শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

জেনারেল ওসমানী >< অজিত রায় ভজন


অজিত রায় ভজন
---------------------------------------------------------------------------------------------------
লক্ষ কোটি বীর বাঙ্গালীর
শ্রেষ্ঠ তুমি বীর,
তুমি ছিলে তাই বলেতো
উচ্চ হলো শির।
এগিয়ে গেলো বাংলা আমার
তোমার দেওয়া পথে,
পাক হানাদার হটিয়ে দিয়ে
উঠলো বিজয় রথে।
বাংলা হলো স্বাধীন ভুমি
ধন্য তুমি জানি,
হাজার সালাম নিও তুমি
জেনারেল ওসমানী।

স্বাধীনতা >< মিশুক সেলিম


মিশুক সেলিম
----------------------------------------------------------------------------------------------------------
ভোর হতে না হতেই অসংখ্য মানুষের মিছিল,
দুঃখীনীর অশ্রুবিন্দু যেন ভোরের শিশির ।
রাস্তার ধারে অর্ধনগ্ন মা,
দূর হতে ভেষে আসা স্লোগান-
স্বাধীনতা এনেছি, স্বাধীনতা রাখবো ।
ও-দিকে এক দুর্দান্ত মুক্তিযোদ্ধা
তার যৌবনের সোনালী দিনগুলি খুয়ে,
সংসার আর বেকারত্বের বোঝা মাথায় নিয়ে,
বিড়বিড় করে বলছে এর জন্য যুদ্ধ করিনি ।
আমার বুকের গভীরের যন্ত্রনাগুলি
সহসা মুক্তি পেয়ে ছড়িয়ে পড়বে পৃথিবীর সমস্ত শহরময়।
তবেই আমার সুখ, তবেই আমার শান্তি।

একটা কিছু ঘটুক >< মেজু আহমেদ খান



মেজু আহমেদ খান
--------------------------------------------------------------------------------------------------
কান্না শোক আর হাহাকারে
ঘুম মানুষের হারাম,
তোমরা বলো শান্তিতে দেশ-
করছে মানুষ আরাম!
বোমাবাজ'রা সৎ মেধাবী
প্রত্যয়ন দাও নি-জে,
এর চে আজব সত্য বলো
আর এই দেশে কী যে!!
নিরোর বাঁশি তোমরা বাজাও
মানুষ মরে পোড়ে,
দেশটা কি ভাই শুধুই তোদের
রাষ্ট্র চালাও জোরে!!!
একটা কিছু ঘটুক নতুন
একটা কিছু ঘটুক,
মানুষ মারার ফন্দি সকল
চিরতরে হঠুক।

শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

শুধু কথা রাখনি তুমি >< মোঃমুক্তার হোসেন


মোঃমুক্তার হোসেন
--------------------------------------------------------------------------------------------------
চাঁদের সাথে কথা হয়েছে!
বলেছে সে-
সূর্যঋণ আজ রাতে অকাতরে বিলোবে না।
শুক্লপক্ষে নামাবে সে কৃষ্ণপক্ষের বিষাদ!
জ্যোৎস্নারা তাই আজ যেন
পোকায় খাওয়া কটকটে হলদেটে পাতা।
অতঃপর বিষাদ ছুঁয়েছে আমায়,
আমি ছুঁয়েছি তাকে।
চাঁদও রাখল কথা,
শুধু কথা রাখনি তুমি।
যদিও আজ চোখে ঘুম নেই,
তবুও
যদি ঘুমিয়ে পড়ি!
স্বপ্নকে বলেছি -
বিভৎসতায় স্বপ্নালোক ঢেকে দিতে।
তারপর হঠাৎই
ঝিমুনিতে,পা ফস্কে অতলে তলাতে থাকি,
দুলুনি ওঠে-ঠোটে অস্ফুট গোঙানি,
ঝাঁকুনি দিয়ে তবেই চোখ খুলি।
স্বপ্নেরাও কথা রেখেছে,
শুধু কথা রাখনি তুমি।
রাত করে পাড়ি দেওয়া পরিযায়ী পাখিদের বলেছি-
সঙীহারা পাখির মত একলা উড়ে যেতে,
কবরখানার একাকীত্বের মত তারাও একলা উড়ে কথা রেখেছে।
শুধু কথা রাখনি তুমি।
তাদের সুখসঙী এখন আর আমি নই।
বরং কষ্টসঙী ই বেশি।
আমার জন্য তাই তাদের আজ বিশেষ ছাড়।
ভরা যৌবনেও আজ তাঁরা ঝিমুবে!
তারা একাত্বতা জানালো যে আজ এ পাথর মনের।
অবশ্য কথা নিয়েছি ফিরে যাবে তারা স্বরূপে।
তারা তো শুধু একদিনের সঙী হয়েছিল!
সবাই ফিরে যাবে শুধু আমি রয়ে যাব যেখানে ছিলাম।
শুরুতেই আজ তারা তাদের অপুর্ব সব রূপ দেখিয়ে মনটা ভাল করতে চেয়েছিল।
আমি না করেছি,
আর বলেছি-
বিসন্নতার সাগরে ডুব সাঁতার ভুলা এখন এক ডুবুরি আমি।।

রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

ফকির ইলিয়াস এর তিনটি কবিতা





ফকির ইলিয়াস এর তিনটি কবিতা



চোখগুলো যখন আর আমার সাথে থাকে না

ফড়িঙের পাখাবদলদৃশ্য দেখার সময় হয়ে উঠে না আমার। চলে যায় বসন্ত,
বাসন্তী রঙের আভা রেখে বিদায় নেয় চৈত্র। খরার কথা মনে রেখে সাজিয়ে
রেখেছিলাম যে ছাতা,সে-ও ছায়া প্রদান থেকে বিরত থাকবে বলে ডাকে
ধর্মঘট। আর নগরে যারা ধার্মিক ছিল- তারা আমার পাপের বোঝা দেখে
ঘৃণায় ফিরিয়ে নেয় মুখ। পাপীদের প্রকৃত কোনো পথ থাকে না। তাই অন্ধ
হরিণের মতো উঁকি দিতে গিয়ে দেখি, চোখগুলো আমার সাথে নেই। ভাবি,
এই চোখ দুটি কী আমার ছিল কোনোকালে ! যদি আমারই হতো- তাহলে
এতো সত্য আমি কেন দেখতে পেলাম না!কেন আঁকতে পারলাম না কালিক
প্রস্থানপ্রবাহ রেখা।
#


পরলোকগত দৃশ‌্যের দোসর
আমি কখনও রোদের দিকে তাকাবার সাহস দেখাতে পারিনি। বরং রোদই
আমাকে শিখিয়েছিল কামলীলা। ইষ্টরিভারের গমণদৃশ্য, আর ডুবে যাওয়া
বিকেলের ভস্ম চিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল অচেনা রমণীর কাছে। যে রমণী তার
কনিষ্ঠা দেখিয়ে বলেছিল- এখানেও একটা পাথর ছিল, এখন নেই। তুমি কি
সেই পাথরটি খুঁজে দিতে পারো-পরপুরুষ!
আমি সেদিন থেকেই নিজেকে পরাধীন ভাবি।ভাবি,পরলোকগত দৃশ‌্যের দোসর।
ঢেউয়ের সমান্তরালে যে বিরহপালক উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম, ওরা ফিরে
এসেছিল আমার কাছে। আর বিনয়ের সাথে বলেছিল- আরও কিছুদিন থাকি
তোমার পাশে কবি! তুমি না বিরহকামী হতে চেয়েছিলে !
#


যে কলম দূরে রেখে দিয়েছিলাম

এক বসায় আমি অনেকগুলো চিতা দেখি। চিতাবাঘ,শবদেহের জন্য তৈরি চিতা,
দেখতে দেখতে আমি যে বাগান পার হই- দেখি সেখানেও ঝুলে আছে ক'টি
চৈত্রের আগুন। দেখা পেলে আবার জড়িয়ে ধরবে বলে প্রতিজ্ঞা করেছিল যে
বৈশাখি ঝড়-শুনি তার আগমন ধ্বনিও। কে ডাকে ! কে পুনরায় জানতে
চায় আমার নাম ! এমন ভালোবাসার বিকিরণ দেখে আরও কিছুদিন বেঁচে
থাকতে ইচ্ছে জাগে। লিখতে ইচ্ছে হয় নির্মলা বসু'র পত্রের উত্তর। যে কলম
দূরে রেখে দিয়েছিলাম অভিমান করে, আমিই চাই ওর মান ভাঙাতে। দেখি,
আমাকে কেউ অনুসরণ করছে ! কেউ !এটা কি তবে প্রিয় ঈশ্বরের তাকিয়ে
থাকা বৈষম্যপ্রধান চোখ !

#

শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

দুই পাহাড়ের চিপা >< ইমন শরীফ


ইমন শরীফ
------------------------------------------------------------------------------------------------------
দুই পাহাড়ের-
চিপায় পড়ে আছি,
বল্‌না মোরা-
কেমন করে বাঁচি।

নিত্য কাঁদি-
চোখের জলে ভাসি,
নেয়্না খবর-
কেউ আমাদের আসি।

বসত করি-
লাল সাগরের তীরে,
রক্ত খেকো-
চিল শকুনের ভিড়ে।

নষ্ট >< মিলু কাশেম


মিলু কাশেম
--------------------------------------------------------------------------------------------
ক্ষমতার জন্য
হয়ে যায় বন্য।
লোভে হয় হন্য
জনগন পণ্য।
রাজনীতি নষ্ট
মানুষের কষ্ট।
ইন্দ্রিয় ষষ্ট
হলো পথভ্রষ্ট।
দেশ পড়ে ফান্দে
জনগন কান্দে।


মেঘ বালিকা -৭ >< প্রদ্যোত রায়


প্রদ্যোত রায়  
--------------------------------------------------------------------------------------------------

ভুল গুলো সব ফুল হয়ে আজ উঠল ফুঁটে,
ভুল করেইতো ভুল মেয়েটি-
ভুল বেদীতেই মাথা কুটে।
আমি তাকেই খুঁজেছিলাম,
আমায় সে ও-
সকাল গেল গড়িয়ে দুপুর
শেষ বিকেলেও-
আমরা দুজন
পাইনি খুঁজে-
কেউ কাহারেও।
মেঘবালিকা সাঁঝের বেলায় পেলাম যদি-
আগুন স্রোতের বানের জলে ভাসাও নদী।


সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

পরকীয়া প্রেম ><সুমা জায়গীরদার


সুমা জায়গীরদার
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
প্রেমতো জানি,প্রেম-ই বটে
তার আবার ধরণ কি ?
প্রেমের প্রকার কতো রকম;
সে উত্তরে বলবো কি ?

জীবন যাত্রা,কথায়-কাজে
চাল।ডাল।নুনে আছে রকম ভেদ;
সেই সুত্রে কি প্রেমের মাঝেও
করতে হবে ধরণ ভেদ ?

প্রেমে এখন তিনটি ধরণ
আসল,নকল,বিনাশ ক্রিয়া;
তারপরো সরস যে প্রেম
সেটি হলো পরকীয়া।

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

যাকে হত্যা করি >< শাহ ইয়াছিন বাহাদুর



শাহ ইয়াছিন বাহাদুর
------------------------------------------------------------------------------------------------
যাকে হত্যা করি
তার সংশয়ে ঠুকি মাথা
গাইতির তেরছা ঘায়ে তুলে আনি হাড়গোড়

একে একে মিলিয়ে দেখি পাজল
শিয়ালের জিভচাটা খুলী, হাঁটুর জয়েন্ট আর অস্থিটা
নড়ে ওঠে
মৃত্তিকার ভর বুকে পেতে অবিরাম
বিশৃঙ্খল শুয়ে আছি
কী সাঙ্ঘাতিক, এতকাল পাইনি টের!

অথচ শামুক ছোঁয় না মৃত পরিজন
বাতাসের বিপরীতে গন্ধ শুঁকে শুঁকে হাঁটা দেয়
এছাড়া শকুন, শতবর্ষের গল্প ঠোঁটে
দুর্ভিক্ষের কালে অজস্র লাশ পড়বার মুহূর্তে
সাধের শস্যভূমি মাড়িয়ে আমার গুপ্ত সুরঙ্গে
                                                  ঢুকে পড়ে

এসো ঢেউ
দুর্বৃত্তের কামড়ে ঝলসে দেয়া ঠোঁট ধুয়ে দাও
এসো হাওয়া
কাঁচা ঘর নির্মাণে আমি আর কুড়াই না ঘাস
এসো নক্ষত্র
সারা রাত উপবাসী লাশের সাথে কথা কও
এসো ভোর
নিরুদ্দেশের ঠিকানাটা পুনরায় চেখে দেখি

অগণিত মুখোশের দরজা খেয়ে যাক তাবৎ সন্যাস।






এখন আঁধারের নিশব্দ বিচরণ >< আবদুল্লাহ আনসারী



আবদুল্লাহ আনসারী
____________________________________________________________
একদিন হঠাৎ বইখুলে ভাজ করা কাপড়ের মতো
শুকনো গোলাপের পাপড়িতে নিজের নাম দেখে
চমকে উঠেছিলাম, ড্রয়ারে না পড়া খাম গুলো থেকে
বের করে দেখি কলমের ছোয়াঁ হীন তোমার চিঠি যতো
অবাক হলাম
ব্যাকুল হলাম
পিড়িত হলাম
প্রতিদিন একটি চিঠির শপথ তুমি রেখেছো ঠিক
আমিই কেবল ছুটেছি হন্যে হয়ে দিগ্বিদিক।
তোমার এই সব সরল স্বীকারোক্তি
আমি বৃষ্টির সাথে শুনেছি যখন
অবিরাম বর্ষণে নরম স্যাঁতসেঁতে মাটির দেহ।
মন আর চোখকে শাসণ করে পরাজিত হয়ে
পুকুরটাকে নদী ভেবে ভয় পেয়েছিলাম।
হায়- যখন এলে তখন রোদ ছিল না-
দিগন্ত পেরিয়ে গেছে সবটুকু আলো
এখন আঁধারের অনিঃশেষ নিঃশব্দ বিচরণ
কেউ কি আছে ঘাটে? ঘরে ফেরা পাতি জোড়ার
ডানা থেকে ছড়ানো নোনা জলের গন্ধ ছাড়া!
দেখো আমার জানালাটা বিষন্ন হয়ে আছে
একদিন তুমি আসতে আর আকাশের
পরত ভেঙ্গে আসতো জোৎসনা, হাস্নাহেনাটা
এখনো সুবাস ছড়ায়, মাধবী লতা তেমনি হয়ে আছে
জোনাকির অভয়ারণ্য, তারার সাথে সখ্যতা গড়ে
এগিয়ে চলে শুভ্র মেঘের পাল, চাঁদের আলোটায়
কেবল নিদারুন নিঃসঙ্গতায় জানালা গলে পড়ে।

স্বপ্নবীজ >< পুলিন রায়



স্বপ্নবীজ
---------------------------------------------------------------------------------------------------------
আকাশ থেকে বৃষ্টি নামে
রবীন্দ্র সংগীতের সুরে
এইখানে স্বপ্নবীজ বোনা হয়েছে
কালের ঝণার্ধারায় নেমে আসা স্বপ্নবীজ
হাতের তালুতে আগুন নিয়ে
হেঁটে গেলে ইতিহাসের পরতে পরতে
দেখা মিলে শহিদের রক্তাভ চাহনী।
অনন্ত ভালোবাসায় যে হাত মেখে নিয়েছিলো
হলুদে রঙ
সে হাত হয়ে যাবে থুথ্থুরে?
যে চোখে সাগর সমান তৃঞ্চা
সেখানেই নোঙ্গর ফেলেছে নবীন কিশোর
বজ্রমুষ্টিতে চিত্রল রেখা
ভাতের সানকিতে ক্ষুধার মানচিত্র,
অযুত নিযুত চোখের দৃষ্টিপাত
এইখানে বোনা স্বপ্নবীজের
তরুতে জল দেবেই নবীন কিশোরের দল...

বিশুদ্ধ সংলাপ >< হানিফ মোহাম্মদ



হানিফ মোহাম্মদ
---------------------------------------------------------------------------------------------------
বিশুদ্ধতার সেই মহাপ্রলয় আর কতদূর?
এখনো কি সূর্য উঠে?
গাঙচিল ডানা মেলে সুনীল আকাশে?
এখনো কি জোছনায় ভেজে পূর্ণিমার রাত?
তোমার হাতে মাথা রেখে
ভুলে থাকা বালিশের রাতগুলি
কী নিদারুন শুষ্কতায় উবে গেছে
জেগে আছে পত্রহীন মেহগনির পাল।
এখনো টিফিন ক্যারিয়ার হাতে
কুয়াশা ভেদ করে
হেঁটে চলা মানুষগুলি
গভীর রাতে ঘরে ফেরে
ক্লান্ত বিধ্বস্ত দেহে।
কেন?
কেন গভীর রাতে জেগে উঠে না
ধলুর দোকানে চিকন বাঁশির সুর।
সবকিছু ঘুমিয়ে আছে
সবকিছু ঘুমিয়ে থাকে।
কেন?
ইস্রাফিল সিঙ্গা হাতে ঘুমিয়ে গেছে
ভুলে গেছে ফুৎকারে উড়িয়ে দিতে
পাহাড়-পর্বত, জনপদ।
উড়িয়ে দাও বিষাক্ত সময়
বিষাক্ত নদীর ঢেউ
উড়িয়ে দাও সুন্দরী নারীর
বুকের আঁচল।
বিবসনা হও ধরণী মাতা।
প্রলয় চাই।
চাই মহাপ্রলয়ের সিঙ্গাধ্বণি।
বিশুদ্ধতার তুলাবীজ উড়ে এসে
বোপিত হোক শ্বাশত সময়ের
হৃদয়তন্ত্রীতে।

মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

ওয়াহিদ জালাল এর দু'টি কবিতা


অবিকল তরঙ্গের মত
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
বুঝি কামড় বসিয়েছি জোছনার শরীরে
কেমন যেন মোচড়ানো অনুভব করছি
বিনয়ী রাত্রির নিম্ননাভী মূলে,
বৃক্ষের ছায়া কত নির্বোধ জন্মদাত্রী
মাটির বুকে, গাছের শাখায় ঝুলছি ফুলের ঘ্রাণ ।
উঠোনে ভ্রমণবিলাসী কুমারী পাখির ঝরা
পাখনায় শতাব্দীর অন্তিম বিশ্রাম, তুমি এসে
দিগন্ত বিস্তৃত পথ হাত ধরে এগিয়ে দাও,
যেখানে সুখছাড়া অসুখের দানা বাঁধবার
নিপুণ হাত কোন এক চিৎকারের অপর প্রান্তে ।
বৃক্ষের পাতারা মাটির সিনায় আয়নার মত
মুখ দেখে, মনে পরে প্রিয়তমার কবুতরের আদলে
রাঙা পা রাখা জমিনের কথা, সেই জমিন
সেদিন কেমন নড়েছিল সমুদ্রের জলের ধরণে
আর প্রজাপতিরা নিজেদের লুটিয়েছিলো ইমানী আয়াতে ।
সময়ের আঘাত পেরিয়ে যাবার জন্যে আজ
রোদ অভ্যাসের কপালে চুম্বন করে যাচ্ছে
যেমন করে জীবনের প্রথম প্রেম অনন্তকাল
হৃদয়ের হাড়ে আগুনের মত দক্ষতা বর্ণনা করে,
তখনি মানুষের আয়তন সামাল দেয় নিজের ছায়া ।





দূরত্ব ভেদ করছি প্রতিদিন
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
লাউয়ের মাচায় এখনো যুবতী সূর্য নিজেকে ভিজায়
তীব্র জলের উচ্ছাসের মতো বেয়ে নামছে গোধূলির কেশ,
আজ বুঝি তোমার ঘাটে যাবার তাড়া নেই ?
মাঠের রাখাল তার মাঠ ভুলে ফিরছে ঘরের দিকে
শূন্য নদীর চোখে আমার মতো একান্তে কতো অপেক্ষা ।
স্নিগ্ধ সন্তানের মুখের মতো বাতাস চুম্বন রাখছে
আধাপাকা ধানের শিষে, ধানের গাছ অনুভব করছে
মাটির বুকে আজ ভাঙা পালকির দোলা, চাঁদের
কোন সৌন্দর্য নয় তুমি চাঁদ ভেসে আছো জনমের জলে,
চেয়ে দেখো কুয়াশার কামড় প্রকৃতির বুকে কতো উন্নত ।
শুকিয়ে যাচ্ছে পুকুরের জল, শুকনো পাতাদের উন্মুক্ত
ঘরে বাতাসের মুগ্ধকরা জলসা বসেছে, কতো
দুঃখিনী ফুল ঝোপে ঝাড়ে নিজেকে ফুটিয়েছে আজ
কামনার বুক ভরা রমনীর মতো, দু’হাত বুকের গভীরে
টানে পারিপার্শ্ব, মানুষের কোলাহল, ব্যর্থতার দীর্ঘশ্বাস ।
মনের কামিজ খুলে স্মৃতির বেসামাল ত্রিভূজ হাত,
যেন এক হেমন্তের বিকেলে নীরবে পরে থাকা
দুইটি মানুষের ছয়টি ছায়ার স্বভাবে শারীরিক
চাপে প্রজাপতির জিভের কাছে প্রেমিকা ভাসমান,
কৃষকের মাটির আলমারীতে লুকিয়ে রাখা অনন্তকাল ।

বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

আমি এক রমণীর কথা বলছি >< এ কে শেরাম


এ কে শেরাম
-------------------------------------------------------------------------------------
আমি এমন এক রমণীর কথা বলতে চাই,
যার সমস্ত শরীর জুড়ে অপরূপ লাবণ্য ঝরে
সৌন্দর্যের সমস্ত উপমা যার পায়ে এসে লুটিয়ে পড়ে;
চোখে-মুখে তার মোহিনী মায়া - অনিবার্য আকর্ষণ
যারই টানে উদভ্রান্তের মতো ছুটে আসে জীবন,
অন্ধ প্রেমিকের মতো ঝাঁপ দেয় উদ্ধত রূপের সে প্রজ্জ্বলিত শিখায়।
একবার যে'ই তার সান্নিধ্যে যায়
জড়িয়ে ফেলে নিজেকে তার মোহন মায়ায়,
সে'ই তার অন্ধ স্তাবক হয়ে যায়
বুঁদ হয়ে থাকে তার পেলব পরশ আর রূপের নেশায়।
অন্ধ প্রেমিকের মতো
সে তখন তাকে একান্ত নিজের করে রাখতে চায় সব লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সয়ে,
আর কখনো দূরে সরে গেলে ফিরে পেতে চায় যে কোনো কিছুর বিনিময়ে।
আসলে, মায়াবিনী সে - মোহিনী রমণী;
তাকে কাছে পেতে,
রক্ষিতার মতো একান্ত নিজের করে রাখতে
সব কিছু করে তার অন্ধ প্রেমিকেরা
তছনছ করে দিতে পারে যা আছে চারপাশে
ধ্বংস করে দিতে পারে সব সম্মুখে বাধা হয়ে যা'ই আসে,
তাতে যদি দগ্ধ হয় শিশু-বৃদ্ধ-নারী, নিরীহ মানুষ মরে,
কিছুই যায়-আসে না তাদের
তবু তাকে কাছে পেতে হবে, ধরে রাখতে হবে একান্ত নিজের করে।
হায় মায়াবিনী নারী, মোহিনী রমণী! ক্ষমতা যার নাম,
তোমারই জন্যে আজ অসহায় আমরা দিয়ে চলি জীবনের দাম।

২৪ জানুয়ারি ২০১৫

এখন প্রত্যহ প্রেম >< মোসলেহ উদ্দিন বাবুল



মোসলেহ উদ্দিন বাবুল 
------------------------------------------------------------------------------------------
বুকের ভিতরে তুমি খঞ্জর হাতে বসে পড়ো যখন তখন,
এ বুকে সাজিয়ে রাখা থরে থরে
নিরোগ ধমনীগুলো
ছিড়ে-খুঁড়ে একাকার করো...
বিকেলের পড়ন্ত রোদে স্বেদ জমা ঘর্মাক্ত কপোলে
পরিশ্রমী-মায়াবতী কোমল বালিকা.
নিজেই খঞ্জরে কেটে
মলম লাগাও...
কা-সন্ধ্যার হালকা হাওয়ায়
থির থির করে ওড়া চূ্র্ণ-কূন্তল
কপোলের স্বেদ-বিন্দু ছুঁয়ে
লেপটে যায় বাতাসে বাতাসে...
তখনো মূগ্ধতা এসে ছোঁয়না আমাকে ...
বোতামের ঘাট ছিঁড়ে আমাকে নগ্ন করে
আবার জড়িয়ে দিলে
সবুজ বসন...
তখনো মূগ্ধতা এসে ছোঁয়না আমাকে ...
করতলে বিষ রেখে একফোটা অমৃত মিশালে
অবচেতনে
আমাকে প্রাসাদ দেবে,
এই নৈবদ্ব আমাকে ভুলিয়ে দিল
পৃথিবীর যাবতীয় মহার্ঘ সম্পদ ...
সেই প্রাসাদ কামনা করে নীলকন্ঠ হই
খঞ্জরের তীক্ষ্ণফলায় জেগে যায়
বাইশের যৌবন,
এখন প্রত্যহ প্রেম -
বুকের ভিতর তুমি খঞ্জর হাতে বসে পড়ো ষখন তখন।
UA-53225896-1