অবিকল তরঙ্গের মত
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
বুঝি কামড় বসিয়েছি জোছনার শরীরে
কেমন যেন মোচড়ানো অনুভব করছি
বিনয়ী রাত্রির নিম্ননাভী মূলে,
বৃক্ষের ছায়া কত নির্বোধ জন্মদাত্রী
মাটির বুকে, গাছের শাখায় ঝুলছি ফুলের ঘ্রাণ ।
উঠোনে ভ্রমণবিলাসী কুমারী পাখির ঝরা
পাখনায় শতাব্দীর অন্তিম বিশ্রাম, তুমি এসে
দিগন্ত বিস্তৃত পথ হাত ধরে এগিয়ে দাও,
যেখানে সুখছাড়া অসুখের দানা বাঁধবার
নিপুণ হাত কোন এক চিৎকারের অপর প্রান্তে ।
বৃক্ষের পাতারা মাটির সিনায় আয়নার মত
মুখ দেখে, মনে পরে প্রিয়তমার কবুতরের আদলে
রাঙা পা রাখা জমিনের কথা, সেই জমিন
সেদিন কেমন নড়েছিল সমুদ্রের জলের ধরণে
আর প্রজাপতিরা নিজেদের লুটিয়েছিলো ইমানী আয়াতে ।
সময়ের আঘাত পেরিয়ে যাবার জন্যে আজ
রোদ অভ্যাসের কপালে চুম্বন করে যাচ্ছে
যেমন করে জীবনের প্রথম প্রেম অনন্তকাল
হৃদয়ের হাড়ে আগুনের মত দক্ষতা বর্ণনা করে,
তখনি মানুষের আয়তন সামাল দেয় নিজের ছায়া ।
দূরত্ব ভেদ করছি প্রতিদিন
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
লাউয়ের মাচায় এখনো যুবতী সূর্য নিজেকে ভিজায়
তীব্র জলের উচ্ছাসের মতো বেয়ে নামছে গোধূলির কেশ,
আজ বুঝি তোমার ঘাটে যাবার তাড়া নেই ?
মাঠের রাখাল তার মাঠ ভুলে ফিরছে ঘরের দিকে
শূন্য নদীর চোখে আমার মতো একান্তে কতো অপেক্ষা ।
স্নিগ্ধ সন্তানের মুখের মতো বাতাস চুম্বন রাখছে
আধাপাকা ধানের শিষে, ধানের গাছ অনুভব করছে
মাটির বুকে আজ ভাঙা পালকির দোলা, চাঁদের
কোন সৌন্দর্য নয় তুমি চাঁদ ভেসে আছো জনমের জলে,
চেয়ে দেখো কুয়াশার কামড় প্রকৃতির বুকে কতো উন্নত ।
শুকিয়ে যাচ্ছে পুকুরের জল, শুকনো পাতাদের উন্মুক্ত
ঘরে বাতাসের মুগ্ধকরা জলসা বসেছে, কতো
দুঃখিনী ফুল ঝোপে ঝাড়ে নিজেকে ফুটিয়েছে আজ
কামনার বুক ভরা রমনীর মতো, দু’হাত বুকের গভীরে
টানে পারিপার্শ্ব, মানুষের কোলাহল, ব্যর্থতার দীর্ঘশ্বাস ।
মনের কামিজ খুলে স্মৃতির বেসামাল ত্রিভূজ হাত,
যেন এক হেমন্তের বিকেলে নীরবে পরে থাকা
দুইটি মানুষের ছয়টি ছায়ার স্বভাবে শারীরিক
চাপে প্রজাপতির জিভের কাছে প্রেমিকা ভাসমান,
কৃষকের মাটির আলমারীতে লুকিয়ে রাখা অনন্তকাল ।