ফকির ইলিয়াস এর তিনটি কবিতা
চোখগুলো যখন আর আমার সাথে থাকে
না
ফড়িঙের পাখাবদলদৃশ্য দেখার সময় হয়ে উঠে না আমার। চলে যায়
বসন্ত,
বাসন্তী রঙের আভা রেখে বিদায় নেয় চৈত্র। খরার কথা মনে রেখে সাজিয়ে
রেখেছিলাম যে ছাতা,সে-ও ছায়া প্রদান থেকে বিরত থাকবে বলে ডাকে
ধর্মঘট। আর নগরে যারা ধার্মিক ছিল- তারা আমার পাপের বোঝা দেখে
ঘৃণায় ফিরিয়ে নেয় মুখ। পাপীদের প্রকৃত কোনো পথ থাকে না। তাই অন্ধ
হরিণের মতো উঁকি দিতে গিয়ে দেখি, চোখগুলো আমার সাথে নেই। ভাবি,
এই চোখ দুটি কী আমার ছিল কোনোকালে ! যদি আমারই হতো- তাহলে
এতো সত্য আমি কেন দেখতে পেলাম না!কেন আঁকতে পারলাম না কালিক
প্রস্থানপ্রবাহ রেখা।
বাসন্তী রঙের আভা রেখে বিদায় নেয় চৈত্র। খরার কথা মনে রেখে সাজিয়ে
রেখেছিলাম যে ছাতা,সে-ও ছায়া প্রদান থেকে বিরত থাকবে বলে ডাকে
ধর্মঘট। আর নগরে যারা ধার্মিক ছিল- তারা আমার পাপের বোঝা দেখে
ঘৃণায় ফিরিয়ে নেয় মুখ। পাপীদের প্রকৃত কোনো পথ থাকে না। তাই অন্ধ
হরিণের মতো উঁকি দিতে গিয়ে দেখি, চোখগুলো আমার সাথে নেই। ভাবি,
এই চোখ দুটি কী আমার ছিল কোনোকালে ! যদি আমারই হতো- তাহলে
এতো সত্য আমি কেন দেখতে পেলাম না!কেন আঁকতে পারলাম না কালিক
প্রস্থানপ্রবাহ রেখা।
#
পরলোকগত দৃশ্যের দোসর
আমি কখনও রোদের দিকে তাকাবার সাহস দেখাতে পারিনি। বরং
রোদই
আমাকে শিখিয়েছিল কামলীলা। ইষ্টরিভারের গমণদৃশ্য, আর ডুবে যাওয়া
বিকেলের ভস্ম চিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল অচেনা রমণীর কাছে। যে রমণী তার
কনিষ্ঠা দেখিয়ে বলেছিল- এখানেও একটা পাথর ছিল, এখন নেই। তুমি কি
সেই পাথরটি খুঁজে দিতে পারো-পরপুরুষ!
আমি সেদিন থেকেই নিজেকে পরাধীন ভাবি।ভাবি,পরলোকগত দৃশ্যের দোসর।
ঢেউয়ের সমান্তরালে যে বিরহপালক উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম, ওরা ফিরে
এসেছিল আমার কাছে। আর বিনয়ের সাথে বলেছিল- আরও কিছুদিন থাকি
তোমার পাশে কবি! তুমি না বিরহকামী হতে চেয়েছিলে !
আমাকে শিখিয়েছিল কামলীলা। ইষ্টরিভারের গমণদৃশ্য, আর ডুবে যাওয়া
বিকেলের ভস্ম চিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল অচেনা রমণীর কাছে। যে রমণী তার
কনিষ্ঠা দেখিয়ে বলেছিল- এখানেও একটা পাথর ছিল, এখন নেই। তুমি কি
সেই পাথরটি খুঁজে দিতে পারো-পরপুরুষ!
আমি সেদিন থেকেই নিজেকে পরাধীন ভাবি।ভাবি,পরলোকগত দৃশ্যের দোসর।
ঢেউয়ের সমান্তরালে যে বিরহপালক উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম, ওরা ফিরে
এসেছিল আমার কাছে। আর বিনয়ের সাথে বলেছিল- আরও কিছুদিন থাকি
তোমার পাশে কবি! তুমি না বিরহকামী হতে চেয়েছিলে !
#
যে কলম দূরে রেখে
দিয়েছিলাম
এক বসায় আমি অনেকগুলো চিতা দেখি। চিতাবাঘ,শবদেহের জন্য তৈরি
চিতা,
দেখতে দেখতে আমি যে বাগান পার হই- দেখি সেখানেও ঝুলে আছে ক'টি
চৈত্রের আগুন। দেখা পেলে আবার জড়িয়ে ধরবে বলে প্রতিজ্ঞা করেছিল যে
বৈশাখি ঝড়-শুনি তার আগমন ধ্বনিও। কে ডাকে ! কে পুনরায় জানতে
চায় আমার নাম ! এমন ভালোবাসার বিকিরণ দেখে আরও কিছুদিন বেঁচে
থাকতে ইচ্ছে জাগে। লিখতে ইচ্ছে হয় নির্মলা বসু'র পত্রের উত্তর। যে কলম
দূরে রেখে দিয়েছিলাম অভিমান করে, আমিই চাই ওর মান ভাঙাতে। দেখি,
আমাকে কেউ অনুসরণ করছে ! কেউ !এটা কি তবে প্রিয় ঈশ্বরের তাকিয়ে
থাকা বৈষম্যপ্রধান চোখ !
দেখতে দেখতে আমি যে বাগান পার হই- দেখি সেখানেও ঝুলে আছে ক'টি
চৈত্রের আগুন। দেখা পেলে আবার জড়িয়ে ধরবে বলে প্রতিজ্ঞা করেছিল যে
বৈশাখি ঝড়-শুনি তার আগমন ধ্বনিও। কে ডাকে ! কে পুনরায় জানতে
চায় আমার নাম ! এমন ভালোবাসার বিকিরণ দেখে আরও কিছুদিন বেঁচে
থাকতে ইচ্ছে জাগে। লিখতে ইচ্ছে হয় নির্মলা বসু'র পত্রের উত্তর। যে কলম
দূরে রেখে দিয়েছিলাম অভিমান করে, আমিই চাই ওর মান ভাঙাতে। দেখি,
আমাকে কেউ অনুসরণ করছে ! কেউ !এটা কি তবে প্রিয় ঈশ্বরের তাকিয়ে
থাকা বৈষম্যপ্রধান চোখ !
#

কবিতা তিনটি পড়ে ভাষালুব্ধ হয়ে, কিছুবলার ভাষা হারালাম!
উত্তরমুছুনঅত্যন্ত ভাল লাগার পরম মুগ্ধতা রেখে গেলাম।
অসাধারণ কবিতা গুলো ! মুগ্ধ হলাম !
উত্তরমুছুন