মোসলেহ
উদ্দিন বাবুল
========================================================================
সময়টা সম্ভবত:
১৯৯৭ । ১৯৯৮ ও হতে পারে ! ‘শেকড়ের সন্ধানে’ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, প্রকাশনা সংস্থার
চেয়ারম্যান, বিশিষ্ঠ সাংস্কৃতিক তরুন ব্যক্তিত্ব মাসুম রহমান আকাশ আমাকে বললো, ‘দাদা,কবি দিলওয়ার কে সম্বর্ধনা দেবো ! আপনিও এটেন্ড করতে হবে !’ আমি চমৎকৃত হলাম
! সেই ক্লাশ টেনে পড়ার সময়ই আমি কবি দিলওয়ার কে নিয়ে ছড়া লিখেছিলাম,সুদুর বরিশালের
সাগর মেখলা দ্বীপ ভোলার প্রত্যন্ত পল্লী থেকে ! সম্ভবত চৌধুরী আলী আশরাফের সম্পাদিত
একটা ম্যাগাজিনে ছাঁপা হয়েছিল সেটা ! সৈয়দ নাহাস পাশার সাথে মিতালীর সূত্রপাত সেখানেই
। আমার স্বপ্ন-পুরুষ, ছড়া,কবিতা,গদ্যে একমাত্র জীবন্ত কিংবদন্তী ‘দিলওয়ার’ ! তাকে মুখোমুখি
দেখবো, তার পাশে বসে কথা শুনতে পাবো, শিহরিত হলাম ! আমার সম্মতি-অসম্মতির প্রশ্নটাই
অবান্তর ! হোটেল অনুরাগের দোতলায় ছিলো অনুষ্ঠান ! মাসুম রহমান আকাশ এর সাথে কিছু টগবগে
সম্ভাবনাময় তরুন সাহিত্য কর্মী ছিলেন অনুষ্ঠানে ! শামসাদ হুসাম,(লেখক,সাংবাদিক,নারী
উন্নয়ন কর্মী) আমাদের শামসাদ আপার সাথে আমিও দিলওয়ার এর পাশে বসতে পারছি ! অত্যন্ত
আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম ! আমার দ্বিতীয় প্রকাশিত বই ! ‘অর্জুন,ফিরে এসো’র কপি শামসাদ
আপার হাতে ! গল্পটা যুগভেরী,র সাপ্তাহিক পাতায় প্রথম ছাঁপা হয়েছিল আপা’র মনোনয়নেই
(তিনি তখন যুগভেরীতে কাজ করতেন)! অনুষ্ঠান শুরু হবার পরে ফুলের তোড়া দেয়া হলো আমাদের
তিনজনকে ! আজ ভাবতে গেলে আমি সংকুচিত হয়ে যাই, কিভাবে কবি দিলওয়ার এর পাশাপাশি বসে
সম্বর্ধনা নিলাম ! আমিতো শামসাদ হুসাম এর পাশে বসে সম্বর্ধিত হবার যোগ্যতাও অর্জন করতে
পারিনি, অথচ আশ্চর্য! কবি’র মধ্যে এমন কোন প্রতিক্রিয়াই কাজ করেনি ! আমি ‘তাঁর’ হাতে
আমার বই দিলাম ! তিনি একান্ত আপনজন,বহুদিনের পরিচিত স্নেহাস্পদের মতো আচরন করলেন আমার
সাথে ! অর্জুনের জন্মান্তরে ‘বৃহন্নলা’র গল্প শোনালেন মৃদুস্বরে ! পাশাপাশি বসে, বন্ধুর
মতো ! অনেক কথা । যা আমার জানা ছিলনা আগে !আমি ভাবতেই পারছিনা আমার অবাক লাগেনি কেন
! কোন মন্ত্রে সুরক্ষিত ছিলেন তিনি ! মহীরুহ হয়েও সামান্য তৃণকে সম মর্যাদায় তুলে নিতে
পেরেছেন ! অন্তত: ঐ সময়ের জন্য! এরপর স্বর্গের ভগবান মর্তের অবতার কৃষ্ণ হয়ে গেলেন ! আমরা তো সুবল - সুদাম
! ভগবান তখন আমাদের সখা ! কবি আবিদ ফয়সাল, কমল আনসারী, মোহসীন মাহমুদ, মতিউল ইসলাম
মতিন সহ সম্ভাবনাময় তারুণ্যের ভীড়ে প্রিয় কবিকে একটুও আলাদা মনে হয়নি আমার ! এটা আমার
জন্য একটা বড় অভিজ্ঞতা, শিক্ষা, এবং মিরাকল যে ঐ অনুষ্ঠান, ঐ সময় এবং ঐ স্মৃতি আমার
জীবনে এসেছিল ! কিশোর বেলায় যার কবিতা-ছড়া পড়ে তাকে মনে হতো দেবদুত; যাকে স্পর্শ করা
যায় না, চোখের মণিতে পুরোটা বোধহয় ধারণ করাও যাবে না, তাকে প্রথম দেখায় ই আমি কিভাব
তাঁর আত্মস্থ হয়ে গেলাম ! মানুষের এমন সম্মোহনী ক্ষমতা কি থাকে ! এখন,
আবার
তিনি দেবদুত হয়ে গেলেন ! দৃশ্যাতিত, স্পর্শাতিত, শ্রদ্ধার, ভালোবাসার সেই দেবদুত !
এখন ভাবী, আসলে কি আমি তাকে দু’চোখের মণিতে ভরিয়ে নিয়েছিলাম ! আমি কি তার হাতে
বই তুলে দিয়ে স্পর্শ করতে পেরেছিলাম তার পদযুগল ! তিনি কি সত্যিই আমার পিঠে-কাঁধে ছুঁইয়েছিলেন
তার সুনীল করতল! আমার বিশ্বাস করতে সাহস হয়না ! আমার স্বপ্নের ছবি বোধহয় এটা ! আমি
তো এতোটা পাবার যোগ্য না ! সম্ভবত; এই সময়ের কোন লেখকই না !

কবি দিলওয়ার এবং আমার কিছু স্বপ্নকথা ভালোবাসার প্রকাশ ! কবি এভাবেই স্মৃতিতে চীর আসীন হয়ে থাকবেন।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ বাবুল ভাই কবি দিলওয়ার কে নিয়ে স্মৃতি কথা উপহার দেবার জন্য।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ জাগরন বাংলা, ধন্যবাদ ফারুক আলমগীর ভাই ।
উত্তরমুছুনকবি দিলওয়ার কে নিয়ে স্মৃতি কথা এখানে উপস্থাপন করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ভাইয়া। তাঁর সমকক্ষ আর কেঊ কি হতে পারবেন ?
উত্তরমুছুনকবি দিলওয়ার এর অভাব অপুরণীয়। অনেক ধন্যবাদ স্মৃতি কথা উপস্থাপন করার জন্য।
উত্তরমুছুনকবি দিলওয়ার আমার স্মৃতিতেও অমলিন। ধন্যবাদ বাবুল ভাই।
উত্তরমুছুনকবি দিলওয়ারকে নিয়ে আপনার আবেগাপ্লুত স্মৃতি কথাটি পড়ে আমারও মনে পড়ে গেলো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে আমাদের প্রিয় দিলু ভাইকে ঘিরে অনেক স্মৃতি কথা।
উত্তরমুছুন