হোসনে আরা হেনা
---------------------
দে না মা বাক্স-পেটরাগুলি বেঁধে সম্বল যা আছে
সঞ্চয়ে সবকিছু গোছগাছ করে সাজিয়ে দে আমায়
এই ঘর ছেড়ে এক্ষুণি পালাবো আমি!
রইলো পড়ে তোর এই বিরান শস্যের মাঠ, বিবর্ণ ফুলকলি,
ঝর্ণার মরাস্রোত ধারা, অথই নদীর ভাঙ্গনের কাছ থেকে
এখনি পালাবো আমি
থাক পড়ে তোর পোড়োবাড়ির মত শ্যাওলা জমে থাকা
কীর্তি স্তম্ভ! আর ভুলেও রাখবো না হাত তোর রক্তে লেখা ইতিহাসের
সুবর্ণ পাতায়
এই হাতে আর আগের কোমলতা মাখা নেই জানিস, কলঙ্কের
কালি তুই তো দিয়েছিস মেখে! মানুষের খুনে রঞ্জিত আজ এই হাত খানি
এই চোখে আজ মমতার ফল্গুধারা নেই জানিস, তুইই দিয়েছিস
সেখানে জ্বেলে হিংসার দাউ দাউ অনল!
এই নিঃশ্বাসে শোনা যায় আজ শুধু গোখরার হিস্হিস্ ধ্বনি!
তুইই দিয়েছিস মনুষ্যত্বের গায়ে পরিয়ে আমাকে অপমানের
এই অমানবিক লেবাস!
মাথা তুলে তুই বাঁচতে দিসনি আমাকে স্বাধীন একটি দেশে
মৌলিক অধিকারগুলো নিয়ে।
তুইই করেছিস পীড়িত তাকে রুগ্ন অস্থির বেপরোয়া
দিসনি তুলে মুখে স্বস্তির এক শিশি ওষুধের ফোঁটা।
যে সন্তানকে কিছুই দিসনি তুই সে তোকে আর কীভাবে পরাবে
সোনার অলংকার?
তোর মুখে কীভাবে সে বিষের বদলে তুলে দেবে স্হিত হয়ার
অমৃত সুধা?
অমানুষ ভীরু সন্তানের সব ব্যর্থতাকে তো জননীকেই বইতে হয় জানি!
কলঙ্কিত মা আমার, কেন জন্মালাম তবে তোর এই নিরাশ্রয় ক্রোড়ে
কেন তোর গর্ভাশয়ে নরম ভ্রূণকে বড় হতে দিলি?
কেন অন্ধকার জঠর থেকে টেনে আনলি তাকে একটি সূর্য্যের
অমল আলোয় মানুষের মুখাবয়বে?
তারপর বিমাতার মত লালন করলি তাকে অনাদরে অবহেলায়।
যার গায়ে আপন মহিমার কোন চিহ্নই নেই যেন!
নেপোলিয়ন যে মায়ের কথা বলে গেছেন তুই কখনো একজন
ভালো মা হতে পারিস নি
ভালোর কোন গুণাবলীই আজ নেই অবশিষ্ট তোর এই ঘূণে ধরা
শীর্ণ শরীরে।
নিজগৃহে যখন পরবাসী আমি তবে অন্যের ঘরেই না হয়
হই অভিবাসী
এই আত্মপীড়ন এরচেয়ে অনেক বেশী সহনীয়!
তাই বেঁধে দে বাক্স-পেটরাগুলো আমার, এই দুঃসহ
ঘর থেকে আমি এক্ষুণি পালাই!
.
---------------------
দে না মা বাক্স-পেটরাগুলি বেঁধে সম্বল যা আছে
সঞ্চয়ে সবকিছু গোছগাছ করে সাজিয়ে দে আমায়
এই ঘর ছেড়ে এক্ষুণি পালাবো আমি!
রইলো পড়ে তোর এই বিরান শস্যের মাঠ, বিবর্ণ ফুলকলি,
ঝর্ণার মরাস্রোত ধারা, অথই নদীর ভাঙ্গনের কাছ থেকে
এখনি পালাবো আমি
থাক পড়ে তোর পোড়োবাড়ির মত শ্যাওলা জমে থাকা
কীর্তি স্তম্ভ! আর ভুলেও রাখবো না হাত তোর রক্তে লেখা ইতিহাসের
সুবর্ণ পাতায়
এই হাতে আর আগের কোমলতা মাখা নেই জানিস, কলঙ্কের
কালি তুই তো দিয়েছিস মেখে! মানুষের খুনে রঞ্জিত আজ এই হাত খানি
এই চোখে আজ মমতার ফল্গুধারা নেই জানিস, তুইই দিয়েছিস
সেখানে জ্বেলে হিংসার দাউ দাউ অনল!
এই নিঃশ্বাসে শোনা যায় আজ শুধু গোখরার হিস্হিস্ ধ্বনি!
তুইই দিয়েছিস মনুষ্যত্বের গায়ে পরিয়ে আমাকে অপমানের
এই অমানবিক লেবাস!
মাথা তুলে তুই বাঁচতে দিসনি আমাকে স্বাধীন একটি দেশে
মৌলিক অধিকারগুলো নিয়ে।
তুইই করেছিস পীড়িত তাকে রুগ্ন অস্থির বেপরোয়া
দিসনি তুলে মুখে স্বস্তির এক শিশি ওষুধের ফোঁটা।
যে সন্তানকে কিছুই দিসনি তুই সে তোকে আর কীভাবে পরাবে
সোনার অলংকার?
তোর মুখে কীভাবে সে বিষের বদলে তুলে দেবে স্হিত হয়ার
অমৃত সুধা?
অমানুষ ভীরু সন্তানের সব ব্যর্থতাকে তো জননীকেই বইতে হয় জানি!
কলঙ্কিত মা আমার, কেন জন্মালাম তবে তোর এই নিরাশ্রয় ক্রোড়ে
কেন তোর গর্ভাশয়ে নরম ভ্রূণকে বড় হতে দিলি?
কেন অন্ধকার জঠর থেকে টেনে আনলি তাকে একটি সূর্য্যের
অমল আলোয় মানুষের মুখাবয়বে?
তারপর বিমাতার মত লালন করলি তাকে অনাদরে অবহেলায়।
যার গায়ে আপন মহিমার কোন চিহ্নই নেই যেন!
নেপোলিয়ন যে মায়ের কথা বলে গেছেন তুই কখনো একজন
ভালো মা হতে পারিস নি
ভালোর কোন গুণাবলীই আজ নেই অবশিষ্ট তোর এই ঘূণে ধরা
শীর্ণ শরীরে।
নিজগৃহে যখন পরবাসী আমি তবে অন্যের ঘরেই না হয়
হই অভিবাসী
এই আত্মপীড়ন এরচেয়ে অনেক বেশী সহনীয়!
তাই বেঁধে দে বাক্স-পেটরাগুলো আমার, এই দুঃসহ
ঘর থেকে আমি এক্ষুণি পালাই!
.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷