বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৫

পুলিন রায় >< তোমার বজ্রকণ্ঠ


পুলিন রায়
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
তোমার বজ্রকণ্ঠ
(বঙ্গবন্ধুর ৯৬তম জন্মদিন নিবেদনে)
এই মার্চে-
আকাশের রঙ আরো উজ্জ্বলতর হয়
ইতিহাসের রক্তাভ রঙে
এইখানে এই ব-দ্বীপে একদিন
গর্জে উঠেছিলো তোমার বজ্রকণ্ঠ-
'এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম'
আঁচড়ে পড়ে উত্তাল ঢেউয়ে
ছড়িয়ে যায় যোজন যোজন দূরে
প্রশান্ত মহসাগরের বিক্ষুব্দ উর্মিমালায়...
অযুত -নিযুত প্রাণে স্পন্দনের ঝর্ণা বয়
মধ্যগগনে রৌদ্রতপ্ত পীচঢালা পথে
ছড়িয়ে পড়ে আগুন...
বাঙালির রক্তে ফুটে টগবগে যৌবন
তোমার বজ্রকণ্ঠ ছড়ায় ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলে
বাঙালি পায় নিজস্ব ঠিকানা
আর লাল সবুজের পতপত শব্দে
বিস্মিত হয় বিশ্ব...

শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০১৫

অস্থায়ী কোলাজ -১ >< চন্দন কৃষ্ণ পাল


চন্দন কৃষ্ণপাল
________________________________________________________________________________
অস্থায়ী কোলাজ  -১
দহন বুকের গহনে
শিখা অনির্বাণ যেনো  -
অথচ শীতলতা বিষন্ন হলো
আঙুলের শুদ্ধতার মতো ।

কতো কিছু হয়ে যায় অজান্তেই, মুহুর্তেই  -
অগ্নুৎপাত ঘটে যেতে পারে কোন নিরীহ স্থাপত্যে ।

ভুল ভাবনার স্রোতে শরীর ভাসানোর দিন
আজ হলো প্রমানিত শ্লোক,
আবৃত্তিক মোহ নেই আর
নিরব পাঠের উৎসব হোক
তারপর ................. ।

অস্থায়ী কোলাজ - ২
শূন্যতায় তৈরী মহল
এভাবেই ভেঙে পড়ে জেনেও
মাপ-জোক, অংকনের আয়োজনে
পূর্ন করো বসন্তের দিন,
সংগ্রহের ব্যস্ততায় ঐ চাঁদমুখে মাখো
মলিনতার তীব্র মায়াজাল ।

কে আর ছিন্ন করে,
কার এত বাহুতে আগুন ?

স্বপ্নময় জ্যোস্নায় অবগাহন হলো
ঢেউময় সৈকতে কত পদছাপ
উত্তুঙ্গ পাহাড়ে কতো ফেলে আসা দিন ।

শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০১৫

কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর দু'টি কবিতা



তার ভুলে যাওয়া এমন একদিন হঠাৎ 
------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
তার জন্মদিনে আমাকে ডাকবে বলেছিলো সে
এই কথা তাকে কি করে মনে করাবো ?
অনুপস্থিত কাউকে উদ্দেশ্য করে
কবিতা বা কিছু লেখা আমার পছন্দ নয় ।
শুধু আজও আমি ডিসকাউন্ট‌ কুপন খুঁজি ...
আর কথা বলার সময় আমার কপালে ভাঁজ পড়েনা আজকাল তেমন
তাই, আমার আগুনহীন দৃষ্টি আরও নিস্প্রভ লাগে নিশ্চয়ই
এরই মধ্যে এমন একদিন হঠাৎ ,
আমার নিজেরই পুরনো কবিতার মধ্যে দেখি
সে বসে আছে
যার আমাকে জন্মদিনে ডাকার কথা ছিলো ।।






শেষ প্রহরিণী
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমাকে যেন চায় এই রাত্রিগুলি
তাদেরও দাবী আছে এই সত্তার ওপর
শেষ প্রহরিনী যেন বলে
"সারাদিন এতজনকে দিলে এত কিছু
যেতে যদি চাও সকালের দিকে
যাবার আগে আমাকেও কিছু দাও"
তাই বুঝি রাত রাত
জেগে শুয়ে , বসে থাকা , উঠে পড়া
মোবাইলে নীল এল সি ডি - যেন স্পেস শিপ
..................বারোটা কুড়ি
কবিতার পাঁচ ছয় লাইন রাস্তা হাঁটলো কিছুক্ষণ
তারপর একটা চল্লিশ --
সে আমাকে গান শোনায় - - -
--- শব্দহীন রেডিওয় মেহেদি হাসান
কতযুগ হয়ে গেছে প্রেম গেছে চলে
বিরহের দুঃখ ও পায় না আজকাল ব্যর্থ প্রেমিক
এই গান সঙ্গী হলো , তারও পর
আমি কোথায় ?
আড়াইটে -- কেউ নেই , আমি একা
শুধু উষ্ণ রাত্রির রাস্তা আর ফ্রিজের ঠাণ্ডা জল
কখন যেন দাঁড়িয়ে পড়ে শেষ প্রহরিণী
........................আমি হারিয়ে যাই ।।


শামসুল আলম সেলিম এর দু'টি কবিতা


তোমার সুখের জন্য
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
কষ্ট চেঁপে রাখি-দুরে দুরে থাকি,
একদিন ফাগুন বাতাস
একদিন চৈত্রের দহন ।
ভর মৌসুমে হাতভর্তি শুন্যতা নিয়ে দাঁড়াই,আমি একা,
তার পর মেঘেদের আনাগোনা-
ঝড়ো বৈশাখ ভাঙ্গে লালিত স্বপ্নগুলো
সামনে পেছনে কেউ নেই,শুধুই শুন্যতা,
বৈশাখ আবার কারও কারও উদোম জমিনে
তুলে দেয় অঢেল পলি...
নির্জনে দাঁড়াই,সব দেখি-
তুমি ভালো থাকবে বলে
প্রার্থনার হাত উপরে উঠাই
জীবনের হালখাতায় লিখে রাখি
স্মৃতিশ্রুতিতুল্য কোন এক দেনার হিসেব ।
বসন্তের সব রং শাসনহীন সম্পর্কের কাছে গচ্ছিত রেখে
নির্ভার হতে চাই ।
তুমি সুখে থাকবে বলে
তুমি ভালো থাকবে বলে
কষ্ট চেঁপে রাখি-দুরে দুরে থাকি ।






দ্বিধাহীন দূরত্ব
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
একটু আড়াল চাও,কতোটা আড়াল ?
কিছু সুখ চাই তোমার ?-কতোটা ?
তোমার বিরহ যেভাবে আমাকে স্পর্শ করে-
ঠিক সে রকম ?
বুকের গভীরে,যেখানে তোমার নাম লিখে রাখা-
একান্ত গোপন-ঠিক সে রকম ?
নাকি অন্য কোন ভাবে ?
তুমি’তো সবই জানো
আমার কাছে আড়াল মানে বুকের গহিন
আমার কাছে আড়াল মানে অসীম দিগন্ত
আমি কি এর’চে বেশি কিছু দিতে পারি ?
স্পষ্ট করে বলো কী চাই তোমার ?
শুধুই আড়াল না কি অন্য কিছু ?
যদি ভালো না লাগে-যদি ভালো না বাসো
তবে যাও, দিলাম তোমায় দ্বিধাহীন দূরত্ব ...

রবিবার, ৮ মার্চ, ২০১৫

উত্তরণ >< শশাঙ্ক শেখর পাল



উত্তরণ
--------------------------------------------------------------------------------------------------------
যাবার জন্য সাজাচ্ছি গুড়ি কাঠের ভেলা
জাবেদায় যোগবিয়োগ
টুকরো ভালোবাসার সুখ-দুখ
তুই এলি উজান বিছিয়ে আলোর জাহাজ
সামুদ্রিক উচ্ছাস
ভেসে গেল বালুকাবেলা
নিরাবরণ শঙ্খে ছোঁয়ালাম ঠোঁট
আবিশ্ব নিরাকৃতি প্রেম ছড়িয়ে যাচ্ছে উচ্চারিত অবয়বে ...

ফকির ইলিয়াস এর দুটি কবিতা



ভুল নিয়ে ভুলকথা
_______________________________________________________________________

ভুল বানানে লেখা তোমার কবিতা কিংবা ভুল
বানানে লেখা চিঠি- পড়া হয় না আমার।
ভুল করে যে চাঁদ ঢুকে পড়েছিল আমার বাগানে,
তাকেও আমি ফিরে যেতে বলেছি। ভুল সংস্করণে
প্রকাশিত অভিধান, ভাসিয়েছি যমুনায়, কিছু স্মৃতির
সাথে মিশিয়ে দিয়ে কিছু পুরনো অভিমান।

আমি সকল ভুলকথা'কেই আমার প্রেমের উপসংহার
জেনে, করেছি ভুলকাব্য পাঠ।ভুল উচ্চারণে,
যা লিখেছি তার মর্মার্থ এই - জগতে মহত্তম মানুষেরা
দীর্ঘ জীবন পায় না।
ভ্রান্তিবাদী'রাই শাসন করে দখলকৃত রাজপাঠ!




সম্প্রচারিত মনোচ্ছ্বাস
_________________________________________________________________________

আমি ক্রমশঃই রেখে যাচ্ছি উদগত উত্তরের ছায়া
এ ছায়া আমার নয় , এই ভোর - এই ভ্রূণের বল্কল
রেখে যাচ্ছি সব কিছুই । আর কবিতা হরণ করছে
আমার সময় । চেয়ে দেখছি
একটি চাঁদ ক্রমশঃ কালো হয়ে ভেঙে পড়ছে
আমার মাথার উপর , টুকরো অগ্নিগিরি
গেঁথে দিচ্ছে পালক , পৃথিবীর প্রথম ভূমিতে ।

নিচ্ছি না কিছুই। ভুল - ভালোবাসা- বৈশ্যতা
যাচ্ছে না কিছুই সাথে আমার।

ওরা থেকে যাচ্ছে অন্য কোনো চাঁদোয়ার নীচে
যেভাবে বর আর বধূ বেশে দু'টি প্রাণ
থাকে অভিষেকের অপেক্ষায় ...............

ভালবাসি বলে >< হালিম নজরুল


হালিম নজরুল
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি বাঁশপাতা ভালবাসি বলে
বিবর্ন হয় রংধনু রং পাতাবাহার ফুল।
আমি নুড়ী ভালবাসি বলে
বুকে বাসা বাঁধে হিমালয় পাথর?
আমি স্বপ্নের মাঝে হাটি
শুনীল শুভ্র বৈকালিক হ্রদের ধারে ।
আমি জল ভালবাসি বলে
সলীল সমাধী হবে আগুনের জলে !
রংধনু ভালবাসি জেনে
ক্রোধে ফেসে ওঠে দানবীয় রোদ
আকাশ থেকে খসে পড়ে ছাই
মেঘেদের শব।
আমি ভালবাসা ভালবাসি বলে
ঘৃণার অন্তরালে চলে অন্তদহন
আমি ক্ষমা ভালবাসি বলে
পায়ে পায়ে ধম্মঘটে আসে
দ্রোহের দল।
দ্রোহে বিদ্রোহে আমি কেবল
নরক ভালবাসি
ফুল ভালবাসি,ভুল ভালবাসি
ভুল করে বোধহয় নদী ভালবাসি।
আমি কুড়েঘর ভালবাসি বলে
অভিমানে মুখ ফিরায় শতরূপা ঘর
বিলাসী বন্দর ,
অতপর শান্তনা
কুড়েঘরেইতো সংখ্যাগরিস্টতা।

শনিবার, ৭ মার্চ, ২০১৫

তোমার বিবৃতি >< আহমেদ ছহুল


আহমেদ ছহুল
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
তবে কি তুমি, বসন্তকেই বলো যৌবন
তারুণ্য দেখলেই চিৎকার করে
বলো শক্তি।
আতুরের হা হুতাশ দেখলেই বলো বেদনা
কান্না দেখলেই বুঝে নেও দুঃখের
সূক্ষ্মতম প্রকাশ।
তোমার বিবৃতি বারবার কাছে টানে
প্রাণের কাছাকাছি পৌঁছে দেয়
কিছু না কিছু বার্তা ।
মনে আছে তোমার মুকুলের কথা
মুকুল বিশ্বাস, প্রিয় বন্ধু আমার
ফোন ধরেই কুশলাদি জেনে
ছোট করে বলে, রাখ বোকা
ফোনে কথা বলে কী
মনের সব ভাব নিংড়ে প্রকাশ করা যায়
সব কথাই কি বলে দেয়া যায় ?
মুকুল মাঝে মধ্যে চিঠি লিখে
পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা
স্বদেশ এবং স্বজাতির নানান কথা।
গোপলার বাসস্ট্যান্ড, মরমী সাধক শানুরের মেলা
রাস- উৎসব, দোলপূর্ণিমা , নষ্টালজিয়া ,রোমান্স
বাদ পড়ে না কিছুই ।
আজো তাঁরই লেখা '' সোনালী কাবিনের '' মতো চিঠি
ভালোবাসা ,আবেগ , একটু খানি ঘাটতি নেই
লিখেছে আমার প্রিয় স্বদেশে কত বীভৎস ভাবে
পেট্রল বোমা দিয়ে জীবন্ত মানুষ কে জ্বালিয়ে
ছাই করা হয় ।
তরতাজা মানুষ কেমন করে দিন-দুপুরে
রাস্তা থেকে গুম হয়ে যায়।
বিনা বিচারে কি করে মানুষ হত্যা করা হয় ।
কেবল স্বার্থের জন্য একটি জাতিকে প্রতিদিন
প্রকাশ্যে টেনে হিঁচড়ে বিভক্ত করে দেয়া হয় ।
লিখেছে - -
প্রিয় বন্ধু লিখতে যেয়ে বারবার ভিজে যাচ্ছে চোখ
বার্ন ইউনিটের চিৎকার,আমার রাতগুলোকে
করেছে ঘুমহীন ,বুকের ভিতরে চলছে তোলপাড়।
প্রিয়বন্ধু আমরা কি এমন কোন দেশ চেয়ে ছিলাম
যেখানে ভাই শত্রু হয়ে যাবে
ছেলে হারানোর ব্যথায়
মায়ের চোখে লেগে থাকবে অশ্রু
স্বাধীন এ বাংলায়।

আমার কথা >< ভাস্কর জ্যোতি বেরা


ভাস্কর জ্যোতি বেরা  
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
ভোর হয়ে এল
যাই, জানালাটা খুলে দিই
পুণ্য কিরণের সবটা না হোক
প্রতিভাসটুকু আসবেই
সেটুকু এলেই অনেক
ছোট্ট আমার ঘর
চাওয়ার কারণে যদি ফিরে যায়
বাতাসের নির্ঝর
বিষাদ আমায় ছোঁবে
বলবে – পাগল, ওরে
যা আসে সহজে নিতে হয় তাকে
নাহলে লুকায় দূরে
উদয়ভানুকে স্বাগত জানিয়ে
জীবনে বিনত থাকি
যাই হোক যেন তোমার আশিসে
জেগে থাকে শুকপাখি।

ক্ষমা >< শ্রীস্বপন চক্রবর্ত্তী



শ্রী স্বপন চক্রবর্ত্তী
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
তোমরা কতভাবে চেয়েছ
আমাদের স্বকীয়তাকে দিতে মাড়িয়ে
কতবার তোমরা আমাদের স্বপ্ন দলেছ পায়ে
চাপিয়ে দিতে চেয়েছ তোমাদের ভ্রান্ত ইচ্ছে সকল

তোমরা কতবার নিয়েছ
ছিনিয়ে আমাদের অর্জিত সম্পদ সহায়
কত কতবার তোমরা পাশবিক উন্মত্ততায়
ভেঙেছ, গুড়িয়েছ আমাদের প্রাণের বিশ্বাস, বুকের বল

তোমরা হার মানিয়েছ
হিংস্র পশুর স্বভাবকেও, তোমাদের অন্ধচোখ
বুঝে না মানুষের মন, ভালবাসা কি অন্তরের শোক
তোমাদের কাছে মূল্য পায় না মানুষের দুঃখ, চোখের জল

তোমরা নিজেরাই হেরেছ
মনুষ্যত্বের কাছে, বন্দী করেছো সুন্দরকে
কুৎসিত ভাবনায় করেছো নষ্টনিথর সপ্রাণ আত্মাকে
তোমাদের জীবনে সৎ ও সত্য নেই, সবটুকুই নিছক নিষ্ঠুর ছল

তোমরা চিরকাল করেছো চুরমার আমাদের আশা স্বপ্নপথ
আমরা তোমাদের ক্ষমাই করেছি সেই আমাদের বিজয়-রথ ।।

আনন্দিত ক্ষণকাল প্রজাপতি উড়ে যাওয়ার মত >< জয়ন্ত সরকার


জয়ন্ত সরকার
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
এমনি ফুলের রঙ্গে রাঙ্গানো হাওয়া
বাতাসে ফুলের রেনু,
পতঙ্গের পায়ে পায়ে ফলের জন্ম।
সুখ সুখ বাতাসে নীরবতার গাঢ় নিঃশ্বাস,
মন পথ হারায় নিষিদ্ধ ইচ্ছার গলি পথে
যেন দেখা হবে আমের মুকুলের ঘ্রানে,
নির্জণ দুপুরে।
মৃদু ভূমিকম্পের মত
বুকের ভিতর অজানা দৃস্টি কাঁপ
স্বপ্ন বুনি গাছের আঁড়ালে, ঘাসের সবুজে
কাঁধঘেষা আনন্দ শিহরণ ,
গরম নিঃশ্বাস লেগে পরিত্যক্ত লেপের ছোঁয়ায়
আলসে বসন্ত বিকেল,
আনন্দিত ক্ষণকাল ,
প্রজাপতি উড়ে যাওয়ার মত।

এখন আমি অন্যরকম >< মোসলেহ্ উদ্দিন বাবুল


মোসলেহ্ উদ্দিন বাবুল
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
এখন আমার বুকের মাঝে
আগলে রাখা কষ্টগুলো
ভীষণ রকম সুখেই আছে,
এখন আমি নিজের মতো
হাসতে পারি,
গাইতে পারি, হাঁটতে পারি
কান্না এলে নির্বিবাদে কাঁদতে পারি
বুকের কাছে জড়িয়ে রাখা স্বপ্নগুলো
ইচ্ছেমতো খুলতে পারি
গুটিয়ে নিয়ে রাখতে পারি
মাটির ঘরের দেয়াল ঘেঁষে
আঁধার কোনে ।
এখন আমি অন্যরকম
এখন আমার দরকারই নেই
শংকা-ভয়ের,
এখন আমি সুখেই আছি ,
কষ্টগুলো জড়িয়ে রেখে
ভালোবাসার নীল চাদরে
ভীষণ রকম সুখেই আছি ।

কষ্ট-স্বপ্ন-ঋণ >< সালু আলমগীর


সালু আলমগীর
-----------------------------------------------------------------------------------------------------
কোলাহল গিলে শাব্দিক ভুক
স্বপ্ন মাড়ায় রাত্রি শেষে
ব্যস্ত জীবন সকালের ঘ্রাণ
শুঁকে নেয় রোজ অচিন বেশে।
রোদচশমায় চাপা পড়ে থাকে
ভালোবাসাহীন স্বাপ্নিক চোখ
মেকি জীবনের দেয়ালে দেয়ালে
ঝুলে থাকে যত টিকটিকি-সুখ।
খুব কাছাকাছি থেকেও সবাই
যোজন যোজন দূর
একই রঙের আকাশের নিচে,
তবু কেন বাজে সমান্তরাল সুর।
নয়টা পাঁচটা অফিসজীবনে
সময়ের স্রোতে শুধু শুধু বয়ে চলা
স্বার্থের ঘামে ভিজিয়ে নিজেকে
কোন জীবনের নিরস গল্প বলা।
কোথায় হারালো সেই শৈশব
সবুজমাখানো দিন
দিন দিন শুধু বেড়েই চলেছে
কষ্ট-স্বপ্ন-ঋণ।

তোমার মেঘ বিসর্জন >< শাওন শান্ত


শাওন শান্ত
-----------------------------------------------------------------------------------------------------
যখন এই মন ভালবাসা হারিয়ে
ক্ষত বিক্ষত হবে
হারিয়ে ফেলবে তার রং রুপ
আর ঔজ্বল্য।
যেনো মাঝ রাস্তায় পড়ে থাকা
দুরন্ত বেগে ছুটে চলা
নিষ্টুর চাকায় পিষ্ট
কোন অভুক্ত শ্রমিকের বিভৎস লাশ।
সেদিন তোমার আকাশ
মেঘ বিসর্জন করে
মেতে উঠবে সোনালী উষ্ঞ রৌদ্রস্নানে।

UA-53225896-1