমানের
এই অমানবিক লেবাস!

মাথা তুলে তুই বাঁচতে দিসনি আমাকে স্বাধীন একটি দেশে
মৌলিক অধিকারগুলো নিয়ে।
তুইই করেছিস পীড়িত তাকে রুগ্ন অস্থির বেপরোয়া
দিসনি তুলে মুখে স্বস্তির এক শিশি ওষুধের ফোঁটা।

যে সন্তানকে কিছুই দিসনি তুই সে তোকে আর কীভাবে পরাবে
সোনার অলংকার?
তোর মুখে কীভাবে সে বিষের বদলে তুলে দেবে স্হিত হয়ার
অমৃত সুধা?

অমানুষ ভীরু সন্তানের সব ব্যর্থতাকে তো জননীকেই বইতে হয় জানি!
কলঙ্কিত মা আমার, কেন জন্মালাম তবে তোর এই নিরাশ্রয় ক্রোড়ে
কেন তোর গর্ভাশয়ে নরম ভ্রূণকে বড় হতে দিলি?
কেন অন্ধকার জঠর থেকে টেনে আনলি তাকে একটি সূর্য্যের
অমল আলোয় মানুষের মুখাবয়বে?
তারপর বিমাতার মত লালন করলি তাকে অনাদরে অবহেলায়।
যার গায়ে আপন মহিমার কোন চিহ্নই নেই যেন!

নেপোলিয়ন যে মায়ের কথা বলে গেছেন তুই কখনো একজন
ভালো মা হতে পারিস নি
ভালোর কোন গুণাবলীই আজ নেই অবশিষ্ট তোর এই ঘূণে ধরা
শীর্ণ শরীরে।
নিজগৃহে যখন পরবাসী আমি তবে অন্যের ঘরেই না হয়
হই অভিবাসী
এই আত্মপীড়ন এরচেয়ে অনেক বেশী সহনীয়!
তাই বেঁধে দে বাক্স-পেটরাগুলো আমার, এই দুঃসহ
ঘর থেকে আমি এক্ষুণি পালাই!
.

ঘুমিয়ে আছেন শুভবোধের ঈশ্বর


নাজনীন খলিল
------------------------------------------------------------------------------------------------------------
রক্তলোলুপ ডাইনির কন্ঠে উচ্চারিত হয় কী প্রচন্ড দম্ভের বাণী !
---হ্যাঁ আমরা ওদের হত্যা করবো। হত্যা করা হবে ওদের মায়েদেরও।

কোথায় তুমি শুভবোধের ঈশ্বর?
কবে ভাঙ্গবে তোমার এই মরণঘুম?

সাম্রাজ্যবাদের থাবার নীচে ঘুমন্ত বিবেকের ঈশ্বর।
পিশাচের পায়ের নীচে সভ্যতা ঘুমায়।আর
শয়তানের প্রবল-প্রতাপ আরেক ঈশ্বর জেগে থাকে গাজার পশ্চিমতীরে
বারবার পূতিগন্ধময় কফিনের ডালা খুলে ডেকে তোলে ঘুমন্ত ড্রাকুলাগুলোকে।
খুব পিপাসার্ত তারা। শিশুরক্ত ছাড়া তাদের পিপাসা মেটেনা।
মায়ের গর্ভাশয়ে লালিত হচ্ছে যে শিশুর ভ্রুণ, তাকেও
হত্যা করছে তারা ; গ্যালন গ্যালন রক্ত টেনে নিচ্ছে
পচাগলা ঠোঁট ও ধারালো দাঁতের ফাঁকে। তবু তাদের পিপাসা মেটেনা।

মৃত্যু উপত্যকায় প্রাণভয়ে কম্পিত ওই  শিশুদের ভীতমুখে ফুটে উঠে
আমার সন্তান, আমার উত্তরাধিকারির প্রতিচ্ছবি ।
অবিরত তীব্র ব্যাথার ছোঁবলে ফালি ফালি হচ্ছে হৃৎপিন্ড।

এই শিশুকন্ঠের কান্না-আর্তনাদগুলো বাতাসের কালো পরমানুর সাথে মিলেমিশে
ঘোর অন্ধকারে ঢেকে দিয়েছে পৃথিবীর মুখ। কি করে মুছবে এই কলংককালিমা?

কবে ঘুম ভাঙ্গবে মানুষের? মানবতার? আদৌ ভাঙ্গবে কি?
অপেক্ষায় আছি---জেগে উঠো শুভবোধের ঈশ্বর। জেগে উঠো মানবতা।

অনুভবে অনুভূতি >< সুমা জায়গীরদার


সুমা জায়গীরদার
================================================================================================

চাইবোনা আর ভূল করে
কখনো এই তোমাকে -
চাইলে কেবল 
হারিয়ে যায় ...

ডাকবোনা আর বুকের ভাষায়
অযুত ডাকে মন গলেনা -
দূর অজানায় মধ্য পথে
মিলিয়ে যায় ...

আঁজলা ভরে নদীর জল
নিতে গেলেই আপন করে -
জানিনা সে কার পিপাসায়
ফুরিয়ে যায় ...

বলবোনা এই তোমাকে ভালোবাসি
ভালোবাসা নেই তোমাতে -
কষ্ট কেবল হৃদয় মাঝে
থেকেই যায় ...

স্মৃতির গল্প

 মোসলেহ্ উদ্দিন বাবুল
------------------------
সৈয়দ স্যার স্কুলের হেড টিচার । লম্বা, শুকনো, হাসতে না জানা সাদা পান্জাবী পাজামা পরা মানুষটা, কিন্ত অত্যন্ত দৃঢ়চেতা একটা ভাব ফুটে থাকতো অবয়বে । এমনটা আমি কখনো দেখিনি আর । শুভ্র শশ্রুমন্ডিত নুরু পন্ডিত স্যার, বার্ষিক স্যার, কালো কোলো সদা হাস্য হুজুর স্যার আর লম্বা সুন্দর হুজুর স্যারের উপর তার সাবলীল প্রভাব দারুন স্বস্থিদায়ক একটা পারিবারিক আবহ ছড়িয়ে দিতো স্কুলের সমগ্র বলয়ে । এই ছিলো চরশুভী ফ্রি প্রাইমারী স্কুল, আমাদের ‘বোড স্কুল’ । স্কুলের পাশ দিয়ে লম্বালম্বি একটা রাস্তা চলে গেছে চরখলিফা মাদ্রাসার সামনে দিয়ে মাঝির হাটের দিকে, কিন্তু ঐ রাস্তাটা আমরা ব্যবহার করেছি খুবই কম । বাজার থেকে কাচারীর সামনে দিয়ে ধানক্ষেতের আলে আলে সোজা স্কুলের পুকুর পার । লম্বা টিনের তৈরী স্কুল ঘরে লাইব্রেরীর সামনে দিয়ে স্কুল বারান্দা ধরে আমাদের ক্লাশরুমে পৌঁছে যেতাম । ক্লাশ ফোর । আমার প্রথম ক্লাশ । এর আগেও স্কুলে গিয়েছি, তবে সেটা ছিলো আপার স্কুল, দৌলৎখাঁ গার্লস প্রাইমারী স্কুল । গফুর মিয়ার পুরোনো নুনের কারখানায় ছিলো স্কুলটা । আপার সাথে যেতাম, তবে পড়ার টানে না, স্কুলের গানের টিচার ‘বোরকা মাষ্টার’ আর থানার বড় দারোগার শ্যালক অরবিন্দ’দার জন্য । ক্লাশ শেষে, কখনো বা ক্লাশ বন্ধ রেখেই বোরকা মাষ্টার টেবিলে হারমোনিয়াম রেখে, তা বাঁজিয়ে মেয়েদেরকে গানের প্রাকটিশ করাতেন । ছোটখাটো টিংটিঙে কালো গানের স্যারের বোরকা (পোকায় খাওয়া) দাঁতের হাসি আর হাটুয়া ধূতি দেখতে ভারী মজা লাগতো আমার । টেবিলের সামনে লাইন কর দাড়াতেন আপারা, খুকু আপা, নাজু আপা, অঞ্জলী দিদি … । ‘মূক্তির মন্দির সোপাণ তলে’, আর ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’, গান দুটোই বেশী শেখানো হতো । ঐ স্কুলের হেড টিচার খালেক স্যারও (আমার সম্পর্কিত মামাও) প্রায়ই জয়েন করতেন গানের ক্লাশে ।
আর অরবিন্দ’দা শোনাতেন গল্প, রূপকথার । মাষ্টারের মতো টেবিলের পেছনের চেয়ারে বসতেন, আমরা বসে যেতাম তার তিনপাশ ঘিরে, হাই-বেঞ্চ, লো-বেঞ্চ এবং টিনের বেড়ার জানালায়।
অক্ষর জ্ঞান কিভাবে হয়েছিল মনে পড়েনা , তবে দস্যু মোহন, দস্যু বাহরাম আর টেক্সীর ড্রাইভার টাইপের বইয়ের পোকা ছিলাম । অবশ্য বইগুলির মূল পাঠক ছিলেন আমার আপা, আমি নিতাম সাবলেট । আমার স্কুলে (চরশুভী) ভর্তির আগের কথা এগুলো । আমিতো স্কুলে প্রথম ভর্তিই হয়েছি ক্লাশ ফোরে ।
এমন দিনেই পাকিস্তান-হিন্দুস্থানের যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলো কাশ্মীর নিয়ে । স্কুলের ফাংশানগুলিতে আজাদ কাশ্মীর নিয়ে জারী আর কোমরে টিনের তলোয়ার ঝুলিয়ে মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়াটা জবরদস্ত আনন্দের ব্যাপার হয়ে দাড়ালো আমাদের মতো শিশুদের কাছে । তখন প্রায় সাত বৎসর বয়স আমার ।

শিশুর মুখ তো যিশু

 (ফিলিস্তিনের রক্তাক্ত শিশুদের উৎসর্গ করে)
 
শাহ ইয়াছিন বাহাদুর                                                                                                                                   -------------------------------------------
পুষ্পের মুখে কেন কর তাক অস্ত্রের সংগ্রহদেখ বৃদ্ধ, শিশু-কন্যার বেঁচে থাকা দুঃসহ পুষ্পের মত শিশুর বুকে থামুক রক্ত ঝরাশিশু হত্যার সন্তাপে নয় কাঁপবে বসুন্ধরা-শিশুদের মুখ চন্দ্র-তারা ও মুখ রক্তে মানায়? জেনো বৃক্ষ দেয় অভিশাপ শিশুর রক্ত দানায়যে শাপ সমূল ধ্বংশ করেছে অতীতের বদমাশথামাও কামান স্বস্তি দেখুক শিশুদের নিঃশ্বাস।ইতিহাস যারা করে চর্চা শিক্ষা তারাই নেয়রক্ত ঝরানো নির্দয় হাত প্রকৃতি মুচড়ে দেয়তারাই সবুজ করবে বিশ্ব যারা নির্দোষ শিশুদোহাই থামাও শিশু-হত্যা শিশুর মুখ তো যিশু। 
                                   

আবর্ত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি

 <> শিবানী শর্মা
---------------------------------------------
একটা আবর্ত থেকে ক্রমশই বেরিয়ে যাচ্ছি
বেশ বুঝতে পারি...
জীবনের নিজস্ব ছন্দে - তালে
নিজেকে আর মেলাতে পারিনা
স্পষ্ট-অস্পষ্টের তারতম্য
এখন ক্রমাগত দীর্ঘ হয়ে যায়
অসহায়তার,অক্ষমতার
একটা সুক্ষ্ম বোধ
নিরন্তর খেলা করে
‘ফিরে যাবার’ সেই
নিশ্চিত সংকেত
এখন কোষে কোষে ছড়িয়ে পড়ে
তবে ঈশ্বর ছিলেন সাথে, থাকবেন
এই গভীর আশ্বাসনই শুধু বেঁচে থাকে
আমি বুঝতে পারি...  

সব পথ এসে ::

ফকির ইলিয়াস
----------------------------------
চাইনি যদিও,তারপরও দেখা হয়ে যায়। তোমার
সড়ক এসে মিশে যায় আমার রাজপথে, মৃদুভোর
ডেকে বলে তুলো হাত । ডাক দাও প্রতিবেশী জন
মানসের রক্তিম বিভায়।
অনুক্ত আঁধার কেটে বয়ে যে ঝরণাধারা
কিংবা পথের বিলবোর্ড পড়ে যে মন চায়
ফিরে আপন আয়নায়,তার কি পরিপূরক
কোনো গন্তব্য থাকে ? হয়তো থাকে না।
না হলে এমনভাবে পথে পথে
কেন হবে সব লেনা-দেনা !                                                                                    

দু'হাত তুলে শব্দ বলে, আমি আছি

অনুপ কুমার দত্ত
______________________________

শব্দ বলে আমি আছি
দু হাত তুলে বলে, আমি আছি৷
শব্দের অনুরননে পৃথিবীর স্থল কাঁপে
পৃথিবীর শব্দ জাগে, কাঁপন ভেঙ্গে জীবন
পৃথিবী বলে আমি আছি
আমার ভেতরে আমি শব্দের আল্হাদে বলে
আমি আছি৷
কোথায় তুমি জীবন৷
শব্দ রঙ্গ হয়ে ঝুলে পড়ে আঙ্গিকে
শব্দের শব্দ ভাঙ্গে জন্ম নেয় বিপরীত
আঁধার ভেগে আঁধার আসে
শব্দ ঘন হয়ে শব্দের আল্হাদে জাগে কিছু প্রেম৷
জীবন তুমি কি হারালে!
সঠিক শব্দ সঠিক শব্দের জন্ম নেয় প্রেম
জন্ম নেয় যুক্তাক্ষর
উচ্চারণে স্নেহ এসে শব্দ লহরী ঢেউ তোলে৷
কোথায় লয়
কোথায় রঙ্গ
কোথায় ভাসে পৃথিবী
শব্দের শব্দে ভাঙ্গে..ভেঙ্গে যায় বাঁধন
শব্দের ভাঙ্গন৷
শব্দ বলে আমি আছি
দু হাত তুলে বলে, আমি আছি৷
_________________________________
থানে/পরিমার্জিত/২০১৪/রাত-১১টা                                                          

হাড্ডিসার কঙ্কাল অনিশ্চিত মৃত্যু



কামরুন নাহার রুনু
------------------------------------------------------------------------------------------------------------

ওরা কেবল মানুষের গড়ন
ওরা বন্দুকধারী শকুন
ওদের বন্ধুকের ফলা যেন, শকুনের থাবার মত ঠোঁট
ওরা দেখতে মানুষের অবয়ব, তবে আচরনে
শকুনের চেয়েও অধম।
ওদের রাক্ষুসে খিদা ধরে ধরে পাখির মত
নিষ্পাপ শিশুদের মাংস খাচ্ছে।
চিনাবাদামের মত এক একটা জলজ্যান্ত জীবন
চিবিয়ে খাচ্ছে।
হুটহাট ধ্বংসানো নৃত্যে ওরা ফুলানো বেলুন
ফুটানোর মত নাশ করে যাচ্ছে
এক একটা সদ্য জন্ম নেয়া জীবন।
কুঁকড়ে যাচ্ছে মানবতা, মৃত্যু হচ্ছে মনুষ্যত্ববোধের।
যে শিশু জন্ম নিল এই মুহূর্তে,
পৃথিবীর আলো দেখার সাথে সাথেই
সাদা কাফনে দাফন হতে হচ্ছে তার।
ইফতাররত বৃদ্ধার যখন মাথার খুলি উড়ে যায়
তাদের আক্রমনে, আর হায়নার দল উম্মাদ উল্লাসে
প্রকান্ড চোয়ালে গিলে মানুষের হাহাকার।
আজ বহমান জলের ভেতর
মরুভূমির বালুকণায়
আবাল, বৃদ্ধ, বনীতার রক্তের রঙ
চিক চিক করছে।
ওরা নিসিদ্ধ স্বাধীনতায় দুর্ধর্ষ শিকারি
ওদের মৃত্যুদণ্ড হোক, ওদের পতন হোক।
একবার শুধু কাছ থেকে নিজের মৃত্যুকে অনুভব করুক
একবার জানুক, ওরা যে বিষ ভরা হাতে নিষ্পাপ মানুষের
মরনের ডাকে এতটা নিষ্ঠুর, শুধু একবার নিজের মৃত্যুকে
খুব কাছ থেকে অনুভব করুক।
ওরা মানুষের নামে খোলস পালটানো পশু চরিত্র।
এখানে প্রতিমুহূর্তে মানুষের বিক্ষিপ্ত চিৎকারে
আতঙ্কিত নিঃশ্বাসে আলোর মৃত্যু হচ্ছে।
জীবনের নিঃশব্দ কড়াঘাতে
এখন কেবল চারদিকে নির্বিকার হতাশা
অন্ধকারে নিষ্প্রভ শূন্যতা ;
জীবন মানেই এখানে হাড্ডিসার কঙ্কাল অনিশ্চিত মৃত্যু।
               
UA-53225896-1